কাজ শুরুর আগেই ৭০ ভাগ বিল ঠিকাদারের পকেটে

আপডেট : ৩১ মে ২০২২, ০৯:৫০

মেহেরপুরে কাজ শুরু না করেই একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ৭০ শতাংশ বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার জহিরুল ইসলাম। আর এ কাজে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান তাকে সহযোগিতা করেছেন। তবে প্রকৌশলী বলছেন, নিয়ম মেনে বিল দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মেহেরপুর সদর এলজিইডির তত্ত্বাবধানে উপজেলার বারাদি থেকে পিরোজপুরের যাদুখালী স্কুল পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। মেহেরপুরের মেসার্স জহিরুল লিমিটেডের মালিক জহিরুল ইসলাম রাস্তাটির ঠিকাদারির দায়িত্ব পান।

সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৮ মে কাজ শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরে ডিসেম্বরে। কিন্তু দেড় বছরের কাজের মাত্র এক মাস যেতে না যেতেই এমনকি কোনো কাজ না করেই ২০২১ সালের ১৪ জুন ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৭৯০ টাকা বিল পরিশোধ করেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত তারিখে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তাটি খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখে দীর্ঘদিন। এ সময় এলাকার মানুষের ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের। একপর্যায়ে চলতি মাসের ১৪-১৫ তারিখে সেই রাস্তায় বালু ও খোয়া ফেলে প্রথম কাজ শুরু হয়। তারা বলেছেন, মানহীন ইটের খোয়া ও মাটিমিশ্রিত বালু ব্যবহার হচ্ছে। ভালো করে রোলারও করা হয়নি। তড়িঘড়ি করে তারা কাজটি সম্পন্ন করছেন। এতে রাস্তার মানও খারাপ হবে বলে জানান এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তায় ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের খোয়া ও বালু। রোলার দিয়ে কমপেকশনের কাজটিও ঠিকমতো হচ্ছে না। অনেকটা তড়িঘড়ি করেই কাজটি শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানে কোনো প্রকৌশলীর দেখা মেলেনি। রাস্তার দুপাশে নির্মাণ করা হয়নি কোনো সোল্ডার। এরই মধ্যে পিচের কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদার।

জেলার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার জাকির হোসেন খান বলেন, রাস্তা টেকসই হওয়ার জন্য ডাবল লেয়ার কমপেকশন করা দরকার। একই সঙ্গে ডব্লিউবিএম করার পর অন্ততপক্ষে দেড় থেকে দুই মাস ফেলে রাখা উচিত। অথচ ঠিকাদার রাস্তাটি নির্মাণ করছেন তড়িঘড়ি করে। দেখভালের দায়িত্বেও চরম অবহেলা করছেন এলজিইডির কর্মকর্তারা।

মেহেরপুর এলজিইডির ল্যাব ইনচার্জ উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান জানান, ঐ রাস্তার কাজে যে ইট বা খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো টেস্ট করা হয়নি।

বিলের ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মেহেরপুর সদর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন বসের নির্দেশে আমি বিলটি তৈরি করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমি ছোট কর্মচারী। বসের নির্দেশ পালন করেছি মাত্র।’

তবে নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনেই তাকে বিল প্রদান করেছি।’ তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করার পরই তাকে বিল দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ কাজটি হয়ে যাবে বলেও তিনি জানান। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।

এ ব্যাপারে জহুরুল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি অফিসের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। 

ইত্তেফাক/ইআ