নিউইয়র্ক আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত এম. সহিদুল ইসলাম

বৈধ পথে প্রবাসীদের আরও রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান

আপডেট : ১৮ জুন ২০২২, ১৫:১৮

বৈধ পথে প্রবাসীদের আরও রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. সহিদুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম। আন্তর্জাতিক ফ্যামিলি রেমিট্যান্স দিবস উপলক্ষে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ‘রেমিট্যান্স ও উন্নয়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পিপল টু পিপল রিলেশনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসাবে অভিহিত করে দু’দেশের মধ্যকার সহযোগিতাকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করণে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এম. সহিদুল ইসলাম।

২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক নতুন গতি সঞ্চার হবে আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত সহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ ও  দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা ও সুবিধাসমূহ আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পরেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত সহিদুল ইসলাম তাদের সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

নিউইয়র্ক: আন্তর্জাতিক ফ্যামিলি রেমিট্যান্স দিবস উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. সহিদুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউইয়র্কে সোনালী এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট ও সিইও দেবশ্রী মিত্র। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের হালনাগাদ চিত্র তুলে ধরেন এবং এ প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের প্রদত্ত নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার বর্ণনা করেন। বৈধভাবে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রণোদনা  শতকরা ২ থেকে ২.৫ ভাগে উন্নীতকরণের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে প্রবাসীদের ভূমিকা, বিশেষ করে এ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় রেমিট্যান্সের অপরিসীম  অবদানের কথা  দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন। বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় একদিকে করোনা মহামারীর নেতিবাচক প্রভাব, অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতিতেও রেমিট্যান্সের প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজনীয়তা পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশী বলে উল্লেখ করেন কনসাল জেনারেল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪১ রূপকল্প এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নে তিনি প্রবাসীদেরকে আরও কার্যকরী ভূমিকা রাখার উদাত্ত আহবান জানান।

উন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত প্রবাসীরা রেমিট্যান্স প্রবাহ সহজীকরণ ও ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তাদের স্ব স্ব মতামত ও চিন্তা ভাবনা তুলে ধরেন। সরকার ঘোষিত প্রণোদনাসমূহ কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে  প্রচার চালানো, রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রণোদনার হার বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স সপ্তাহ বা মেলার আয়োজন করা, ওয়েজ আর্নার বন্ডের সুবিধাসমূহ যাতে প্রবাসীরা সহজে পেতে পারে সে ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরেন প্রবাসীরা।

ইত্তেফাক/এমআর