৩৬ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিমাসে ৩ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি পণ্য উঠানামা করে। দেশের সিংহভাগ শিল্প-কলকারখানা, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ ও বিভিন্ন প্রকল্পের বেশির ভাগ মেশিনারিজ আমদানি হয় এই স্থলবন্দর দিয়ে। তবে ভাড়া করা ক্রেন ও ফর্কলিফট দিয়ে চলছে এই বন্দরের কার্যক্রম। বর্তামানে এসব ক্রেন ও ফর্কলিফটের অধিকাংশ অকেজো হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের ভারী মালামাল খালাস প্রক্রিয়া। সময়মত পণ্য খালাস করতে না পারায় বন্দরে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ পণ্যজট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২১ মার্চ বেনাপোল বন্দরের ভারী পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঢাকা মহাখালীর মেসার্স এসআইএস (সীস) লজিস্টিক্যাল সিস্টেমের (জেভি) পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়। ২০১০ সালের ১ আগস্ট থেকে তারা বেনাপোল স্থলবন্দরে বেসরকারি কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্বও পান। বন্দরে ৭টি ফর্কলিফট ও ৫টি ক্রেন দিয়ে মালামাল ওঠা-নামার কাজ শুরুর পর ঐ বছরের ১০ নভেম্বর আরও ৬টি নতুন ফর্কলিফট নিয়ে আসে। কয়েকদিন কাজ করার পর এসব ফর্কলিফট ও ক্রেন অকেজো হওয়া শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী ৫টি বিভিন্ন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন ও ১১টি ফর্কলিফট দিয়ে কাজ করার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব ক্রেন ও ফর্কলিফট অকেজো হয়ে পড়ে আছে। প্রয়োজনের তুলনায় ক্রেন ও ফর্কলিফট না থাকায় বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও হাইকোর্টে ইকুইপমেন্ট টেন্ডারের বিষয়ে মামলা জটিলতার কারণে এ কোম্পানি এখনো কাজ করে যাচ্ছে বেনাপোল বন্দরে।
এ দিকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মেসার্স এসআইএস (সীস) লজিস্টিকাল সিস্টেমের (জেভি) পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও হাই কোর্টে ইকুইপমেন্ট টেন্ডারের বিষয়ে মামলা জটিলতার কারণে কোম্পানিটি এখনো কাজ করে যাচ্ছে বেনাপোল বন্দরে।
বন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও বন্দরের ঠিকাদার কোম্পানির দায়িত্বহীনতার কারণে বেনাপোল স্থলবন্দরে সকল প্রকার ভারি পণ্য লোড-আনলোড করা যাচ্ছে না। দিনের পর দিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বন্দর ব্যবহারকারীসহ ব্যবসায়ীদের। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার জানানোর পরও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেননি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামছুর রহমান ও সাধারণ সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দরে ক্রেন ও ফর্কলিফটের খুবই বাজে অবস্থা। যে এত বড় একটা বন্দরে ক্রেন ও ফর্কলিফট প্রায় অচল থাকে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হলেও তারা কোন গুরুত্ব দেন না। বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে এ সমস্ত যন্ত্রপাতি ক্রয় করা ছাড়া এ সমস্যার সমাধান হবে না। ভাড়া করা যন্ত্রপাতিতে একটি বৃহৎ বন্দরের কার্যক্রম চলতে পারে না।
বেনাপোল বন্দরের ক্রেন ড্রাইভার ফারুক হোসেন জানান, ক্রেন খারাপ হলে আমাদের কিছু করার থাকে না। কারণ ক্রেন, ফর্কলিফটের পার্টস পাওয়া মুশকিল। ঢাকা থেকে নিয়ে আসতে হয় অথবা জাপান থেকে আমদানি করে নিয়ে আসা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। সেটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
বেনাপোল বন্দরের মেসার্স এসআইএস (সীস) লজিস্টিক্যাল সিস্টেমস কোম্পানি লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার মহিদুল ইসলাম জানান, এখানে ৫টি ক্রেন ও ৭টি ফর্কলিফট আছে। এখন ২টি ক্রেন ও ৪টি ফর্কলিফট নষ্ট। আসলে এ সব যন্ত্রপাতির পার্টস আমাদের দেশে পাওয়া যায় না। তাই এগুলো নষ্ট হলে মেরামত করতে দেরি হয়। তাতে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন।
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আক্তারুজ্জামান সনি জানান, বন্দরে ক্রেন ফর্কলিফটের সমস্যা দীর্ঘ দিনের। এ সমস্যার কারণে বন্দর থেকে মালামাল সময় মত লোড না হওয়ায় বন্দরে যানজট লেগেই থাকে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমদানিকারকরা।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক মামুন কবীর তরফদার জানান, বন্দরে মালামাল উঠা-নামার জন্য ক্রেন, ফর্কলিফট প্রয়োজন। যা আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। তবে হাইকোর্টে ইকুইপমেন্ট টেন্ডারের বিষয়ে মামলা থাকায় এ কর্মকর্তা ক্রেন ও ফর্কলিফটের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

পেট্রাপোলে ‘সিন্ডিকেটে’ জিম্মি আমদানিকারকরা
বেনাপোল চেকপোস্টে উপচে পড়া ভিড়, ভোগান্তিতে যাত্রীরা