ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি জরুরি 

আপডেট : ০২ জুন ২০২২, ০৫:১৪

ওষুধ হোক জীবন রক্ষায়, ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির জন্য নয়। জীবন এবং ওষুধ—দুটোই পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কোনো-না-কোনো কারণে প্রতিটি মানুষেরই ওষুধ প্রয়োজন হয়। তাই এর মান নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য নির্ধারণে গুরুত্ব দিতে হবে। জীবন রক্ষার অতীব প্রয়োজনীয় উপকরণ সব ধরনের ওষুধের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। যা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করছে। দেশে উৎপাদিত ওষুধের সঙ্গে বিদেশে থেকে আমদানিকৃত ‘অতি জরুরি’ ওষুধের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

করোনাকালীন কিংবা করোনাপরবর্তী সময়ে এমনিতেই মানুষের আয় কমেছে। অনেকে কাজ হারিয়েছেন। দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে মানুষ। আয় কমেছে, তবে সংসার খরচ তো কমেনি। ওষুধের মূল্য বেশি হওয়ায় বহু মানুষ ওষুধ কিনে খেতে পারে না। এর ফলে নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। এতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি অন্য দিকে ওষুধের মাত্রারিক্ত দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা, মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ওষুধ কোম্পানিগুলো অতি মুনাফা লাভের আশায় দফায় দফায় দাম বাড়াতে অভ্যস্ত। কোম্পানির ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য পূরণ হওয়াই এদের একমাত্র লক্ষ্য। যদিও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তবে, ওষুধ কোনো বিলাসী ভোগ্যপণ্য নয়। এর ওপর নির্ভর করে মানুষের জীবন-মরণ। এক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত বাণিজ্যিক মনোবৃত্তি বন্ধ করা দরকার। ওষুধ কোম্পানিগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে দেশীয় ওষুধের দাম বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওষুধের দাম কত ভাগ বাড়তে পারে, তার কোনো পর্যালোচনা সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রশাসন করেনি।

ওষুধ প্রশাসন প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মের শেষ নেই, কিন্তু নিয়ম পালনের বালাইও নেই। সরকারের দায়িত্ব জনগণের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা নিরসনে উদ্যোগী হওয়া। তবে ওষুধের মান ও অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা রেখেই যা কিছু করার তা করতে হবে। ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি কঠোরভাবে দেখতে হবে। মানুষের সক্ষমতার সঙ্গে সংগতি রেখে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। ওষুধের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই।

লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন