ধলাই, লাঘাটা নদীসহ কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে উৎপন্ন হওয়া খাল-ছড়া-হাওর-বিল ও জলাশয়ের তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে এসব নদী, খাল-বিলের পানি ধারণ ক্ষমতা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। অল্প বর্ষণেই উজান থেকে ঢল নেমে নদী, খাল, ছড়া উপচে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। অন্য দিকে মাছ শিকারে বাঁশের বেড়া (খাঁটি), বাঁধ, কারেন্ট জাল স্নাপনসহ নানা অপরিকল্পিত কার্যক্রমে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারত থেকে বেরিয়ে আসা ধলাই নদী কমলগঞ্জ উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রায় ৫৭ কিলোমিটার এলাকায় আঁকাবাঁকা হয়ে মৌলভীবাজারে মনু নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। একইভাবে লাঘাটা নদীটিও আঁকাবাঁকা হয়ে মনু নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এছাড়া উজানের পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎপন্ন হওয়া অসংখ্য ছড়া ও খাল এই উপজেলার ওপর দিয়ে গেছে। কেওলার হাওর, ছাইয়াখালি হাওর, মকাবিলসহ বেশ কয়েকটি বিল, জলাশয় থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় এবং বৃষ্টিপাতের ফলে উজানের পাহাড়ি ঢল নেমে পলিবালি জমে এসব নদী, খাল, ছড়া, বিল ও হাওরের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। পাশাপাশি হ্রাস পাচ্ছে নদী ও খালের প্রশস্ততাও। পানির ধারণ ক্ষমতা না থাকার ফলে নদী ভাঙন, নদী ও খালের বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে রাস্তাঘাট, কালভার্ট, কৃষিখেত, বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
ইউপি সদস্য মো. তোয়াবুর রহমান, লাঘাটাছড়া পাবসস লি.-এর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানসহ স্থানীয় সচেতন মহল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে লাঘাটা নদীর নিম্নাঞ্চলে পুনঃখনন হয়েছে। ফলে কৃষদের সমস্যা কিছুটা লাঘব হয়েছে। তবে গত কয়েক দশক ধরে উপজেলার নদী-খাল ও ছড়াসমূহ খনন, সংস্কার ও ড্রেজিং না করার কারণে তলদেশ ভরাট হচ্ছে। তারা আরো বলেন, একটি অসাধু মাছ শিকারি চক্র লাঘাটা, পলক নদীতে ফেলা বাঁশের খাঁটি (বেড়া), বাঁধ দিচ্ছে। বিল-জলাশয়ে কারেন্ট জাল ফেলে পরিবেশের ক্ষতি করছে। কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উজানের ঢলে পলি-বালি জমে উপজেলার নদী, খাল, বিল ও ছড়া ভরাটের ফলে পানি ধারণ ক্ষমতা পূর্বের চেয়ে অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। এগুলো খনন ও সংস্কার করা গেলে কৃষিক্ষেতে সেচের সুবিধা, প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সার্বিকভাবে উপকার হবে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী ইত্তেফাককে বলেন, পলি-বালি জমে ধলাই নদীর তলদেশ প্রায় ৬০ শতাংশ ভরাট হয়ে গেছে। তাছাড়া লাঘাটা নদীতে মাছ শিকারের জন্য বাঁশের খাটি (বেড়া), বাঁধ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। এসব উচ্ছেদ করা না গেলে জনগুরুত্বপূর্ণ এসব নদী খনন ও সংস্কার করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরো বলেন, এ বছর ধলাই ও লাঘাটা নদীর বিভিন্ন স্থানে খনন ও সংস্কারের উদ্যোগে নেওয়া হচ্ছে।
