রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় সচেতনতা জরুরি 

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২২, ০২:৪৮

এমন একটা সময় ছিল যখন ঘরবাড়িতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে কাটাতে হতো সবাইকে। কিন্তু দেশের অকল্পনীয় উন্নয়নের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে শুধু শহরে নয়, মফস্বলেও অন্ধকারে ফোটে আলো। দেশের সর্বত্র শতভাগ বিদ্যুতের জোগান নিশ্চিত করে সরকার। তবে বৈশ্বিক সংকটের কারণে বেশ কিছুদিন যাবত লক্ষ করা যাচ্ছে, বিদ্যুতের উৎপাদন হ্রাস। যার ফলে সারা দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। তাই বিদ্যুৎ শক্তির ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন কারখানায় চরমভাবে উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে দেখা দিতে পারে চরম মন্দাভাব। কেননা, দেশের বিভিন্ন খাতের পণ্য উৎপাদনে বৈদ্যুতিক শক্তি মূল নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাসের মূল কারণ হচ্ছে জাতীয় সম্পদের অপচয়। বিশেষ করে অতিমাত্রায় বিদ্যুতের অপচয় লক্ষ করা যায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে। যেখানে অযথা লাইট, ফ্যান, এসিসহ বিভিন্ন ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়াও শহরের বাসাবাড়িতে অত্যধিক মাত্রায় টিভি, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, হিটার, ইস্ত্রিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার হয়ে থাকে, যেগুলো বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্য দায়ী। এছাড়াও রান্নার কাজের জন্য অপ্রয়োজনীয় গ্যাসের ব্যবহার করে থাকে শহরাঞ্চলের মানুষজন। এমনকি কাপড় শুকানোর কাজেও দীর্ঘসময় ধরে চালিয়ে রাখে বৈদ্যুতিক ফ্যান। গ্রামাঞ্চলেও এখন একই রূপ ধারণ করেছে। শহরাঞ্চলের ছোঁয়া লাগাতে গিয়ে আধুনিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে গ্রামের মানুষজন। যেখানে প্রয়োজনের অধিক সময় টিভি, ফ্রিজের ব্যবহার করে তারা। এছাড়াও বাসায় ফ্যান, লাইট চালু রেখে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে গ্রামের মানুষজন। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিভিন্ন দিকে আলোকসজ্জা করা হয় যেটা অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্য দায়ী। 

এহেন অবস্থায় লাইট, ফ্যান কিংবা এসি কম ব্যবহার করে বাইরের আলো প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা করা, ওয়াশিং মেশিনের ব্যবহারের পরিবর্তে হাতে কাপড় কাচা, কাপড় ইস্ত্রির জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে দোকানে কয়লার দ্বারা চালানো ইস্ত্রি ব্যবহার। এছাড়াও বাইরে বের হওয়ার সময় বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ করে বের হওয়া, প্রয়োজনের অধিক জ্বালানি গ্যাস ব্যবহার না করার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ তথা জরিমানা আরোপের ব্যবস্থা কড়াকড়ি করা উচিত। পরিশেষে বলতে হয়, সরকারের একার পক্ষে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই দেশে সুনাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসা এবং নিজে সচেতন হওয়া ও অন্যজনকে সচেতন করার মাধ্যমে দেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত সম্ভব হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন