মধ্যরাতে ভয়ঙ্কর শব্দে কেঁপে ওঠে সীতাকুণ্ড। আতঙ্ক ছড়িয়ে যায় এলাকাজুড়ে। মুহূর্তেই সে অবস্থা প্রত্যক্ষ করে পুরো দেশ৷সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে কনটেইনার বিস্ফোরণে নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েন শত শত মানুষ। সেখবর শুনেই সুনসান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যাল ক্যাম্পাসের ভাঙে নীরবতা।
ঘুমন্ত ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা জেগে ওঠেন। একে একে সবাই জড়ো হন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে৷গন্তব্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। উদ্দেশ্য রক্ত দিয়ে কিংবা অন্য যে কোনো সহযোগিতায় এগিয়ে আসা।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি বাস নিয়ে রওয়ানা দেন একদল শিক্ষার্থী। পাশাপাশি যারা বাসে জায়গা পাননি তারা ট্রাকে করেও পৌঁছান মেডিক্যালে। এভাবেই ঘন্টার ভেতরে কয়েকশ শিক্ষার্থী উপস্থিত হন চট্টগ্রাম মেডিক্যালে। এখনও বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার্থীরা যাচ্ছেন। চেষ্টা করছেন রক্ত দিয়ে বা অন্য কোনো সহযোগিতা লাগলে তা দিয়ে আহতদের সেবা করার।
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে রক্ত দিতে যাওয়া যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নুর নবী রবিন বলেন, ‘আমরা রক্তের জন্য আহ্বান করার সঙ্গে সঙ্গে জিরো পয়েন্টে শতাধিক শিক্ষার্থী সমবেত হই। বাস না পেয়ে কেবল নেগেটিভ ব্লাড ডোনারদের নিয়ে ট্রাকে করে মেডিক্যালে যাই। তবে জেনেছি এর আগে একটি বাস ক্যাম্পাস থেকে শহরে গেছে।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পাস থেকে রেয়ার রক্তের শতাধিক শিক্ষার্থী বাসে করে শহরে এসেছেন। আমি হাটহাজারী বাজারে থাকি। আমার রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ। এই গ্রুপের রক্ত নাকি মিলাতে কষ্ট হচ্ছে। তাই আমি একা একটা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে চলে এসেছি।’
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, এ খবরে অনেক শিক্ষকও ছুটে গিয়েছেন হাসপাতালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শহীদুল হক ছুটে যান আহতদের সেবায়।
তিনি বলেন, ‘আহতদের অনেকের চট্টগ্রামে আত্মীয়স্বজন নেই। ভালো যত্ন নেওয়ারও কেউ নেই। এই মুহূর্তে তাদের পাশে আমাদের থাকা দরকার। তাই আমি এসেছি। আমার মনে হয়, সবাইকে এক মুহূর্তে যার যার মতো করে এসব বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা উচিত।’
শনিবার দিবাগত রাতে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারির বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। আহত ও দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ৫০০ জন।
