আমাদের বাঁচার জন্য তিনবেলা খাবার একান্ত জরুরি। আর অসুখ হলে দরকার গুণগত মানসম্পন্ন ওষুধ সেবন করা। কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী তাদের মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পচা ও বাসি খাবার বিক্রি করছে। বিভিন্ন খাবারে ক্ষতিকারক জিনিস মেশানো হচ্ছে। যা মানুষের শরীরের জন্য প্রবেশ করে এবং মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়।
মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ বলে ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করার এক বিজ্ঞপ্তি বিভিন্ন পত্রিকায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেন। যার মধ্যে রয়েছে বোতলজাত পানি, সরিষার তেল, লাচ্ছা সেমাই, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, আয়োডিনযুক্ত লবণ, ঘি, ধনিয়া গুঁড়া, নুডলস, ময়দা, ফারামেন্টেড মিল্ক (দই), চানাচুর, বিস্কুট, সুজি, মধু, চিপস। যে সব নামি দামি কোম্পানি নিম্নমানের খাবার দীর্ঘদিন বাজারজাত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আর মানুষকে সেই খাবার অসুস্হ বানিয়েছে, তাদের পণ্য শুধু বাজার থেকে প্রত্যাহার করলেই হবে না।
এদেরকে জনগণের সামনে জবাবদিহি করতে হবে এবং যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃর্পক্ষের কাছে অনুরোধ—এদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির ব্যবস্হা করা হোক। কঠিন শাস্তি ছাড়া এই অপরাধ রোধ করা সম্ভব হবে না। মানুষের নিরাপদ জীবন এবং সুস্হ জীবনের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে; যে সব অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের জন্য মানুষের নিরাপদ এবং সুস্হ জীবনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। অভিযুক্ত কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। নিম্নমানের খাবার দীর্ঘদিন বাজারজাত করে মানুষের শরীরে বিষ ঢুকিয়ে দিয়ে মানুষকে অসুস্হ বানিয়ে মৃতু্যর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সেইসব কোম্পানির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা উচিত। এরা নীরব ঘাতক।
অন্যদিকে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ওষুধ কিনে খেয়ে সুস্হ হতে চাচ্ছে, সেখানেও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ অর্থাত্ বিষ বিক্রি করা হচ্ছে। এবং বিভিন্ন কোম্পানি নিম্নমানের ওষুধ সরবরাহ করছে। নিম্নমানের চিপস, গুঁড়া দুধ খেয়ে শিশুরা প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে। আমরা আজ অর্থ উপার্জনের স্বার্থে এতই বিবেকহীন হয়ে পড়ছি যে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করতে, পচা বা বাসি খাদ্যদ্রব্য তৈরি করতে আমাদের বিবেকে একবারও বাধ সাধছে না। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার যারা খাচ্ছে বা সেবন করছে, তারাও তাদের কারো আত্মীয়স্বজন। ব্যক্তিস্বার্থের জন্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন করার জন্য মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার আগে একবার ভাবুন।

