বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জাবির উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন: আওয়ামীপন্থীদের ৩ প্যানেল

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ১৯:৪৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দু’টি সংগঠনের তিনজন করে মোট তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। শুক্রবার (১২ আগস্ট) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য বিশেষ সিনেট সভায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দু’দলে বিভক্ত হয়ে আলাদা প্যানেল ঘোষণা করেছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’। তবে নির্বাচনে বিএনপি ও বামপন্থী শিক্ষকরা প্যানেল দেয়নি।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের নেতৃত্বে একটি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এ প্যানেলের অন্য দু’জন হলেন- বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সভাপতি এবং গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের ডিন অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ্।  

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক হানিফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. খালিদ কুদ্দুসের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ হেল কাফীর নেতৃত্বে একটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্যানেলের অন্য দু’জন হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোতাহার হোসেন এবং সাবেক প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তপন কুমার সাহা।

তাদের দাবি, বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এছাড়া সংগঠনের একাংশের নেতৃবৃন্দ আলোচনার মাধ্যমে প্যানেল ঠিক করেছেন। তাই অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ হেল কাফীর নেতৃতে অংশগ্রহণকারী প্যানেল বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের প্রকৃত প্যানেল।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের বিভাজনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. খালিদ কুদ্দুস বলেন, সংগঠনের সভাপতি অজিত কুমার মজুমদার অন্য সদস্যদের সাথে আলোচনা না করেই একটি প্যানেল দিয়েছেন। পরে আমরা আলোচনার মাধ্যমে ভিন্ন প্যানেল দিয়েছি।

অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, পদাধিকার বলে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম। এছাড়া আমি ওই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সেহেতু বিভাজনের কোন কথা এখানে নেই। কখনও কখনও অনেকে না বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে; সেটি মুল বিবেচ্য বিষয় না। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের আরেক সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক উপ-উপাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আমির হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ প্যানেলের অন্য দু’জন হলেন- প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক পৃথ্বিলা নাজনীন নীলিমা।

এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এম এ মতিন নির্বাচনে তিনজনের একটি দল নিয়ে অংশ নেওয়ার ‘সম্ভাবনার’ কথা জানিয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, সিনেট সভায় একজন প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর মাধ্যমে প্রার্থীতা ঘোষণা দেওয়া যাবে। সভায় নির্দিষ্ট সময় প্রচারণার জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। পরে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে মোট ৮১ জন সিনেটর তাদের ভোট প্রদান করবেন।

ইত্তেফাক/এআই