চার ফলের দারুণ গুণ 

আপডেট : ২৫ জুন ২০২২, ১৮:০২

ফলের এমন মৌসুম বছরে একবারই আসে। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ইত্যাদি রসাল ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। বৈচিত্র্যপূর্ণ এই ফলগুলো শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বেশ সহায়ক। পাশাপাশি রোদ-বৃষ্টিতে সতেজ থাকতেও মৌসুমি ফল বেশ কার্যকর। কোন ফলের উপকারিতা কতটুকু, জেনে নিন।

  আম দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখা এবং জটিলতা কমায়

আমের পুষ্টিগুণ

  • ফলের রাজা আম প্রি-বায়োটিক, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। আমে কোলন ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, লিউকোমিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধের উপাদান আছে। 
  • আম পটাশিয়ামের ভালো উৎস। রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে আম। এ ছাড়া  ফুসফুস ও মুখের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে আম। ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও হ্রাস করে। 
  • আম দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখা এবং জটিলতা কমায়। স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 
  •  আমে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেনের উৎপাদন করে। এর ফলে ত্বক সতেজ ও টান টান হয়। আমে ভিটামিন ই আছে, যা ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী। সহজ করে বললে, আম তারুণ্য ধরে রাখতে বেশ বড় ভূমিকা রাখে। 

মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জাম

জামের পুষ্টিগুণ 

  • জামে আছে প্রচুর ভিটামিন সি। এটি ভিটামিন সি অভাবজনিত কারণে রোগবালাই প্রতিরোধসহ ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণ করে। এ ছাড়া মুখের দুর্গন্ধ রোধ, দাঁত মজবুত, মাঢ়ি শক্ত এবং মাঢ়ির ক্ষয়রোধেও জাম উপকারী। 
  • ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম উপকারী। এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জাম ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে শরীর সুস্থ রাখে। এক চা চামচ জামের বিচির গুঁড়া খালি পেটে প্রতিদিন সকালে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • জাম রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদযন্ত্র ভালো রাখে। এ ছাড়া শরীরের দূষিত কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে দেহের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন পৌঁছে দেয় জাম।
  • আজকাল উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় অনেকেই ভুগছেন। পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকরা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাজা ফল এবং শাকসবজি খেতে বলেন। এ ক্ষেত্রে জাম উপকারী। জামে এমন সব উপাদান আছে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।
  • মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জাম। রঙিন ফলের ভেতর যে পরিমাণ যৌগিক উপাদান থাকে, তার মধ্যে জামে আছে সবচেয়ে বেশি। জাম লড়াই করে  জরায়ু, ডিম্বাশয় ও মলদ্বারের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে।

তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে লিচু। ত্বকও ভালো রাখে

লিচুর পুষ্টিগুণ

  • লিচুতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালরি পরিমাণে খুব অল্প থাকায় এবং ফ্যাট একেবারে না থাকায় এটি সবার জন্যে উপযুক্ত ও উপকারি একটি ফল। 
  • লিচুতে আছে ক্যানসার প্রতিরোধক্ষমতা। লিচুতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড ব্রেস্ট ক্যানসারসহ বিভিন্ন ক্যানসারের কোষ বিভাজনকে বাধা দেয়। 
  • লিচুতে ভিটামিন এ এবং সি ছাড়াও আছে ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, কপার, ফলেট যা রক্তের উপাদান তৈরিতে সহযোগিতা করে। পাশাপাশি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জল্য বৃদ্ধি করে।
  • তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে লিচু। ত্বকও ভালো রাখে। ব্রণ হতে শুধু বাধাই দেয় না, সেই সঙ্গে ত্বকের কালো দাগ দূর করে। এ ছাড়া লিচুতে থাকা ভিটামিন সি, নিয়াসিন, থায়ামিন চুলের সৌন্দর্য বাড়ায়, চুলকে করে দিঘল কালো।

সর্দি-কাশির সংক্রমণ ঠেকাতে, টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকর

কাঁঠালের পুষ্টিগুণ

  • রসাল ও সুমিষ্ট স্বাদের ক্যারোটিন সমৃদ্ধ কাঁঠালে শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম যেমন আছে তেমনই রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও  ভিটামিন বি। 
  • কাঁঠালের বীজ ও কাঁচা কাঁঠালে রয়েছে যথেষ্ট প্রোটিন, ক্যালরি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি ও খাদ্য–আঁশ।
  • কাঁঠালের ফাইটোকেমিক্যালসগুলো ফ্রি-রেডিক্যাল দূর করে কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। ফলে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 
  • কাঁঠালে থাকা ভিটামিন সি সর্দি-কাশি প্রতিহত করে, খাদ্য-আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 
  • কাঁঠালে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট দেহকে ক্ষতিকর ফ্রির‌্যাডিক্যালস থেকে রক্ষা করে। সর্দি-কাশির সংক্রমণ ঠেকাতে, টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকর।



 

 

ইত্তেফাক/আরএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন