জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটে চালু হচ্ছে না বার্ন ইউনিট

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২২, ০৫:০০

অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও উপকরণের অভাবে বগুড়ার ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের বার্ন ইউনিট চালু করা যাচ্ছে না। বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ টি এম নুরুজ্জামান বলেন, বার্ন ইউনিট স্থাপনের জন্য ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে নবনির্মিত ভবন হস্তান্তর করা হয়। এতে বার্ন ইউনিটের জন্য ১০ শয্যাবিশিষ্ট দুইটি বিশেষায়িত ওয়ার্ড, অস্ত্রোপচার কক্ষ, পর্যবেক্ষণ ইউনিট, চিকিৎসকদের বিশ্রামকক্ষ, কর্তব্যরত চিকিৎসকদের চেম্বারসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। ভবন বুঝে নেওয়ার পর থেকেই বার্ন ইউনিট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, অস্ত্রোপচার কক্ষসহ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চেয়ে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দফায় দফায় চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত চিকিৎসক, সেবিকা ও স্বাস্হ্যকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়নি। কোনো যন্ত্রপাতিও বরাদ্দ মেলেনি। বার্ন ইউনিট চালুর জন্য এ পর্যন্ত পাঁচ দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ মাস দু-এক আগেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক আরো বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। তখন বার্ন ইউনিটের ভবনে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপন করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট চালুর জন্য মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল প্রশাসন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একটি চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। এতে বার্ন ও সার্জারি বিষয়ে একজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, বার্ন ও সার্জারির দুই জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, দুই জন সহকারী রেজিস্ট্রার, চার জন আইএমও (ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার), চার জন চিকিত্সা কর্মকর্তা, দুই জন অবেদনবিদ, ১৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, ১২ জন অফিস সহায়ক, ১২ জন ওয়ার্ডবয় ও আট জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টির আবেদন করা হয়েছে।

বর্তমানে বগুড়া ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আগুনে পোড়া ও অ্যাসিডদগ্ধ রোগীর চিকিৎসাসেবা চলছে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সার্জারি বিভাগের দুটি কক্ষকে আপাতত বার্ন ইউনিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রশিক্ষিত ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় পোড়া রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় ১০ শতাংশ রোগীকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, সার্জারি বিভাগের ১৬ শয্যাবিশিষ্ট দুটি কক্ষে পোড়া রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া হয়। প্রতি মাসে গড়ে ৬০ জন এবং বছরে ৭২০ পোড়া রোগী চিকিত্সাসেবা নিতে আসেন তাদের হাসপাতালে। প্রশিক্ষিত জনবল ও উপকরণের অভাব রয়েছে। ফলে আগুনে বেশি পোড়া রোগী এলে চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব হয় না।

ইত্তেফাক/এএইচপি