আলম খান বাংলাদেশে অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা। ১৯৭০ সালে প্রথম চলচ্চিত্রকার আব্দুল জব্বার খান পরিচালিত ‘কাচ কাটা হীরে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এককভাবে সংগীত পরিচালনা শুরু করেন। তার সুর করা প্রথম জনপ্রিয় গান ‘স্লোগান’ ছায়াছবির ‘তবলার তেড়ে কেটে তাক’।
১৯৭৭ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন তার পরিচালিত ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রের গান নিয়ে কথা বলার সময় তার ১৯৬৯ সালের সুর করা একটি মুখরা শোনালে ছবির পরিচালক তা নিতে আগ্রহী হন।
১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবির আবদুল জব্বারের কণ্ঠে ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি তার এক অনন্য সৃষ্টি।
এরপর ১৯৮২ সালে ‘রজনীগন্ধা’ চলচ্চিত্রে সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো’ ও ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রের সৈয়দ শামসুল হকের লেখা এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ দর্শকদের মনোযোগ কাড়ে। ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রের জন্য আলম খান অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
১৯৮৫ সালে তার সুর করা ‘তিন কন্যা’ চলচ্চিত্রের ‘তিন কন্যা এক ছবি’ গান দিয়ে প্লেব্যাক শুরু করেন বলিউডের সংগীতশিল্পী কুমার শানু।
আলম খানের সুর ও সংগীত পরিচালনায় সৃষ্ট অসংখ্য গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো-
‘ওরে নীল দরিয়া
‘হীরামতি হীরামতি ও হীরামতি’
‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস’
‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো গন্ধ বিলিয়ে যাই’
‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’
‘কি জাদু করিলা পিরিতি শিখাইলা’
‘বুকে আছে মন’
‘তুমি যেখানে আমি সেখানে’
‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’
‘ভালোবেসে গেলাম শুধু’
‘চাঁদের সাথে আমি দেবো না তোমার তুলনা’
‘আমি একদিন তোমায় না দেখিলে’
‘আজকে না হয় ভালোবাসো আর কোনওদিন নয়’
‘তেল গেলে ফুরাইয়া’
‘আমি তোমার বধূ তুমি আমার স্বামী’
‘জীবনের গল্প বাকি আছে অল্প’
‘মনে বড় আশা ছিল’
‘দুনিয়াটা মস্ত বড়’
‘ও সাথীরে যেও না কখনো দূরে’
‘বেলি ফুলের মালা পরে’
‘কাল তো ছিলাম ভালো’
‘ওরে ও জান আমারই জান’
‘চুমকি চলেছে একা পথে’
‘ভালোবাসিয়া গেলাম ফাঁসিয়া’
‘তুমি কি এখন আমারই কথা ভাবছো’
‘আকাশেতে লক্ষ তারা চাঁদ কিন্তু একটাইরে’
‘তিন কন্যা এক ছবি’

