শ্রমঘণ্টা নষ্ট ও অর্থনৈতিক ক্ষতি 

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ০২:২৭

আত্মকর্মে নিয়োজিত মহামূল্যবান সময় শ্রমঘণ্টা হিসেবে আখ্যায়িত। শ্রমঘণ্টা নষ্ট বর্তমান বাংলাদেশের একটি শীর্ষ সমস্যা। সম্প্রতি জানা গেছে, বাংলাদেশে বছরে ১ হাজার ৪০০ কোটি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়। ঢাকায় যানজটের কারণে প্রতিদিন ৮০ লাখের বেশি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। 

গবেষণা বলছে, এতে আর্থিক ক্ষতি ১৪০ কোটি টাকা। শ্রমঘণ্টার নষ্টের পেছনে রয়েছে যানজট, যা দেশবাসীর জন্য বড় শঙ্কার কারণ। রাজধানীবাসীর কাছে যানজট একটি মূর্তিমান আতঙ্ক। প্রতিদিনের অসহ্য যানজটের কারণে স্থবির হয়ে পড়ে মানুষের জীবন ও জীবিকা। হুমকিতে পড়ে বেঁচে থাকার চিন্তা। তেমনিভাবে চাকরি, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা কিংবা অবরোধ, হরতালের দিনে রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কে দেখা যায় তীব্র যানজট। জীবনাচরণ হয়ে পড়ে স্থবির, মানুষ হয়ে ওঠে নাকাল।

ঢাকাকে বিবেচনা করা হয় মেগাসিটি বা অতিমহানগরী হিসেবে। এখানে জনসংখ্যার বসবাস ২ কোটির বেশি। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ এই শহরে বসবাস করে বলে ধারণা করা হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকায় জনসংখ্যার অনুপাতে রাস্তা বাড়েনি, বরং বেড়েছে যানবাহন। যার ফলে বিপুলসংখ্যক যানবাহনের চাপে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। নগরীর জীবনমান, শিক্ষার উন্নতি ও চিকিত্সাব্যবস্হায় সুবিধা প্রভৃতির কারণে প্রতিনিয়ত রাজধানীতে মানুষের আগমন বাড়ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিশেষ করে বন্যাকবলিত এলাকা, নদী-ভাঙন ও দুর্ভিক্ষ অঞ্চলের গরিব ও অসহায় মানুষের একমাত্র কর্মসংস্থানের জায়গা হিসেবে পছন্দ রাজধানী ঢাকা। সড়ক ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল, যেখানে সেখানে ইচ্ছেমতো গাড়ি পার্কিং, অবৈধ ফুটপাত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ প্রভৃতি যানজট বাড়িয়ে তুলছে। 

রাজধানী জুড়ে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও হাটবাজার গড়ে উঠছে; এর ফলে রাস্তাঘাট সরু হয়ে যাওয়ার ফলে যানজট বাড়ছে দুর্ঘটনা ঘটছে; নষ্ট হচ্ছে শ্রমঘণ্টা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঝরছে তাজা প্রাণ। তাছাড়া সড়কে একদিকে ধীরগতির রিকশা, ভ্যান ও অন্যদিকে দ্রুতগতিসম্পন্ন গাড়ি ও বাস-ট্রাকের যাতায়াতের ফলে গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে; যার ফলে ঘটে দুর্ঘটনা আর দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় শুরু হয় তীব্র যানজট। মোটকথা, এক বেসামাল অবস্থার সৃষ্টি হয় যানজটে। তাছাড়া যানবহন চলাচলে ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করার ফলে যাজটের ঘটনা নিয়মিতই রয়ে গেছে বছরের পর বছর।

ঢাকার রাস্তায় যানবাহন বৃদ্ধির সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে যানজট। নগরীতে সাধারণ মানুষের জন্য একমাত্র ভরসা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট। প্রতিটি বাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। চলমান মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে রাজধানীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর যোগাযোগ স্থাপিত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে, ধীরগতি ও দ্রুতগতিসম্পন্ন যানের ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, এ নিয়ে কাজ করতে হবে। যানজট সমস্যার সমাধান করতে পারলেই রক্ষা পাবে জনগণ। এর ফলে আর নষ্ট হবে না রাজধানীতে বসবাসরত মানুষের শ্রমঘণ্টা। উপরন্তু তা দেশের সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান সহায়ক হয়ে উঠবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন