বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দাবদাহ চলছে। তীব্র দাবদাহে পুরো ইউরোপ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শত শত লোক দাবদাহে আক্রান্ত, অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। দাবদাহে বিভিন্ন দেশে প্রায়শই বনে আগুন লেগে বন উজাড় হচ্ছে। বাংলাদেশেও দাবদাহে অনেক লোক অসুস্থ, অনেকে মারাও গেছেন। দেশের শ্রমজীবী মানুষেরাই, বিশেষ করে রোদে কাজ করা ঠেলাগাড়ি চালক, ফসলের মাঠে কর্মরত কৃষক, রিকশা, ভ্যানচালক, ইত্যাদি পেশাজীবী চলমান দাবদাহে বেশি বিপন্ন।
পৃথিবীর তাপের মূল উৎস হলো সূর্য। সূর্য একটি বিশালাকার উত্তপ্ত অগ্নিকুণ্ড। নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন পুড়ে সূর্যের বুকে প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টি হয়। আর এ তাপ ছড়িয়ে পড়ে সূর্যের চারপাশে। পৃথিবীতে এ তাপ পৌঁছে যেমন আমাদের পৃথিবীকে করেছে সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা এবং ঘটিয়েছে ছোটবড় বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমাহার তেমনি সূর্যের তাপের প্রচণ্ডতায় পৃথিবীর অনেক জায়গা হয়েছে গাছপালাবিহীন, জনমানবিহীন ও প্রাণীশূন্য ঊষর বালুকাময় মরুভূমি। পাশাপাশি আবার সুদীর্ঘকাল সূর্যতাপ না পৌঁছার কারণে বিশ্বের মেরু অঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ বিরান ভূমি বরফের রাজ্যে পরিণত হয়ে আছে।
তাপ একটি শক্তি, যা গ্রহণে বস্তু উত্তপ্ত হয় এবং বর্জনে বস্তু শীতল হয়। সাধারণভাবে বলতে গেলে উষ্ণতা হলো কোনো বস্তুর ওপর তাপশক্তির প্রভাবে ফারেনহাইট বা সেলসিয়াস অথবা অন্য কোনো এককের পরিমাপে ঐ বস্তুর গরম বা ঠান্ডার একটি অবস্থা বা তাপীয় মাত্রা। উষ্ণতা উচ্চ তাপমাত্রার বস্তু থেকে নিম্ন তাপমাত্রার বস্তুর দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রবাহিত হয়। মহাবিশ্বে তাপের পরিমাণের মাত্রায় বৈচিত্র্য প্রবল। মহাবিশ্বে মাত্র তিন কেলভিন (যেমন, মহাশূন্যে) (১ কেলভিন = -২৭৩ দশমিক ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে ৩,৫০০,০০০,০০০ কেলভিন (যেমন, একটি সুপারনোভায়) পর্যন্ত তাপ বিদ্যমান রয়েছে। আমাদের সূর্যের গড় তাপমাত্রা ৫৬০০ কেলভিন। তাত্ত্বিকভাবে অ্যাবসোলিউট জিরো (Absolute Zero) হলো শীতলতম তাপমাত্রা। এ তাপমাত্রায় পৌঁছাতে কোনো বস্তুর তাপের প্রয়োজন হয় না। কোনো বস্তুর পরমাণুগুলোর সঞ্চালনের হারের ওপর ঐ বস্তুর তাপমাত্রার পরিমাণ নির্ধারিত হয়। বstuতে পরমাণুগুলো যত বেশি দ্রুত সঞ্চালিত (নড়াচড়া) হবে তাতে তত বেশি তাপ উৎপন্ন হবে। তাপ পৃথিবীর জলবায়ুর অন্যতম নিয়ামক।
সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের মতোই পৃথিবীর জলবায়ুতেও তাপমাত্রার চরম ভিন্নতা (তারতম্য) পরিলক্ষিত হয়। অ্যান্টার্কটিকার বেশ কিছু উচ্চ স্পট রয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে ৮৮º সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়। আবার আফ্রিকার কিছু স্পট রয়েছে যেখানে তাপমাত্রা বেড়ে ৫৫º সেলসিয়াসকেও অতিক্রম করে। ১৯৯২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার আজিজিয়াতে পৃথিবীপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৫৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ১৯৮৩ সালের ২১ জুলাই অ্যান্টার্কটিকার বোস্টক স্টেশনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ৮৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এ ধরনের চরমভাবাপন্ন অবস্থা খুব বেশি জায়গায় নেই—পৃথিবীর কতিপয় নির্দিষ্ট অবস্থানেই লক্ষ করা যায়। সাধারণভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা সুসহনীয় মাত্রায়ই বিরাজমান। জলবায়ুর এ তারতম্যের সঙ্গে অভিযোজনের প্রয়োজনেই সম্ভবত জীবদেহের তাপমাত্রায়ও চরম ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসেও যেমন স্বাভাবিকভাবে অনেক জীব জীবনযাপন করতে পারে, তেমনি ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বা ততোধিক তাপমাত্রায়ও কিছু জীব স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যেতে পারে।
তাছাড়া, তাপমাত্রার চরম অবস্থায়ও স্বাভাবিক জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া আশ্চর্য হওয়ার কিছু নয়। উদাহরণস্বরূপ, কিছু শৈবাল আছে যেগুলো ৭০-৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উত্তপ্ত স্রোতধারায়ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকে। আবার মেরু অঞ্চলের চিরস্থায়ী বরফের মধ্যে জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। কিছু আদিম প্রাণী (রটিফার এবং টারডিগ্রে্রড্স) এবং স্পোরস (ক্ষুদ্র ব্যাকটিয়ার অণুজীব) চরম শূন্য তাপমাত্রা যথা— ২৭৩º ডিগ্রি সেলসিয়াসেও বেঁচে থাকতে পারে। কিছু কিছু কীটপতঙ্গ, এদের ডিম ও বাচ্চা উত্তর মেরুসংলগ্ন দেশগুলোতে পুরো শীতে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খোলা আকাশের নিচে বেঁচে থাকে। পরীক্ষাগারে দেখা গেছে, এরা মাইনাস ৮০ থেকে মাইনাস ২৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়ও জীবিত থাকে। আবার কোনো কোনো প্রাণিপ্রজাতির তাদের জন্মভূমিভেদে ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রায় বেঁচে থাকার নজিরও আছে, যেমন আর্কটিক সাগরের Terebellied Worms জাতের কীট মাত্র ছয়-সাত ডিগ্রির বেশি গরম সহ্য করতে পারে না। পক্ষান্তরে দক্ষিণ বিশ্বের (Southern hemispheres) Terebellied Worms ভারত মহাসাগরে ২৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায়ও দিব্যি ঘুরে বেড়ায়।
জীবজগতের প্রতিটি জীবেরই কিছু নির্দিষ্ট ক্রমের (Range) তাপমাত্রায় বেঁচে থাকার সক্ষমতা থাকে। একটি নির্দিষ্ট ক্রম (Range)-এর তাপমাত্রার অধিক বা কম হলে কেন কোনো নির্দিষ্ট জীব বেঁচে থাকতে পারে না? এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সবার মনে আসে। তাপমাত্রাসহ পরিবেশগত অভিযোজন ক্ষমতা প্রতিটি জীবের জিনগত গঠন বৈশিষ্ট্যে নিহিত। তাপবস্তুর অভ্যন্তরে সঞ্চালন (পরমাণুর নড়াচড়া) নিয়ন্ত্রণ করে। জৈবিক বস্তুর ক্ষেত্রেও তাপ পরমাণুর সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। তাপ কমে গেলে পরমাণুর সঞ্চালন কমে যায় এবং এতে কোষের অভ্যন্তরে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়াও কমে যায়। ফলে জীবদেহের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম যেমন, খাদ্য পরিপাক, কোষ অভ্যন্তরে শক্তি উৎপাদন ইত্যাদি ব্যাহত হয় এবং এক পর্যায়ে জীবটি তার জৈবিক ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নিচে চলে গেলে কোষ অভ্যন্তরের পানি জমে বরফ হয়ে যায় (Freeze) এবং যেহেতু তরল পানির মাধ্যমেই কেবল সব জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া সম্ভব তাই পানি-তারল্যের অভাবে জৈবিক কর্মকাণ্ড স্তিমিত হয়ে যায়। আবার ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় কোষে তার জীবন সঞ্চালনী আমিষ ও চর্বি গলে যায় এবং কোষ মারা যায়।
মানুষের শরীরের গড় তাপমাত্রা ৩৬-৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৭ দশমিক ৭-৯৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। এ তাপমাত্রাই মানবশরীর রক্ষা করে চলতে চায়। তাপমাত্রা এ সীমারেখার চেয়ে কমে গেলে শরীরে কাঁপুনি হয়, রক্তচাপ দ্রুত কমে যায়, হার্টে কম্পন শুরু হয়, আরো কমে গেলে হার্টরেট কমে যায়, এক পর্যায়ে ঠান্ডায় আক্রান্ত ব্যক্তি ‘কোমা’তে চলে যায় এবং তাপমাত্রা হ্রাস অব্যাহত থাকলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ অবস্থায় মৃত্যু ঘটে। তাপমাত্রা ৬৮ ডিগ্রি ফারেহাইটের নিচে চলে গেলে মোটামুটিভাবে মৃত্যু নিশ্চিত। গড় তাপমাত্রার চেয়ে শরীরে বেশি তাপ হলে শরীর ঘাম ঝরিয়ে, শ্বাসপ্রশ্বাস ও হার্টরেট বাড়িয়ে বাড়তি তাপ বের করে দিয়ে শরীরকে শীতল রাখতে সচেষ্ট হয়। মানুষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৮ দশমিক ১৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত তাপমাত্রা সহনীয়। এর বেশি তাপমাত্রায় শরীরের প্রোটিনের গঠন পরিবর্তন হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। প্রচণ্ড পানি ঘাটতির কারণে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এতে শরীরের কোষগুলো মরা শুরু হয়, হিটস্ট্রোক হয় এবং অন্যান্য অঙ্গ অকার্যকর হয়ে জীবনহানি ঘটে।
সূর্যতাপ পৃথিবীতে পৌঁছে প্রতিফলিত হয়ে আবার মহাশূন্যে ফিরে যায়। কিন্তু বায়ুর উপাদান কার্বন ডাইঅক্সাইডের সাহায্যে হালকা ধরনের মাইক্রো গ্রিনহাউজ তৈরি করে পৃথিবী তার প্রয়োজনীয় পরিমাণ তাপ ধরে রাখে। এতে পৃথিবীর জলবায়ু ও পরিবেশ সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারণ উপযোগী থাকে। কিন্তু বিপত্তি ঘটাল মানুষ নিজেই। মানুষ বেশি খাদ্য ও ভোগবিলাস সামগ্রীর উৎপাদন বাড়াতে গড়ে তুলে শিল্পকারখানা। বিশেষ করে ইউরোপে যখন শিল্পবিপ্লব শুরু হলো তখন থেকেই প্রকৃতির ওপর মানুষের অপঘাত শুরু হলো। ভার্জিন ফরেস্ট কর্তন করে ও ভূগর্ভস্থ ফসিল ফুয়েল অর্থাৎ কয়লা ও খনিজ তেল উত্তোলন করে শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হলো। এক পর্যায়ে অর্থনৈতিক ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লক্ষ্যে পণ্য ও অস্ত্র উৎপাদনের প্রতিযোগিতায় দেশে দেশে ভূগর্ভস্থ ফসিল ফুয়েল ব্যবহার ব্যাপক আকার ধারণ করে।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে পৃথিবীতে গড়ে ৩৩ বিলিয়ন টন ফসিল ফুয়েল পোড়ানো হয়। তন্মধ্যে ৪৪ শতাংশ কয়লা, ৩৪ শতাংশ খনিজ তেল এবং ২১ শতাংশ গ্যাস। কেবল চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত যে পরিমাণ ফসিল ফুয়েল পোড়ায় তা বাকি বিশ্বের সম্মিলিত দেশগুলোর চেয়েও অধিক। এভাবে বিপুল ফসিল ফুয়েল পোড়ানোর ফলে উৎপাদিত মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসে পৃথিবীর বহিরাবরণে কঠিন গ্রিনহাউজ ইফেক্ট তৈরি হয়েছে। ফলে এ গ্রিনহাউজ ভেদ করে সূর্যের তাপ পৃথিবী থেকে প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যেতে পারছে না। এতে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। পৃথিবীর উষ্ণতা (Global Warming) বেড়ে যাওয়ায় মেরু অঞ্চলে, গ্রিনল্যান্ড, সাইবেরিয়া ও হিমালয়সহ বিভিন্ন পর্বতচূড়ায় লক্ষ-কোটি বছর যাবত বরফ জমে থাকা বিশাল বিশাল গ্লোসিয়ারগুলো (Glacier) গলে যাচ্ছে। বরফগলা পানিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। সাগর-তীরবর্তী বিভিন্ন দেশ, নদনদী তীরবর্তী জনবসতি, উর্বর কৃষিভূমি পানিতে ডুবে যাচ্ছে। পৃথিবীর ইকোসিস্টেম ভেঙে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী প্রচণ্ড দাবদাহ, খরা, ভয়াবহ বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোন, সুনামি, দুর্ভিক্ষ, মহামারি প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিচ্ছে অবিরত। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই অনেক দেশই পৃথিবীর মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।
মানুষের অবিমৃশ্যকারিতা ও অতি লোলুপতার কারণে অবিবেচক ও নির্বিচারভাবে আদিপ্রকৃতিকে (Mother Nuture) ধ্বংস করার ফলে আজ মানবজাতি তার নিজের অস্তিত্বকেই মহাবিপন্নের পথে ঠেলে দিয়েছে। অব্যাহতভাবে ফসিল ফুয়েল পুড়িয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপাদনের হার এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে ক্রমবর্ধমান গ্রিনহাউজ ইফেক্টজনিত বিশ্বের জলবায়ুর পরিবর্তন যে পৃথিবীতে জীবনধারণের জন্য অতি বড়ো হুমকি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ মহাবিপর্যয় রোধের লক্ষ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসারণের জন্য দায়ী সকল দেশের শিল্পকারখানায় ফসিল ফুয়েল পোড়ানো বন্ধ করার জন্য বিশ্বব্যাপী সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অতীব জরুরি এবং এ সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
লেখক : সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব
