বেকারত্ব কমাবে ফ্রিল্যান্সিং

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২২, ০৯:৩৩

চাকরির বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের সমন্বয়হীনতার জন্যই মূলত বেকারত্বের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২২ লাখ তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করে, যাদের সিংহভাগই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে উঠে এসেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের ৬৬ শতাংশ বেকারত্বের শিকার। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের হারও নেহাত কম নয়।

আরেক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে স্নাতক বেকারের সংখ্যা প্রায় ৪৬ শতাংশ। এভাবেই বেড়ে চলেছে দেশের বেকারত্ব, বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারের হার। এই ভয়াবহ বেকারত্ব সমস্যা কিছুটা হলেও কমাতে পারে ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্ত পেশা। এর ফলে স্বাবলম্বী হতে পারবে একজন বেকার তরুণ ও তার পরিবার।

ফ্রিল্যান্সিং হলো মুক্ত পেশা। ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের বা প্রতিষ্ঠানের কাজ করে অর্থোপার্জন করাই মূলত ফ্রিল্যান্সিং। স্বাধীনভাবে কাজ করা যায় বলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে এই পেশা। ফাইবার, ফ্রিলান্সিং ডটকম, আপওয়ার্ক ইত্যাদি হচ্ছে ফ্রিলান্সিংয়ের জন্য জনপ্রিয় ওয়েবসাইট। এ ওয়েবসাইটগুলোতে মানুষ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে অর্থোপার্জন করছে, যার মধ্যে রয়েছে ডাটা এন্ট্রি, কনটেন্ট রাইটিং, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, এফিলিয়েট মার্কেটিং, এসইও, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি।

ফ্রিল্যান্সিং করে এক দিকে যেমন একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি আর্থিক সচ্ছলতা পায় অন্য দিকে পড়াশোনার পরবর্তী সময়ে আর বেকারত্বের তকমা থাকে না। বাংলাদেশে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পড়াশোনা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করে; কিন্তু চাকরি সবার ভাগ্যে থাকে না। যার ফলে তার মধ্যে হতাশা কাজ করে এবং বেকারত্ব সমস্যায় পড়ে। এই গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী যদি নিজেকে তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলে এবং ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে দেয়, বছর পার হতেই সে আর বেকার থাকবে না।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু-বিভাগীয় গবেষণা ও শিক্ষাদান বিভাগ অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউট (ওআইআই)-এর এক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫ লক্ষ ফ্রিল্যান্সার নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ বার্ষিক ১০ কোটি ডলার আয় করছে। এই অপার সম্ভাবনাময় খাতকে সফল করতে সরকার ইতিমধ্যে অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণার ১০ বছর পর সরকার ‘আমার গ্রাম-আমার শহর, সুশাসন’ ও ‘তারুণ্যের শক্তি’—এই তিনটি উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেয়। তাতে ডিজিটাল বিপ্লবের বাস্তবায়ন আরো ‘গতিশীল’ হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের সুযোগ।

আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ৪০ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসডিএফ-এর উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় বেকার যুবক-যুবতীদের ফ্রি ফ্রিলান্সিং ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ৫ লক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি সেবা নিশ্চিত করতে প্রতি জেলায় আইসিটি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। সর্বোপরি, ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। সরকারের যথাযথ বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে এই সম্ভাবনার খাত থেকে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং বেকার সমস্যা দূর করা সম্ভব।

লেখক: শিক্ষার্থী, আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন