শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নান্দাইলে বেড়েছে পাট চাষ 

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ১৬:১৮

সোনালি আঁশ খ্যাত ফসল পাটের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ময়মনসিংহের নান্দাইলের কৃষকেরা সোনালি আঁশের স্বপ্ন দেখছেন। অল্প খরচে কম সময়ে বেশি লাভের আশায় কৃষকদের পাট চাষের আগ্রহ বেড়েছে।

গত ২ বছর যাবৎ পাটের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষক পাট চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। অনেক কৃষকই বলছেন পাট চাষিদের সুদিন ফিরেছে। সোনালি আঁশ পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিভিন্ন গ্রাম ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ব্যাপকভাবে সোনালী আঁশের আবাদ হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তারমধ্যে দেশি ২০০ হেক্টর, তোষা-১৫০ হেক্টর, কেনাফ-১২০০ হেক্টর ও মেসতা জাতীয় পাট আবাদ হয়েছে ৫ হেক্টর জমিতে। 
 
গত বছর আবাদ হয়েছিল ১১৯৫ হেক্টর জমিতে। গত বছরের চেয়ে এবার ৩৬০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। 

সরেজমিন উপজেলার চরকোমরভাঙ্গা, বীরকামট খালী, লোহিতপুর, চরকামট খালী, হাটশিরা ও কালিবাড়ির চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকের মাঠে মাঠে চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ। চারিদিকে শুধু পাটক্ষেত। সামান্য বাতাসে দুলছে পাটের কচি ডগা।

উপজেলার বীরকামট খালী গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে ৪০ শতক জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি। একই গ্রামের কৃষক শরাফ উদ্দিন বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। পাট উৎপাদন হয় প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ। যার বাজারদর সর্বনিম্ন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

পাট চাষি আ. কাদির, রশিদ, মালেক, শহীদ, শামছ উদ্দিন, হাসিম উদ্দিন জানান, অন্যান্য কৃষি ফসলের তুলনায় পাটের আবাদে খরচ কম হয়। পাটের বাজার দামও বেশি। তাই আমরা এই বছর অধিক জমিতে পাটের আবাদ করেছি।

নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, আমরা কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে দেখাশোনা করায় ফলন ভালো হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা ও ভর্তুকি কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ায় তারা আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে পাটের চাহিদা ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে পাট চাষ দিন দিন বাড়ছে।

ইত্তেফাক/এআই