বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

করোনায় বিশ্বব্যাপী পর্যটনের ক্ষতি সাড়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার

আপডেট : ২৯ মে ২০২২, ০৩:৩৪

করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী লকডাউন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক সংকটে শুধু ২০২০ সালে পর্যটন খাতে ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। এই সময়ে পর্যটন খাতে বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থান হারিয়েছে ৬ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) প্রকাশিত ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স-২০২১ প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করায় পর্যটনের পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু এর গতি ধীর। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বিশ্বে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ভ্রমণ করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। কিন্তু করোনার পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৬৭ শতাংশ কম। বিশ্বব্যাপী পর্যটন আগের অবস্থায় যেতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং হেড অব শেপিং দ্য ফিউচার অব মোবিলিটি পেড্রো জি. গোমেজ পেনসাডো উল্লেখ করেছেন, এর আগে ২০১৯ সালে সর্বশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। ২০১৮ সালের হিসাবে বিশ্বে পর্যটনের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ কোটিতে পৌঁছায়। কিন্তু পরবর্তী দুই বছরে পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। করোনা অতিমারি শুরুর পর এই খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি নয়, পর্যটনকেন্দ্রগুলো রীতিমতো বন্ধ হয়ে যায়। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আশার দিকও রয়েছে। করোনার সংক্রমণ কমে আসায় পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে ইউক্রেনের যুদ্ধের মতো নতুন কারণগুলোও এই খাত ঘুরে দাঁড়াতে নতুন জটিলতা তৈরি করছে।

পর্যটক আকর্ষণে একটি দেশ কতটা নিরাপদ, অবকাঠামো সুবিধা কেমন, বিমানবন্দর কতটা উন্নত, আবাসন ব্যবস্থার মান কেমন, বন্দর সুবিধা, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির অবস্থা এরকম ১৪টি সূচকের ভিত্তিতে আগের প্রতিবেদনগুলো তৈরি করা হতো। ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে ১৪০টি দেশের তথ্য থাকলেও এবার ১১৭টি দেশের তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২০তম। এবার ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম। এর আগে ২০১৯ সালের প্রতিবেদনের সূচকে পাঁচ ধাপ উন্নতি হয় বাংলাদেশের। এবার করোনার প্রভাবে স্কোরের দিক থেকে বেশির ভাগ দেশের অবস্থা অবনতি হয়েছে। তবে সূচকের তালিকায় এগিয়েছে অনেক দেশ।

দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের মধ্যে পাঁচটির তথ্য-উপাত্ত স্থান পেয়েছে এই প্রতিবেদন। এই পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে চতুর্থ স্থানে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পর্যটনে সবচেয়ে এগিয়ে ভারত, রয়েছে ৫৪তম অবস্থানে। যদিও দেশটি করোনার প্রভাবে পর্যটন খাতে বড় ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা ৭৪তম, পাকিস্তান ৮৩তম ও নেপাল ১০৩তম অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনে ভ্রমণ ও পর্যটন উন্নয়ন সূচকের শীর্ষে থাকা দেশগুলোর বেশির ভাগই উচ্চ আয়ের। শীর্ষ স্থানে রয়েছে জাপান। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র, এরপর স্পেন। শীর্ষ দশে এর পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে-ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্টে্লিরয়া, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও ইতালি। তালিকায় একেবারে তলানিতে রয়েছে আফ্রিকার দেশ চাদ, ১১৭তম তম অবস্থানে।

ইত্তেফাক/এসজেড