ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শাহাগঞ্জ বাজারে বৃহস্পতিবার (২ জুন) রাতে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।
নিহত নাম আবুল কালাম (৬০) খান্দার গ্রামের মৃত জাফর আলীর পুত্র। এ সময় বেশকিছু দোকানপাট ভাঙচুর ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়।
আবুল কালামের মৃত্যুর প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে শুক্রবার সকালে শাহগঞ্জ বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে গ্রামবাসী। পরে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ, গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ও গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে গ্রামবাসী অবরোধ তুলে নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সবুর মিয়া আনুমানিক এক বছর আগে শাহগঞ্জ গাগলা মোড়ের কাঠমিন্ত্রি আব্দুর রাশিদের কাছে একটি খাট তৈরির জন্য টাকা দিয়েছিলেন। এক বছর পার হলেও আব্দুর রশিদ খাট না দেওয়ায় সবুর মিয়া আব্দুর রশিদের কাছে টাকা ফেরত চায়। কিন্তু আব্দুর রশিদ টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করছিলেন। এ নিয়ে সবুর মিয়ার লোকদের সঙ্গে আব্দুর রাশিদের কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বৃহস্পতিবার অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জায়েদুর রহমানের উপস্থিতিতে সালিশ হওয়ার কথা ছিল। সালিশ শুরুর আগেই সবুর মিয়ার লোকেরা আব্দুর রশিদের কাছে খাটের টাকা চাওয়ায় কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির পর চৈয়ারকান্ধা গ্রামের রাশিদের পক্ষ নিয়ে গাগলা গ্রামের মানুষ ও সবুর মিয়ার গ্রাম খান্দার গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ইউপি সদস্য সবুর মিয়ার চাচা আবুল কালাম (৬০), মমতাজ উদ্দিন ওরফে হিরা (২৭), রাকিবুল ইসলাম (২৮), শেখ হালিম (৩৮), ও শাহজাহান (৩০) গুরুতর আহত হন। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতেই আবুল কালাম মারা যান। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা গাগলা মোড় এলাকায় কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও গাগলা গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
গৌরীপুর থানার ওসি খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় আজ (শুক্রবার) বিকেল পর্যন্ত মামলা হয়নি। আবুল কালামের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্বনাথে হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নিহত