বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ

আপডেট : ২৯ জুন ২০২২, ০১:৩০

চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়বে শিগগিরই। বর্তমানে সর্বোচ্চ ১৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৯ দশমিক ৫ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়ছে। এই অতিরিক্ত লম্বা ও গভীরতার জাহাজ বন্দরের জেটিতে ভেড়ার ফলে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কন্টেইনারবাহী জাহাজ সরাসরি কর্ণফুলী চ্যানেল দিয়ে জেটিতে পৌঁছে যাবে। এতে করে দেশে আমদানি পণ্যের মূল্য সাশ্রয়ী প্রভাব পড়বে।

গত এক বছর ধরে ইংল্যান্ডের এইচআর ওয়েলিং ফোর্ড নামে একটি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী নদীর সার্বিক অবস্থার ওপর জরিপ চালায়। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক প্রতিবেদন চট্টগ্রাম বন্দরকে দিয়েছে। এতে বলা হয়, কর্ণফুলী নদীতে সহজেই সাড়ে ১০ মিটার গভীরতার এবং ২১০ মিটারের চেয়ে বেশি দৈর্ঘ্যের জাহাজ আসতে পারবে। প্রতিষ্ঠানটি নেভিগেশন সিমোলেশনের মাধ্যমে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই মতামত দেয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মতামত এবং জাহাজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজের বন্দর জেটিতে আসার অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ওয়েলিং ফোর্ডের চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই তা কার্যকর করা হবে। জানা গেছে, আগামী মাসের মধ্যে ওয়েলিং ফোর্ড তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট পেশ করবে। মূলতঃ এইচআর ওয়েলিং ফোর্ড ২০২১ সালের জুন থেকে কর্ণফুলী নদীর হাইড্রোলজিকেল অ্যান্ড মরফোলজিকেল সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু করে। প্রায় ১১ লক্ষ ডলার ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর বর্তমান পলি পড়ার হার, নদীর দুই পাড়ে কী ধরণের প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প গড়ে তোলা বাঞ্ছনীয়, কর্ণফুলী নদী ঘিরে বন্দরের সম্প্রসারণ, নদীর গতি-প্রকৃতিতে করণীয়সহ মোহনা থেকে জেটি পর্যন্ত বর্তমানে থাকা ড্রাফট অনুযায়ী জাহাজের চলাচলের বিষয়ে সমীক্ষা রিপোর্ট দেওয়ার জন্য এইচআর ওয়েলিং ফোর্ডকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ওয়েলিং ফোর্ড তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে আরো বেশ কিছু মতামত ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তার জেটি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নদীর অপর পাড়ে দেশের একমাত্র টানেল সংলগ্ন এলাকায় জেটি নির্মাণ করতে পারে। তাছাড়া চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দর সড়ক সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়ার চর এলাকায় কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ করা যুক্তিযুক্ত বলে মতামত দেয়া হয়। প্রতিবেদনে আঞ্চলিক ও সার্ক দেশসমূহের মধ্যে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করতে পতেঙ্গা সড়ক সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে আলাদা জেটি নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। সূত্রে জানা যায়, উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কর্ণফুলী নদীর উভয় পাড়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে উঠা বিভিন্ন ধরণের প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট মতামত প্রদান করবে। কারণ কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন এলাকায় জেটি, ডক, বিভিন্ন ধরণের শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কী ধরণের শিল্প ও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠা দরকার তা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যাবে বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম আরিফুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের কয়েকজন পাইলট ইংল্যান্ডে কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলের ন্যায় সিমোলেটারে ২১০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটে জাহাজ চালিয়ে দেখবে। তিনি বলেন, পোস্ট পানাম্যাক্স জাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতার আলোকে তারা পরবর্তীতে ওই দৈর্ঘ্যের ও ড্রাফটের জাহাজ চট্টগ্রাম কর্ণফুলী চ্যানেলে চালিয়ে জেটিতে নিয়ে আসবে।

ইত্তেফাক/ইআ