সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যেমন বাজেট চান তরুণরা

আর মাত্র একদিন। এরপরই বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটকে সামনে রেখে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা বলছেন তাদের প্রত্যাশার কথা। তাদের একেকজনের ভাবনা একেক রকম। নিজেদের মতো করে সরকারকে দিচ্ছেন পরামর্শ। তেমনই বেশ কয়েকজন তরুণ কথা বলেছেন ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে। দিয়েছেন তাদের অভিমত, সঙ্গে জানিয়েছেন বাজেট নিয়ে তাদের ভাবনার কথাও।

আপডেট : ০৮ জুন ২০২২, ১৩:৩৭

জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩ হোক জনসাধারণের বাজেট

হুমায়রা আঞ্জুমী নাবিলা 
গবেষক, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টেগ্রেশন ফর ডেভলপমেন্ট (র‍্যাপিড)

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন দুর্বার গতিতে টেক অফের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে বিশ্বব্যাপী এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এবারের বাজেট উত্থাপিত হচ্ছে। কোভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুত্থান ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এক মারাত্মক সংকটের সৃষ্টি করেছে। যার প্রথম প্রতিফলন ঘটেছে সারা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির মধ্যে দিয়ে। এই মূল্যস্ফীতির চাপ একেক দেশে একেক রকমভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। 

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে প্রথম যে ধাক্কা এসেছে, তা হলো মূল্যস্ফীতি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে বর্ধিত মূল্যে ভোজ্যতেল, পশুখাদ্য,  জ্বালানিতেল, খাদ্যপণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপরও। ফলস্বরূপ, এক বিরাট জনগোষ্ঠী (দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, বা কোনো ক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত) নানা মাত্রায় অতি মূল্যস্ফীতির শিকার হয়েছে। তারা দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মিটাতে হিমশিম খাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সুপরিকল্পিতভাবে বাজার মনিটরিং, অব্যবস্থাপনা ও মার্কেট ম্যানিপুলেশন কঠোরভাবে দমন, উৎপাদন বৃদ্ধিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভর্তুকি নিশ্চিত করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে সরকার এক ডিলেমার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়,  যেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সরকার কার কাছে কতটুকু কঠোর হবে, সেটাই দেখার বিষয়। এমন অবস্থায়, সরকারকে বৃহৎ স্বার্থ বিবেচনায় নেট সাপ্লাইয়ের এক তৃতীয়াংশ আগেই মজুত করে রাখতে হবে, যেন যেকোনো পরিস্থিতিতে সরকার প্রতিআক্রমণ ঠেকানোর ক্ষমতা রাখতে পারে।

সুতরাং এবারের বাজেটে এই মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব থেকে জনসাধারণকে বাঁচানোই হবে প্রধান কাজ। একজন তরুণ গবেষক হিসেবে, আমি আশা করি সরকার আগামী বাজেটকে সেই আঙ্গিকেই ঢেলে সাজাবেন।

এই সংকটময় মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সরকার যখন বাজেট প্রণয়ন করছে, তখন সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে যেন স্ব স্ব শ্রেণীগোষ্ঠীর স্বার্থ সবটুকু বাজেটে প্রতিফলিত হয়। এই বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় জনকল্যাণমুখী ও অধিকারভিত্তিক বাজেটেই এই ত্রিশঙ্কু অবস্থা থেকে দেশের জনসাধারণকে পরিত্রাণ দিতে সক্ষম হবে।

 

বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়ন আবশ্যক

রাফিউল আহমেদ
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আমার ধারণা, গত দেড় দশকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে স্থিতিশীলতা ছিল, সেটা এখন বড় ধরনের চাপে পড়েছে। যে চাপ কোভিড মহামারীতেও ছিল না, যা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে এখন প্রতীয়মান। মূল্যস্ফীতি, ডলারের দামে অস্থিরতা, আমদানির উল্লম্ফন, রেমিট্যান্সের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ হিসেবে এসেছে, সেগুলোকে সঠিক মাত্রার গুরুত্বের সঙ্গে বাজেট প্রণয়ন করাই এবারের বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই সময় বাংলাদেশের মেগা প্রজেক্টগুলোর ঋণ উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে ও কতটা ফল বয়ে নিয়ে আসছে সেগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা।  একইসঙ্গে এই মেগা প্রজেক্টগুলোর ফিজিবিলিটি টেস্টের জন্য বাজেটে নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির অর্থ বাস্তবায়ন করা।

অন্যদিকে অস্বাভাবিক রকমের অর্থপাচার দেশের এই সংকটকালের মধ্যে আরেকটি মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দৃশ্যমান হচ্ছে। সম্প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আমদানি বেড়ে যাওয়া, ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দেওয়া, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া, রিজার্ভ কমে যাওয়া; সর্বোপরি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হতে শুরু করার প্রেক্ষাপটে বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়টি দৃশ্যত স্বীকার করে নেয় সরকার। বিনিয়োগ ব্যবস্থার উন্নতি, হুন্ডির, আমদানির ওভার ইনভয়েসিং-সহ এরকম অসংখ্য ফাঁকফোকর বন্ধ না করতে পারলে অর্থ পাচার রোধ করার উপায় নেই।

কর খাত সংস্কারের দীর্ঘদিনের যে দাবি, তা আসলে কার্যকর দাবি কিনা সে ব্যাপারে এখন স্বয়ং বিশ্লেষকরাই দ্বিধান্বিত। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা চলে আসলেও কর খাতের যে সংস্কারের কথা বাজেটে উল্লেখিত হয়েছে সেগুলোর প্রতিফলন থাকে না বললেই চলে। বছরের পর বছর ১০-১১% ট্যাক্স জিডিপি রেশিও থাকার পরেও বাজেটের বাস্তবায়নে সেগুলোর উন্নয়নের কোনো চিহ্ন থাকে না। যার মূল কারণ আসলে বাজেটের বাস্তবায়ন নিরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় কোন কার্যকরী মূল্যায়ন পদ্ধতি নেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে কাজটা কঠিন হলেও মাথায় রাখতে হবে এসব কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় কঠিন সময়েই।

 

অগ্রগতির জন্য ইন্টারনেট গতিশীল ও সহজলভ্য করার বিকল্প নেই

জিনাত জাহান খান 
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  

২০২২-২৩ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ওপর মোট ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার প্রস্তাব। বর্তমানে বাংলাদেশে অনেকেই ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত কিংবা অনলাইনে ব্যবসা করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। এছাড়া মহামারির পর থেকে অনলাইন ক্লাস ও ভার্চুয়াল অফিসের সূচনা ঘটে, যা এখনো কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাইব্রিড মোডে চলছে। কিন্তু ইন্টারনেটের উর্ধ্বগামী খরচ সবসময়ই এসব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। মাত্র ৫ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেটের জন্যও একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে মাসে অন্তত ৫০০ টাকা খরচ করতে হয়। এত কম গতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করা, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা অনলাইন ব্যবসা করা কষ্টসাধ্য হলেও উচ্চমূল্যে এই গতির কিংবা এর থেকে বেশি গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করা বা এর বিকল্প হিসেবে মোবাইল ডাটা প্যাকেজ কেনা অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। যেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য বেড়েই চলেছে, সেখানে ইন্টারনেটের পেছনে বাড়তি খরচটা করতে অপারগ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

অন্যদিকে ভ্যাট বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন থেকে একজন ক্রেতাকে একটি মোবাইল সেট ক্রয় করতে ১৫ শতাংশ বেশি মূল্য দিতে হবে। এর ফলে  স্মার্টফোন অনেকেরই ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা যেমন এর ভুক্তভোগী হবে, তেমন শ্রম খাতে বর্তমানে কাজ করছেন বা করতে ইচ্ছুক। যেমন,  বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মে কর্মরতদের পক্ষেও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

 


শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানমুখী বাজেট চাই

ইমরান হোসেন
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

বাজেটের খুবই ক্ষুদ্র অংশ বরাদ্দ থাকে গবেষণায় ব্যয়ের জন্য। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণার বিকল্প নেই। বাংলাদেশে গবেষণার অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে পর্যাপ্ত কাজ হয় না। গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশ লাভবান হবে।

দেশে প্রতি বছরই বেশ কয়েকটা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তাবিত হচ্ছে। এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আদৌ দরকার আছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞজনেরা প্রশ্ন তুলে আসছেন শুরু থেকেই। সংখ্যায় প্রাধান্য না দিয়ে মানে প্রাধান্য দিলে তুলনামূলকভাবে দেশের জন্য বেশি মঙ্গলজনক হবে। দেশের বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার যথাযথ মান ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে মনোযোগী হওয়া উচিত। এজন্য বাজেটে বর্তমানে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নকল্পে বরাদ্দ রাখা দরকারি।

এদিকে করোনার প্রকোপে বিভিন্ন পেশার মানুষ হারিয়েছেন তাদের কর্মসংস্থান। তাদের পুনরায় কর্মসংস্থানবান্ধব বাজেট হলে দেশের অর্থনীতির আসন্ন বিপর্যয় অনেকটাই সামলানো যাবে।

দেশে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। তরুণদের মধ্যে ব্যবসাক্ষেত্রে আসার প্রবণতাও বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসা করছেন অনেকেই। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আমাদের বাজেটগুলো এখনও যথেষ্ট উদ্যোক্তাবান্ধব হয় না। আমাদের দেশে ব্যবসার পরিবেশ যথেষ্ট উন্নত নয়- ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী- প্রায় সবাই একমত হবেন এই বিষয়ে। উদ্যোক্তা বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে, তাই বাজেট উদ্যোক্তাবান্ধব হওয়া জরুরি।

ঢাকা শহরের পরিবেশ বসবাসের অযোগ্যের তালিকায় একদম ওপরের সারিতে। বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, শব্দ দূষণ,  উন্নয়নের আড়ালে বিভিন্ন প্রকল্পই নেওয়া হয় যা পরিবেশবান্ধব নয়। বাজেটে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে ভর্তুকি বাড়ানো হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য কল্যাণকর হবে।

 

 

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই এবারের বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ

আরিফুল হাসান শুভ
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিবারের মতো এবারের বাজেটেও খাত ভিত্তিক নানা চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা থাকলেও চলমান মূল্যস্ফীতির সংকট নিয়ন্ত্রণ করাই হবে জনগণের সবচেয়ে বড় চাওয়া।

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আবারও সংকটে ফেলেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে। তাতে বাংলাদেশ যে যথেষ্ট ঝুঁকিতে আছে তা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি। নিম্ন ও মধ্য আয়ের জনগণের জীবন হয়ে উঠেছে কঠিন থেকে কঠিনতর।

চলমান মূল্যস্ফীতির মূল কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা ও ফলস্বরূপ আমদানি খরচ বৃদ্ধি। মূল্যস্ফীতির চাপ সামলানোর জন্য আমদানি খরচ কমাতে ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখাটাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমদানিনির্ভর নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে শুল্ক কমাতে হবে।  

সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে ৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে যা ৫.৬ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রত্যাশা নিয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে আগামী (২০২২-২৩) অর্থবছরের বাজেট। তবে এই সূচক নয় বরং ব্যক্তি পর্যায়ে খাদ্য নিশ্চয়তাই একমাত্র স্বস্তি এনে দিতে পারবে জনমনে।  আসন্ন বাজেটে দরিদ্র ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য উপযুক্ত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। মূল্যস্ফীতির বিপরীতে সরকারের দেয়া বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ নিতান্তই অপ্রতুল। এই ভাতা, অনুদান, প্রণোদনা ইত্যাদির পরিমাণ ও বিস্তৃতি বাড়াতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যেন তা তৃণমূল পর্যায়ে সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছায়। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ট্রাক সেল কার্যক্রম আরও প্রশস্ত ও সুশৃঙ্খল করতে হবে।

 

 

সামরিক খাত শক্তিশালী করার এখনই সময়

মো. ফাহাদ হোসেন
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে অর্থ মন্ত্রণালয় স্বাভাবিকভাবেই চলতি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, সরকারের ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০৩০ সামনে রেখে ৮ শতাংশের অধিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে অর্থ বরাদ্দ করবে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ধরে রাখতে হলে রপ্তানিমুখী শিল্প যেমন তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল, চামড়া, পাট ও পাটজাত দ্রব্য প্রস্তুত শিল্পে প্রণোদনা দিতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রণোদনার প্রয়োজন হতে পারে। তবে কারা এ প্রণোদনা পেতে পারেন, তা নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী সংগঠন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিনিধির সমন্বয়ে খাতভিত্তিক কমিটি গঠন করে অবিলম্বে কাজ শুরু করতে হবে। প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থসংস্থানের কাজটি বাংলাদেশ ব্যাংক এর প্রসারিত আর্থিক নীতি  অবলম্বনে করবে।

এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে উন্নয়নের জন্য নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। কারিগরি ও  গবেষণামূলক শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি জোর দিতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে। মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আধুনিক শিক্ষা অবকাঠামোর বিকল্প নেই। 

পাশাপাশি বৃদ্ধি করা উচিত সামরিক খাতের বাজেট। ফোর্সেস গোল ২০৩০ এর আওতায় বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর যে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি উচিত। বর্তমানে এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য শক্তিশালী  সামরিক বাহিনীর বিকল্প নেই৷ যেহেতু সামরিক বাহিনীর উন্নয়ন একটা দীর্ঘমেয়াদি কাজ, সেজন্য  সামরিক বাহিনীর উন্নয়ন বরাদ্দ বৃদ্ধি উচিত এ বাজেট থেকে।

 

 

সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের বাজেট চাই

মৌমিতা এ. মল্লিক
অর্থনীতি বিভাগ, ব্র‍্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

যেহেতু বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে, তাই উন্নত দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীগুলো পুনর্বিবেচনা করে দেখা জরুরি। অর্থনৈতিক চিত্র সর্বদাই পরিবর্তনশীল এবং এর আলোকেই সামাজিক সুরক্ষার উদ্যোগগুলো সাজানো প্রয়োজন। 

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির এই চলমান সময়ে সরকারের উচিত ভাতা বাড়ানো, বিশেষ করে বয়স্ক, বিধবা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য। শহুরে বস্তিবাসী, ভাসমান জনগোষ্ঠী, গর্ভবতী মহিলা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে শহুরে দরিদ্র জনগণকেও এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।

সামাজিক সুরক্ষা খাতকে আরও বিস্তৃত করতে বাড়তি অর্থায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠী পর্যন্ত তা পৌঁছায় না বিধায় এর কার্যকারিতা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে সরকারিভাবে সামাজিক সুরক্ষা খাতে একশটিরও বেশি কার্যক্রম চলে অথচ দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহার সেখানে একটি বড় বাধা।

নতুন অর্থবছরে দেশের আরও ১০০ উপজেলার শতভাগ বয়স্ক-বিধবা-প্রতিবন্ধী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা প্রদানের প্রস্তাব বাতিল করেছে সরকার। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যারা এই সুবিধা ভোগের অযোগ্য তারা যেন সুবিধা ভোগ করতে না পারে সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডাটাবেজ ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য জাতীয় নথি দেখে কাঙ্ক্ষিত জনগণের হাতে এ সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে। তবেই দরিদ্র জনগোষ্ঠী এই কার্যক্রমের সুফল সরাসরি ভোগ করতে পারবে ও পদ্ধতিটি সুশৃঙ্খল হবে।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ছয় দেশের চার শতাধিক তরুণের অংশগ্রহণে এসডিজি ইয়ুথ সামিট

বিক্রমপুরের জুবায়ের এখন অ্যামাজনের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

এই সময়ের সফল সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার

ইত্তেফাক-এনএনও লিডার্স সামিট সোমবার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে উদ্ভূত পরিবর্তন মোকাবিলার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাদওয়ান মুজিব

বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে তাদের অনুভূতি

ফোর্বসে সাত বাংলাদেশি তরুণ

চা কিনলে ফ্রি বই পড়ার সুযোগ