প্রবাসীদের হয়রানি

আপডেট : ২৮ মে ২০২২, ০৫:৩৪

কোনো প্রবাসী ভাই চায় না, অবৈধভাবে কর্মরত থাকতে। সবাই চায় বৈধতা। কিন্তু পারে না। কেন পারে না? বাংলাদেশ থেকে প্রবাসে আসতে খরচটা খুব বেশি হয়ে যায়। তাও আবার কোম্পানিতে বেতন কম। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেই দেশে চলে যেতে হয়। নয়তো কম বেতনে কাজ করে যেতে হবে বছরের পর বছর। হতে হবে কোম্পানির গোলাম। তারা যা বলবে তাই করতে হবে। ডিউটি বেশি করিয়েও, ন্যায্য পাওনা দেয় না। বেতনও দেয় দেরি করে। সবদিক চিন্তা করেই বৈধ প্রবাসী ভাইয়েরা অবৈধ হয়ে যায়। তবু কি তারা শান্তিতে থাকতে পারে?

নাহ, শান্তিতে থাকতে পারে না। তাদের অশান্তির শেষ নেই। অবৈধ কর্মরত কর্মীদের কিছু কিছু কোম্পানি বেতনও মেরে দেয়। শুধু কোম্পানি নয়, কিছু বাংলা কন্টাক্টরও। শুধু কি তাই! মাঝে মাঝে পুলিশের হামলার ভয়ে কতটা হয়রানির শিকার হতে হয় তা বলার মতো না! আমি মালদ্বীপের কথা বলছি—প্রতি বছরই অবৈধ প্রবাসী ভাইদের একবার না একবার হয়রানির শিকার হতে হয়। 

এখন ঘোষণা এলো—অবৈধ কর্মীদের বৈধ হতে হবে ৩ মাসের মধ্যে। জাতীয় পত্রিকাসহ কোনো সরকারি টিভি-চ্যানেলেও কোনো খবর নেই। হঠাৎ বাংলাদেশ হাইকমিশন মালে, মালদ্বীপ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হয়রানি। এখন তো অবৈধ প্রবাসী ভাইদের চোখে ঘুম নেই। কারো পাসপোর্ট নেই। কারো পাসপোর্ট আছে, ভালো কোম্পানি পাচ্ছে না। কেউ বহু দূরে কর্মরত আছে, দৌড়াদৌড়ি করাও সম্ভব নয়। মূল ঘোষণাটা হলো—যে, যে কোম্পানিতে কাজ করে সে, সেই কোম্পানির মালিককে ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রিতে আবেদন করে অবৈধ কর্মীদের বৈধ করতে হবে। নয়তো নেওয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। 

আরে ভাই, আমাদের মতো অবৈধ কর্মীর কি কোনো কোম্পানির মালিক আছে? মালিককে চিনি? ঠিকমতো অফিসও চিনি না। আমার মতো এমন অনেকেই আছে। আমরা তো কোনো বাংলা কন্টাক্টরের মাধ্যমে কাজ করছি। সে পারলে ভিসা ঠিক করার কথা বলে টাকা খেয়ে বসে থাকবে। একজনের কাছে শুনতে পেলাম, ভিসা ঠিক না করলে জেল খেটে জরিমানা দিয়ে নিজের টাকা দিয়ে টিকেট কেটে দেশে যেতে হবে। তাহলে আমরা ভিসা ঠিক করার জন্য ভালো কোম্পানি বা মালিক না পেয়ে দুষ্টু লোকের মিষ্টি কথায় তার কাছে টাকা দিয়ে কোটা কিনে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধরা খাব! এই অল্প সময়ে বা এত টাকা পাব কোথায়? কিছু কিছু কোম্পানি আছে—পাসপোর্ট থাকলেই ভিসা ঠিক করে দেবে। একটি কোম্পানির কথা শুনলাম, ডিউটি ১০ ঘণ্টা, ওভারটাইম ১২ টাকা ঘণ্টা। বেতন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ২ বছর পরপর ছুটি। জানি না, এমন কোম্পানি আর কত আছে? তবে এজেন্সির মাধ্যমে কোটা কেনা যায়। 

প্রতি মাসে বা বছরে সরকারকে ট্যাক্স দিতে হবে। এই কোটার কি গ্যারান্টি আছে? দেশে ছুটিতে গেলে আর আসা যায় না। কারণ কিছু লোভী এজেন্সি আছে ভিসা ক্যানসেল করে দেয়। একই ব্যক্তির কোটা আরো কয়েকজনের কাছে বিক্রি করা হয়। তাহলে আমরা যাব কোথায়? এই তো কয়েক বছর আগে আইডি কার্ড করে দেওয়ার নামে অবৈধ প্রবাসী ভাইদের হয়রানি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কিছুই হলো না। আইডি কার্ড করতে গিয়ে ভোর রাতে কেউ বা একদিন আগেও সিরিয়ালের স্হানে ছিল। সময়ের আগে সিরিয়ালে থাকার জন্য পুলিশ গরম পানিও ছুড়েছে। 

এভাবে প্রায়ই হয়রানির শিকার হতে হয়। আবার হয়রানির শিকার হতে হয় মালদ্বীপের স্হানীয় কিছু নেশাখোর লোকের কারণে। রাস্তায় বের হলে লোকশূন্য দেখলে ছুরি দিয়ে মারার ভয় দেখিয়ে সবকিছু ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এসব হয়রানি বন্ধ করার পাশাপাশি হয়রানিমুক্ত, দালালমুক্ত সরকারিভাবে ভিসা যাতে ঠিক করা যায়—এই বিষয়ে যথাযথ কতৃ‌র্পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন