কৃষিতে গ্র্যাজুয়েট বানাতে চায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়!

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২২, ১৭:৪৭

পুরোপুরি গবেষণা এবং ব্যাবহারিক পাঠনির্ভর চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অ্যাগ্রিকালচার (বিএসসি.এজি) প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তিতে সার্কুলার দিয়েছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। আর এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের জাতীয় সংগঠন কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ এবং দেশের সবকটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কোর্স বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) চিঠি দিয়েছে কৃষিবিদ গ্র্যাজুয়েটদের এ সংগঠনটি। এ প্রেক্ষিতে বিষয়টির মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এই কোর্স চালু না করতে নির্দেশনা দিয়েছে ইউজিসি।

এই কোর্স বন্ধ করতে ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকরা। কৃষি বিজ্ঞানীদের মত হলো, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়, যার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। ক্লাস হয় অনলাইনে। এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অ্যাগ্রিকালচার (বিএসসিএজি) ডিগ্রি প্রদান করা হলে গ্র্যাজুয়েটদের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হবে। শিক্ষার্থীদের মাঠে হাতেকলমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে শিক্ষাদান করতে হয়। সুতরাং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কোর্স খুললে কৃষিবিদদের মান-মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হবে। দেশের কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদ জানিয়ে এরই মধ্যে ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন। সংস্থাটির সভাপতি এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া জানান, এই কোর্স উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চালু করতেই পারে না। ইউজিসিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কোর্স দেওয়ার মতো কোনোই ‘ক্যাপাসিটি’ নেই। ল্যাবরেটরি নেই। নেই কোনো খামার। এই কোর্সটি উচ্চমাত্রার টেকনিক্যাল সাবজেক্ট। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় একটি সস্তা মানের ডিগ্রি দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। এটা কৃষির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে। এটি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেওয়ার জন্য ইউজিসিকে জানিয়েছি।

কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনের এই চিঠির আলোকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়েছে ইউজিসি। এতে ছয়টি বিষয় জমা দিতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে বলেছে। আর মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত যাতে চালু না হয় সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। ইউজিসি জানতে চেয়েছে, এই কোর্সের অনুমোদন কে দিয়েছে, কত জনবল আছে, পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি এবং খামার কতটি আছে কি না, এটি সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন বোর্ডে অনুমোদন হয়েছে কি না, সিলেবাস-কোর্স কারিকুলাম করা হয়েছে কি না, এ কোর্সের জন্য ইউজিসির কোনো অনুমোদন আছে কি না? দ্রুত সময়ের মধ্যে এই চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে।

কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনের নেতারা বলছেন, এই কোর্স বন্ধ না করলে সারা দেশের কৃষিবিদরা মাঠে নামবে। যে কোনো মূল্যে এই কোর্স বন্ধ রাখতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে বাধ্য করা হবে। তারা বলেন, প্রকৌশলী এবং চিকিৎসকদের পাশাপাশি এই শিক্ষায় পেশার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ত্যাগ করতে হয়েছে। এখন এই ডিগ্রি যদি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে দেওয়া শুরু হয় তবে এই পেশার মর্যাদা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তো চাইলেও এমবিবিএস এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি চালু করতে পারবে না। তা হলে কৃষিই কেন? দেশে আরো কৃষি গ্র্যাজুয়েট প্রয়োজন হলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ তাদের।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) স্কুল অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্টের ডিন অধ্যাপক ড. মো ফরিদ হোসেন বলেন, কৃষি কোর্স চালু করা যাবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনেও বলা আছে। সে আলোকেই আমরা এই কোর্স চালুর সাকু‌র্লার দিয়েছি। এই কোর্স অনলাইনে হবে না। সপ্তাহে চার দিন গাজীপুরের নিজস্ব ক্যাম্পাসেই অনুষ্ঠিত হবে। ৪০ লাখ টাকা দিয়ে ল্যাবরেটরিও প্রস্ত্তত করা হয়েছে। জনবল নিয়োগের প্রস্ত্ততি চলছে। তবে গবেষণার মাঠ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের সনদ দিতে পারলে, সরকারি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পারবে না কেন? ড. মো. ফরিদ হোসেন একজন কৃষি গ্র্যাজুয়েট এবং কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের সদস্য।

ইত্তেফাক/এএইচপি