শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিশ্ব বাবা দিবস

বাবার মলাটে আবৃত ভালোবাসা

আপডেট : ১৯ জুন ২০২২, ০৯:১১

যার শরীর থেকে আমার সৃষ্টি, সেই মানুষটি আমার বাবা। সৃষ্টির পর থেকে সবসময় পরম যত্নে আগলে রাখা মানুষটি আমার বাবা। সন্তানের মুখে হাসি ফোঁটাতে সহস্র সুখ বলি দেওয়া মানুষটি আমার বাবা। প্রিয় খাবারটি নিজের মুখে না তুলে সন্তানের মুখে তুলে দেওয়া মানুষটি আমার বাবা। 

আমার একটি সুন্দর পোশাকের জন্য নিজের পুরনো পোশাকটিকেই নতুন বলে পরিবারের কাছে উপস্থাপন করা মানুষটি আমার বাবা। আমায় পড়াশোনা শেখাতে নিজের সব চাহিদা বলিদানের মানুষটি আমার বাবা। সমাজে আমার বেড়ে উঠতে সর্বোচ্চ পরিশ্রমী হওয়া মানুষটি আমার বাবা। শাসনের মধ্যে ভালেবাসায় ডুবিয়ে রাখা মানুষটি আমার বাবা। নিজে পরিপাটি না হয়ে সন্তানকে হিরো সাজিয়ে বাইরে পাঠানো মানুষটি আমার বাবা....!

এমন ঠিক হাজার হাজার লাইনজুড়ে আছে আমার বাবা। আমার সৃষ্টি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বাবা শুধু দিয়েই গেছেন, কখনো বিনিময় দাবি করেননি। তার সব কিছুর পেছনে শুধু একটাই উদ্দেশ্য সন্তানের মুখে হাসি ফোঁটানো। সন্তানের চোখে এক বিন্দু পানির কনা যেন না থাকে সেই লক্ষ্যে দিনের পর দিন সন্তানের স্বার্থে অচিরেই আত্মত্যাগ করে যাচ্ছেন বাবা। বলা যায়, একটি বইয়ের উজ্জ্বলতা এবং বাহ্যিক সব প্রকার ঝড়ঝাপটা থেকে রক্ষা করতে মলাটে আবৃত করা হয়, তেমনি বাবাও তার ভালোবাসায় সন্তানকে মলাটে আবৃত করে রাখেন। 

বাবারা আত্মত্যাগীই হন, নয়তো সন্তানের পৃথিবীটাকে এত সুন্দর করে তোলা যেত না। সন্তানের বিপদে নিজের পিঠ দিয়ে সব যন্ত্রণা সহ্য করেন, সন্তানকে বুকে নিয়ে হাসি মুখে থাকা মানুষটি আমাদের বাবা। শত ব্যথা বুকে চেপেও সন্তানের থেকে হাসিমুখটুকুর আশায় বৃদ্ধ বয়সে এসেও জীবন যুদ্ধে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসাবে লড়ে যায় বাবা।

বাবা তুমি আমার জীবনে কতটা জায়গাজুড়ে আছো ঠিক তোমাকে বলা হয়নি। তুমি তো শুধু আমার বাবা নও, আমার বন্ধু, আমার ছোটবেলার প্রথম খেলার সাথী। যে খেলায় আমি জিতেছি সবসময়, তুমি হেরে গিয়েও সবসময় আমার হাসিতেই জয়ী হয়েছো বাবা। তুমি আমার সবচেয়ে ছোট বেলার বন্ধু, সময়ের পরিক্রমায় আমাদের বাপ-বেটার খেলাটা ঠিক এখন হয় না কিন্তু তোমার সেই স্মৃতিগুলো কখনো ভুলে যাবার নয়। সত্যিই তোমাকে কখনো বলা হলো না ‘অনেক বেশি ভালোবাসি তোমায় বাবা’। 

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বিশ্বের ৫২টি দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার প্রতি বছর দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। এ বছর তৃতীয় রোববার হিসেবে ১৯ জুন পালিত হচ্ছে দিবসটি।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে থেকে বাবা দিবস পালন শুরু হয়। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু।

ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্ট এলাকার এক গির্জায় ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই ‘বাবা দিবস’ প্রথম পালিত হয়। আবার, সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথাতে বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। তিনি ১৯০৯ সালে ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে; সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।

বাবা দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো! আসলে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাতো, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাতো না; বরং বাবা দিবসের বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

ইত্তেফাক/মাহি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন