সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বন্যা হ্রাসে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ

আপডেট : ২৬ জুন ২০২২, ০৯:৫৮

বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও এখন তা আমাদের অন্যতম একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের বেশকিছু অঞ্চলের মানুষ বন্যার করালগ্রাসের শিকার হয়েছে। ফলে এসব অঞ্চলে সব স্তরের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে সীমাহীন দুর্ভোগ। বন্যাকবলিত হয়ে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শহরাঞ্চলের সমস্ত রাস্তাঘাট। স্বাভাবিক যোগাযোগ প্রক্রিয়া ও এক প্রকার বন্ধ বলা যায়।

যদিও ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীগুলো তাদের উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবু আক্রান্ত জনসংখ্যারসাপেক্ষে তাদের সংখ্যা বেশ নগণ্য। ত্রাণ সহায়তার কাজে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। এ মুহূর্তে দেশের সব স্তরের প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সংগঠন, বেসরকারি ব্যাংক, করপোরেট কোম্পানিসহ অন্যান্য সবাইকে এ সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে দ্রুত এ দুরবস্থা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে। কিন্তু এভাবে আর কত? প্রতি বছরই বিভিন্ন অঞ্চলে এ দুর্ভোগ যেন নিয়তি হয়ে গেছে। এর থেকে উত্তরণের উপায় কি? এ দুর্যোগ কি সবটাই প্রাকৃৃতিক নাকি মানবসৃষ্ট কারণও এর পেছনে দায়ী!

সাম্প্রতিক বন্যার কারণ হিসেবে ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের অতিবৃষ্টিকে দেখানো হয়েছে। সেই বৃষ্টির পানির ঢল ভাসিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশকে। মেঘালয়ের পানি এসে সিলেট বিভাগ এবং আসামের পানি ব্রহ্মপুত্র নদসহ অন্যান্য নদনদী দিয়ে এসে রংপুর বিভাগের প্রায় সবকটি জেলাকে প্লাবিত করেছে। পানির চাপ সামলাতে না পেরে আসামের কার্ভি লাং পিং পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ভারতীয় তিস্তা ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেওয়া হয়। যার ফলে সিলেট অঞ্চলে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন ৫৪টি নদ-নদীর মধ্যে ৫১টিতে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করছে ভারত। তিস্তা ব্যারেজ, ফারাক্কা বাঁধসহ নানাভাবে পানির প্রবাহকে আটকে দেওয়ায় গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশ শুকিয়ে চৌচির হচ্ছে।

আর বর্ষায় উজানের পানি ছেড়ে দিলে বাংলাদেশ বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার সেরা কীর্তি পদ্মাসেতু উদ্বোধন করে আমাদের আত্মমর্যাদা ও সক্ষমতার যে প্রমাণ দিলেন, তাতে আমরা আশাবাদী অচিরেই তিনি তিস্তা ব্যারেজকে অগ্রাধিকার প্রকল্প তালিকায় স্থান দিয়ে দ্রুত এটি বাস্তবায়িত করবেন। তাহলে এ জনদুর্ভোগ থেকে অনেকাংশেই বাঁচা যাবে। আর আমরা আমাদের প্রয়োজন মতো শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানিকে ব্যবহার করতে পারব। এ বন্যার পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নদনদী, ও খালবিলগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়া।

স্বাধীনতার পরে আমাদের দেশে নৌপথের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার কিলোমিটার, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬ হাজার কিলোমিটারেরও নিচে। কোথায় হারিয়ে গেল আমাদের দীর্ঘ নৌপথ, অগণিত ছোটবড় নদী, খালবিল, জলাশয়। তিস্তা, করতোয়া, মহানন্দা, আত্রাইসহ ছোটবড় সব নদীর তলদেশই এখন ভরাট হয়ে গেছে। তাই স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কিংবা পানি ধারণ ক্ষমতা উভয়ই হারিয়েছে নদীগুলো। অন্য দিকে ভারতের বিহার অঞ্চলের ৭৪ ভাগ এলাকাই বন্যাপ্রবণ। ১৯৫২ সালে বিহারে যেখানে বাঁধের পরিমাণ ছিল ৬০ কিলোমিটার, এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার। তাই অতিরিক্ত পানি যথাসময়ে বঙ্গোপসাগরে যেতে না পারায় প্রতি বছরই বিহারে বন্যা হয়। আর তার চাপ সামলাতে না পেরে বাংলাদেশও বন্যাকবলিত হয়।

সর্বোপরি এ সমস্যা সমাধান কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। কাজেই বাংলাদেশ ও ভারত উভয়কেই নিজেদের স্বার্থে এগিয়ে আসতে হবে। আর বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া তিস্তা ব্যারেজ উন্নয়ন প্রকল্পসহ তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া নদীগুলোর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শিক্ষা ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে কবে? 

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বোঝা নয় 

পারিবারিক সংকটে বিপদে পড়ছে শিশুরা 

অর্থনীতিতে জ্বালানি মূল্যস্ফীতির প্রভাব

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই সমন্বিত উদ্যোগ 

বইপড়ুয়া জাতির তালিকায় নাম নেই কেন?

আশার আলো ‘সৌরবিদ্যুৎ’