শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

এক সময়ের শীর্ষ চরমপন্থি প্রতিবার হজ শেষে বাড়ি ফিরতেন মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে!

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ০৩:১৫

এক সময়ের শীর্ষ চরমপন্থি ছিলেন মতিয়ার রহমান। হজে গিয়ে ভিক্ষা করার সময় সম্প্রতি সৌদি আরবের মদিনাতে পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। মেহেরপুরের গাংনী থানা বলছে, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রতিবার হজে যান তিনি, বাড়ি ফেরেন মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে।

মতিয়ার রহমান মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সিন্দুরকৌটা গ্রামের ঘাটপাড়া এলাকার হারুন অর রশিদের ছোট ছেলে। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে, সবাই পড়াশুনা করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে গাংনী উপজেলার চোখতোলা নামক মাঠে বোমা বানাতে গিয়ে তার দুই হাতের কবজি উড়ে যায়। পরে ডাক্তার তার দুটি হাত কেটে ফেলেন। বিভিন্ন মামলায় তিনি বেশ কিছুদিন জেল খেটেছেন। তারপর থেকে পথে পথে ঘুরে বেড়িয়েছেন দীর্ঘদিন। দুবেলা খাবার জোটাতে পারেননি কখনো। তারপর শুরু হয় মতিয়ারের হজে গিয়ে ভিক্ষা ব্যবসা।

জনা গেছে, প্রতি বারই হজের নামে সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে গিয়ে পথে পথে ভিক্ষা করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এভাবে তিনি কয়েক বছরে ১০ থেকে ১২ বিঘা জমি কিনেছেন। মতিয়ার রহমানের স্ত্রী মমতাজ খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী হজে যান। হজ করে ফেরার সময় প্রতি বারই মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আসেন। আমি তাকে জিগ্যেস করেছি। কিন্তু কোনো সদুত্তর পাইনি। এখন শুনছি সেখানে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেন। এটা তো আমার পরিবার ও ছেলেমেয়েদের কাছে লজ্জার বিষয়।’

ভিক্ষাবৃত্তি করার সময় গত ২২ জুন মদিনা পুলিশ তাকে আটক করে। তিনি সবাইকে বলছিলেন, তার মানিব্যাগটি ছিনতাই হয়ে গেছে। যে কারণে এই কাজ করছেন। পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে আটক করে স্থানীয় থানায় নেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বাংলাদেশ হজ মিশন মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনে।

হজ কাউন্সিলর জহুরুল ইসলাম বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান, মতিয়ার ধানসিঁড়ি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে হজ করতে সৌদি গিয়েছিলেন। তবে বিভিন্ন পত্রিকার বরাতে জানা গেছে, মতিয়ার সৌদিতে কোনো হোটেল বুক করেননি। তাকে গাইড করার মতো কোনো মোয়াজ্জেমও ছিল না।

এদিকে মতিয়ারের হজে যাওয়া নিয়ে গ্রামের মানুষের মাঝে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্থানীয় মটমুড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন জানান, এলাকার মাত্র দু একজন হজে গেলেও মতিয়ার যান প্রতিবারই। এ পর্যন্ত তিনি চার বার হজে গিয়েছেন। কিন্তু কেউ জানত না তিনি হজের নামে ভিক্ষা করেন। মতিয়ার রহমানের বড় ভাই আতিয়ার রহমান বলেন, ‘মতিয়ার আমার ছোট ভাই। সে আটক হওয়ার খবর পেয়েছি। এটা তো আমাদের খারাপ লাগবেই।’

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং মারামরি ও হাঙ্গামার অভিযোগে থানায় দুটি মামলা রয়েছে। হজে যাওয়ার আগেও গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি।

ইত্তেফাক/ইআ