মহিউদ্দিন রনির আন্দোলন কি সবার নয়? 

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২২, ০২:৪১

বর্তমানে বাংলাদেশের এক টগবগে তারুণ্যের নাম মহিউদ্দিন রনি, যিনি বাংলাদেশের রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের দাবিতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন একাই! মহিউদ্দিন রনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী। দেশের রেলওয়ের কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যে টিকিট-বঞ্চিত হয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন তিনি। 

জানা গেছে, তিনি ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য চারটি টিকিট কাটার চেষ্টা করেন অনলাইনে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, টিকিট তো পানইনি, বরং একাউন্ট থেকে টিকিটের মূল্য কেটে নেওয়া হয়। পরে কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানালে তারা বলে যে টিকিট ব্লক হয়ে গেছে, তাই টিকিট কাটা যাবে না এবং উক্ত টাকা ১৫ দিন পর ফেরত পাওয়া যাবে। অথচ যেই টিকিটের মূল্য ছিল ৬৮০ টাকা, সেই একই টিকিট ১২০০ টাকায় বিক্রি করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এ যেন ‘দিনের বেলায় ডাকাতি’! এভাবে হাজারো অনিয়মের ভিড়ে রেলওয়ের কালোবাজারি ব্যবসা চলছে দিনের পর দিন। প্রতিদিন যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে হয়রানি, হতে হচ্ছে সমস্যার সম্মুখীন। 

ট্রেনযোগে কোথাও যেতে হলে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না। অথচ সেই টিকিট বিক্রি করা হয় কালোবাজারে, যার মূল্য দিতে হয় দুই-তিন গুণ। তার পরও অনন্যোপায় হয়ে টিকিট কিনতে বাধ্য হয় যাত্রীরা। কিন্তু রনি পুরোপুরি ব্যতিক্রম। তিনি এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন একাই। শিকলে বাঁধা হাতে, প্রতিবাদী গানের সুরে করে চলেছেন প্রতিবাদ। তার প্রতিবাদ ছিল ছয়টি—১. টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সহজ ডটকম কর্তৃক যাত্রী হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, হয়রানির ঘটনায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ২. যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ করতে হবে; ৩. অনলাইনে কোটায় টিকিট ব্লক করা বা বুক করা বন্ধ করতে হবে, সেই সঙ্গে অনলাইন-অফলাইনে টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে; ৪. যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোসহ রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে; ৫. ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক ও তত্ত্বাবধায়কসহ অন্য দায়িত্বশীলদের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক মনিটর, শক্তিশালী তথ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে রেলসেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে; ৬. ট্রেনে ন্যায্য দামে খাবার বিক্রি, বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

উক্ত দাবিগুলো নিঃসন্দেহে ন্যায্য দাবি, যা আদায় করা গেলে বাংলাদেশ রেল‌েওয়ে সেক্টরে কালোবাজারি কমবে। মানুষ স্বস্তি বোধ করবে। বাস্তবিক অর্থে দাবিগুলো শুধু রনির একার নয়; দাবিগুলো আমজনতার। বলতেই হয়, আজ পর্যন্ত এসবের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ হয়নি বলেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে চুরি, কালোবাজারির রঙ্গমঞ্চ! রনির এই আন্দোলন শুধু তার একার নয়, সমগ্র দেশবাসীর আন্দোলন এটি। সময় এসেছে, রনির পাশে দাঁড়িয়ে নিজের অধিকার আদায় করার। রেলওয়েতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে চাইলে সবাইকে রনির পাশে দাঁড়ানো উচিত, তার প্রতিবাদে শামিল হওয়া উচিত। তাহলেই হয়তো রনি জিতে যাবেন, রনিরা জিতে যাবেন; ধ্বংস হবে কালোবাজারি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় কালোবাজারি, দালাল, অপকর্মকারীদের দেখতে চাই না আমরা।

লেখক :শিক্ষার্থী, এমসি কলেজ, সিলেট

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন