শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পোলট্রি খাদ্যের দাম বাড়ায় বন্ধ হচ্ছে খামার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২২, ০৪:২০

দফায় দফায় ফিডের দাম বাড়ায় চরম সংকটে নেছারাবাদের (স্বরূপকাঠি) পোলট্রি শিল্প। লোকসান গুনতে গুনতে গত এক বছরে বন্ধ হয়ে গেছে তিন শতাধিক পোলট্রি খামার। বাকিগুলোও চলছে খুঁড়িয়ে  খুঁড়িয়ে। পোলট্রি খাদ্যের মুল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সম্প্রতি স্বরূপকাঠিতে মানববন্ধন করেছে পোলট্রি মালিক এসোসিয়েশন।

একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। এ সময় তারা বলেন, একটি ডিম উত্পাদনে খরচ হয় ৯ টাকা। বিক্রি করতে হচ্ছে ৮ টাকা ৭০ পয়সায়। ডিম প্রতি ৩০ পয়সা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এছাড়া ৩৫ দিন ব্রয়লারের বাচ্চা লালনপালন করে মাংসের উপযোগী করে তুলতে খরচ ১২০ টাকা হলেও খামারিদের বিক্রি করতে হচ্ছে ১১০/১১৫ টাকা কেজি দরে এবং ২৫ সপ্তাহ লেয়ার মুরগি ডিম পাড়ার আগ পর্যন্ত ৭৫০ টাকার মতো খরচ হয়। এজন্য খামারিরা পোলট্রি খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছেন।

জানা গেছে, ১৯৮২ সালে মাহমুদকাঠি গ্রামের মো. কবির হোসেন প্রথম এ উপজেলার পোলট্রি শিল্পের গোড়াপত্তন করেন। এরপর থেকে অগ্রসরমান এ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সুত্রে জানা যায়, স্বরূপকাঠিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পোলট্রি খামার রয়েছে। এর মধ্যে লেয়ার ৯২০, ব্রয়লার ২৮০, সোনালি ২২০টি।

স্বরূপকাঠির পোলট্রি মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ মো. বখতিয়ার বলেন, অনেক শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তরা বেকারত্ব ঘোচাতে ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পোলট্রি খামার করেছিলেন। এখন অনেক খামারি লোকসানের কবলে পড়ে মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তিন শতাধিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি পোলট্রি খামারিদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন, চলতি বছর ১৩ বার খাদ্যের দাম বেড়েছে। গত বছর জুনে এক বস্তা (৫০ কেজি) মুরগির খাবার ১ হাজার ৯৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এই একই খাদ্য বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮৪০ টাকায়। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগবালাইয়ে প্রতি বছর অনেক মুরগি মারা যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন খামারিরা। আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে করোনাকালীন খামারিদের প্রণোদনার যে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান অনেক খামারি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ বলেন, পোলট্রি খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। করোনাকালিন ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে লাইফ ষ্টোক এন্ড ডেইরী ভেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এলডিডিপি) আওতায় খামারীদের মোবাইলের মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল। পোলট্রি খাদ্যের দাম বাড়ায় গত এক বছরে দেড় শতাধিক পোলট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

ইত্তেফাক/ইআ