শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলা চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরে আসুক 

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ০১:১৯

কেমন আছে আমাদের বাংলা চলচ্চিত্র? ভালো না খারাপ? এ প্রশ্নের উত্তর জানার কমবেশি ইচ্ছা আমাদের সবারই আছে। এদেশের বাংলা চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গ উঠলে সেই ষাটের দশক কিংবা সত্তর, আশি, নব্বইয়ের দশকের সময়গুলো আমাদের চোখের সামনে ভাসে। যে সময়গুলোতে মানুষ প্রচুর বাংলা চলচ্চিত্র দেখত। যদিও এটি নিছক শুধু মানুষের বিনোদনের উৎস ছিল না তখন। বরং তা দেখে মানুষ অনেক কিছু জানতও। বাস্তবজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিনেমা তৈরি হতো। সিনেমার গল্পে সমাজের নানা অসংগতি উঠে আসত। এছাড়া পারিবারিক কাহিনী নির্ভর সিনেমা পরিবারের সবাই মিলে একত্রে বসে দেখত। সেসব চলচ্চিত্রের কি কোনো তুলনা চলে? কিংবা কথাটি এভাবে বললে, আজকের কয়টা চলচ্চিত্র সেসব চলচ্চিত্রের সঙ্গে তুলনা করার মতো?

তবে ভালো সিনেমা নির্মাণ হলে, সিনেমায় মানুষের গল্প বললে, মানুষের জীবনের গল্প বললে তা যে মানুষ গ্রহণ করে, মানুষ দেখে এটা ঠিক। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা এমন কিছু ভালো সিনেমার কথা শুনতে পাচ্ছি; যেগুলো মানুষ দেখছে এবং দেখবে। আর তাই আমাদের সবার মনেই নতুন করে একটা প্রত্যাশা জেগেছে যে, বাংলা চলচ্চিত্র হয়তো আবারও আগেকার সেই সোনালি যুগ ফিরে পেতে পারে। কথাটি যত চট করে বলা গেল কাজটা আসলে সেরকম না। এই কাজ একটু ধীরে সুস্থ হওয়ার। তাছাড়া চলচ্চিত্র শুধু বানালেই হয় না। তাতে সমাজের জন্য, মানুষের জন্য উপকারী বার্তা থাকতে হয়। আমাদের নির্মাতাদেরও এ বিষয়টি বুঝে এগোতে হবে। এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে নির্মাতাদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে হবে।

এটা একটা আশাব্যঞ্জক দিক যে, বর্তমান সরকার চলচ্চিত্রবান্ধব। প্রতি বছর মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকার অনুদান দিচ্ছে; যা এ শিল্পের জন্য সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। এ সুবিধাকে নির্মাতাদের কাজে লাগাতে হবে। মানুষ সবসময় নিজের গল্প দেখতে চায়; নিজের চারপাশের হাসি, কান্নার কাহিনী শুনতে চায়। তাই সিনেমা নির্মাণেও এসবকে প্রাধান্য দিতে হবে।

সত্যি কথা বলতে কি, সময় এখন পালটে গেছে। একটা সময় ছিল যখন ঘরে বসে মানুষ ভিসিয়ারে দেখত বিদেশি ছায়াছবি। ঠিক তেমনি দেশীয় ছায়াছবি দেখতো হলে গিয়ে; দেখত ভিসিয়ারেও। তবে এখন আর তখনকার মধ্যে আসল পার্থক্যটা হলো, সেসময় মানুষের বিদেশি ছায়াছবি দেখার সুযোগ ছিল কম। এখন দেখার সুযোগ বেশি। তাই মানুষ তুলনাও করতে পারছে বেশি। বললে অযৌক্তিক হবে না নিশ্চয়ই, এখন কত দেশের, কত বৈচিত্র্যপূর্ণ গল্পের চলচ্চিত্র মানুষ চাইলে যে কোনো সময় দেখতে পারছে। বলিউড, হলিউড, টালিউড প্রভৃতির নাম আমরা শুনে থাকি। শুনে থাকি আমাদের ঢালিউডের কথাও।

আমাদের এখানে এমন ধরনের একটা কথার প্রচলন আছে যে, বাংলাদেশের বাংলা সিনেমা দর্শক দেখেই না। এই ধরনের কথা কতটুকু সঠিক? দেখার মতো সিনেমা তৈরি হলে দর্শক দেখবে না কেন? অবশ্যই দেখবে। আসলে ছায়াছবিতে যে কোনো গল্প সহজ সাবলীলভাবে বলতে পারলে এবং সেই গল্প যদি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো হয় তাহলে মানুষ আবারও আগের মতোই বাংলা ছায়াছবিতে ফিরবে। ইতিমধ্যে মানুষ ফেরা আরম্ভও করেছে। (কেননা সে ধরনের চলচ্চিত্র এখন তৈরি হচ্ছে। বলা হচ্ছে এ শিল্পে নতুন একটা সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।) এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। এবং সেটা ধরে রাখতে হবে দর্শককে ভালো চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে। আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরে আসুক। এই আমাদের কামনা।

লেখক: শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন