৯৪ বছরের বৃদ্ধার আকুতি ‘আর কত বয়সে বয়স্ক ভাতা পাবো?’

আপডেট : ২৬ মে ২০২২, ১৬:০৫

মোসাম্মদ রোফেজা বেগম। ৯৪ বছর বয়সী বৃদ্ধা। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের কাজিরচর গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী মৃত ওসমান আলী ভূঁইয়া। রোফেজা বেগম ৮ সন্তানের জননী। বর্তমানে চার ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছেন। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রোফেজা বেগমের স্বামী ওসমান আলী ভূঁইয়া প্রায় ৩৩ বছর আগে মারা যান। শতবর্ষের জীবন সঙ্গী স্বামীকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে গেছেন। বাড়িতে কেউ প্রবেশ করলে তাদের দিকে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন। বয়সের ভারে মাঝেমধ্যে লাঠির ওপর ভর করে হাঁটাচলা করেন। সোজা হয়ে হাটঁতেও পারেন না তিনি। এখন চোখেও ভালো দেখতে পান না। হাঁটাচলার জন্য লাঠিই একমাত্র ভরসা। 

রোফেজা বেগমের বড় ছেলে আ. আজিজ ভূঁইয়া (৭২) বলেন, ‘আমরা চার ভাই মিলে মাকে দেখাভাল করি। আমি তিন বছর আগে দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেরাজুল হক মেরাজের অফিসে গিয়ে বার বার মায়ের জন্য একটি বয়স্ক অথবা বিধবা ভাতা কার্ড করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। আজও করে দেয়নি। আমার মায়ের প্রশ্ন আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা মিলবে।

দুলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. লেয়াকত আলী পাঠান বলেন, ‘মোসাম্মদ রোফেজা বেগমের বয়সের চেয়ে অনেক কম বয়সী নারী, পুরুষ বয়স্ক বা বিধবা ভাতার  সুবিধা ভোগ করছেন। কিন্তু রোফেজা বেগমের এত বয়স হওয়ার পরেও তিনি কোনো ভাতা পান না, এটা দুঃখজনক।’

দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মামুনুল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি অবগত নই। আমাকে কেউ বলেও নাই। বিষয়টি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা করে দেবো।’

দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাফুজুল হক মোল্লা বলেন, ‘আপাতত বয়স্ক ও বিধবা ভাতা কার্ড বন্ধ আছে। চালু হলে দ্রুত ব্যবস্থা করে দেবো।’

শিবপুর উপজেলা সমজসেবা অফিসার মামুদুর রহমান বলেন, ‘গত বাজেটের বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে। নতুন বাজেটের বরাদ্দ আসলেই পাবেন। আর আমার অফিসে রোফেজা বেগমের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও এক কপি ছবি দেবেন। যদি কেউ মারা যান। সে ব্যক্তির কার্ডটি তার নামে দ্রুত হস্থান্তর করে দেবো।’

ইত্তেফাক/এএইচ