বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চট্টগ্রামে নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা কাটছেই না

আপডেট : ২২ জুন ২০২২, ০৩:০০

গত কয়েক দিনের লাগাতার বর্ষণে ডুবে যাওয়া চট্টগ্রামের নিচু এলাকাগুলোর কিছু কিছু বাড়িঘর, দোকানপাট থেকে পানি সরলেও অধিকাংশ এলাকা এখনো নিমজ্জিত রয়েছে। যে সব বাড়িঘর ও দোকানপাট থেকে পানি সরেছে তারা ভিজে যাওয়া গৃহস্থালি সামগ্রী খাট-পালঙ্ক শুকানোর সুযোগটুকু না পেয়ে আরেক বিড়ম্বনার মুখোমুখি হচ্ছেন। দিনে বেলা ১১টার দিকে আকাশ সামান্য পরিষ্কার হয়ে এলেও পুনরায় মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও নগরীসহ চট্টগ্রামে কোথাও কোথাও অস্থায়ী হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে জনচলাচলে সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।

বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে এলাকাবাসীরা জানায়, শুধু বাড়িঘর, দোকানপাটই নয়, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অফিসের নিচতলায়ও বৃষ্টির পানি প্রবেশ করায় প্রায় কয়েক হাজার স্থাপনার নিচতলা কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। এগুলো পরিষ্কার না করা পর্যন্ত এসব স্থান ব্যবহার করা সম্ভব নয় বলে তারা জানান। এদিকে, হালিশহর, আই ব্লকের ৯ নম্বর লেনসহ আশপাশের সবগুলো লেইনে গতকালও বৃষ্টির পানি সরেনি। সেখানকার সড়ক বাড়িঘরের চেয়ে কয়েক ফুট উঁচু করে ফেলায় এবং সড়ক সংস্কারের সময় বাড়িঘরের সঙ্গে যুক্ত ড্রেন ও কালভার্টগুলো আনুপাতিকভাবে উঁচু ও সুপরিসর না করায় ফেলে দেওয়া ময়লা-আবর্জনায় বৃষ্টির বিপুল পরিমাণ পানি সরতে পারছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। এসব পানি নিমজ্জিত বাড়িঘর থেকে গতকাল সরে গেলেও পানিতে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো অপসারণ না করায় দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। 

আই ব্লকের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত রবিবার ও সোমবারের ভারী বৃষ্টিতে মুহূর্তের মধ্যে ফাঁকা ভবনের নিচতলায় হুহু করে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে বাড়িঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র বিনষ্ট হয়। আগ্রাবাদ, পোর্ট এক্সেসরোড দুই পাশেও গতকাল বিস্তীর্ণ এলাকা নিমজ্জিত হয়ে থাকতে দেখা গেছে। একই পরিস্থিতি বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজারসহ নগরীর অন্তত অর্ধশত এলাকায় দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা জানান, সিটি মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই নগরীর নালা সংস্কার ও খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে এগুলোর মধ্যে তৈরি করা বাঁধগুলো জুন মাসের আগেই অপসারণের জন্য বলেছিলেন। তিনি তা বলেছিলেন জলাবদ্ধতার আশঙ্কায়। কিন্তু তা না করায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নগরীর নিম্নাঞ্চলগুলো ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয় বলে তারা মন্তব্য করেন।

ইত্তেফাক/ইআ