খুলনায় চাষের আওতায় আসছে পতিত জমি

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২২, ০৯:৩৫

খুলনায় প্রতি বছরই চাষের আওতায় আসছে পতিত জমি। এছাড়া এক ফসলি জমি দ্বিফসলি, তিন ফসলি এবং চার ফসলি জমিতে রূপান্তর হচ্ছে। ফলে বাড়ছে আবাদ সেই সঙ্গে বাড়ছে খাদ্য উৎপাদনও। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, খুলনা জেলায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬১৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। ঐ অর্থবছরে খাদ্য উৎপাদন হয় ৬ লাখ ৬১ হাজার ৮৪৯ মেট্রিক টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৩৯ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এ অর্থবছরে খাদ্য উৎপাদন হয়েছে ১১ লাখ ১৩ হাজার ১৮৩ মেট্রিক টন। এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক ফসলি জমি দ্বি-ফসলি, দ্বিফসলি জমি তিন ফসলি এবং তিন ফসলি জমি চার ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হওয়ায় ফসলের নিবিড়তা ছিল শতকরা ১৪২ ভাগ। ২০২০-২১ অর্থবছরে নিবিড়তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতকরা ১৭৬ ভাগ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাত্র চার বছরে খুলনা জেলায় নতুন চাষের আওতায় এসেছে ৪৯ হাজার ২১ হেক্টর জমি। খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৩৩৪ মেট্রিক টন। এছাড়া ফসলের নিবিড়তা বেড়েছে শতকরা ৩৪ ভাগ। অর্থাৎ আবাদ ও খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। 
ডুমুরিয়া উপজেলার শিবনগর এলাকার কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, লোনা পানির কারণে একসময় আমার অনেক জমি বছরের পর বছর পতিত থাকত। এখন ঐ জমিগুলোতে নতুন জাতের ধান চাষ করছি। একই উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলামিন শেখ বলেন, শোভনা, খর্ণিয়া, আটলিয়া, রুদাঘরাসহ প্রতিটি ইউনিয়নে ধান ও শাকসবজির আবাদ অনেক বেড়েছে। এছাড়া মৎস্য ঘেরের আইল ও বসতবাড়ির আঙিনায় বেড়েছে সিজন ও অফসিজন সবজি চাষ।

তেরখাদা উপজেলার বাসিন্দা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতা থাকায় এ উপজেলায় অনেক জমি পতিত থাকত। কিন্তু এখন ডোবা বা জলাবদ্ধ বিলে ভাসমান সবজির চাষ হচ্ছে। অনেকে ডোবা বিলে ঘের করে আইলে সবজি চাষ এবং ঘেরে মাছ ও ধান চাষ করছে। রূপসা উপজেলার কৃষক হামিদ আলী জানান, তার পাঁচ বিঘা কৃষি জমি রয়েছে। এর মধ্যে দুই বিঘা জমিতে একটি ফসল উৎপাদন করা যেত। এখন অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সেখানে দুই-তিন বার ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে। ফলে তিনি লাভবান হচ্ছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, এ উপজেলায় প্রতি বছর গড়ে অন্তত ১৫০ হেক্টর পতিত জমি নতুন চাষাবাদের আওতায় আসছে। পতিত জমিতে বেশির ভাগ কৃষক সরিষা ও তরমুজ উৎপাদন করছে। বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় চার বছর আগে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদন হতো। বর্তমানে সেখানে ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, প্রণোদনা, নতুন জাত উদ্ভাবন, ভালো ফলন ও দাম পাওয়া, মিঠা পানির আধার তৈরি হওয়া এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ায় চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। তারা নতুন নতুন জমি চাষাবাদের আওতায় আনছে। অনেকে এক ফসলি জমিতে দুই বার, তিন বার ও চার বার ফসল উৎপাদন করছেন। তাছাড়া শহরের ছাদবাগানে দেশি-বিদেশি ফলের চাষ করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমআর