মধ্যবিত্তরা বর্তমান সময়ে অনেক চাপ সামলিয়ে টিকে আছে। কিছুটা দম ধরে বসে থাকার মতো। দেশে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এসব পরিবার হিমশিম খাচ্ছে সংসারের প্রয়োজনীয় খাদ্যচাহিদা মেটাতে। তারা কোনো রকম খেয়েপরে বেঁচে আছে বলা যায়। এমনকি খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে এসব পরিবারে আগে দৈনন্দিন যে পরিমাণ চাল, ডাল, আটা, মসলা, ফল কিনত এখন তার থেকে কম কিনছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ক্ষুধা কি কমে যায়? যদি তাই যেত তাহলে তো ভালোই হতো। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কবিতায় লিখেছিলেন, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়। আজ পৃথিবী সত্যি সত্যি গদ্যময় হয়ে উঠেছে। কবিতার সুরের মতো সুন্দর করে সব কিছু চলছে না। পেটে ক্ষুধা থাকলে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অকাল মৃত্যু হয়। এ সময় এসব পরিবারের বাড়ন্ত কিশোর-কিশোরীদের যেসব বাড়তি খাদ্যচাহিদা আছে তা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে তাদের পরিবার। কিন্তু তাদের দেহ গঠনের জন্য এসব খাদ্য একান্ত প্রয়োজন।
মানুষের তিনটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্য অন্যতম। এই খাদ্যই এখন ঠিকঠাক মতো মিলাতে পারছে না নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। কথায় আছে আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এখন যদি ছেলেমেয়েদের খাদ্যচাহিদা সঠিকভাবে না পূরণ হয়, তাহলে আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য তা তো ‘মহাসমস্যা’ হয়ে উঠবে। মেধার যথাযথ বিকাশ ঘটবে না। মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের রোগ-শোকে চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে পারছে না। যে কারণে এসব মানুষের দেহে অল্পতেই বড় রোগ বাসা বাঁধছে। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সংবাদও শোনা যাচ্ছে। মানুষ এখন নিত্যদিন ছুটে চলেছে, কীভাবে তারা কোনো রকমে খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারবে সে ভাবনায়। এ চিন্তা ছাড়া তাদের মাথায় অন্য চিন্তা আসছে না। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যচাহিদা পূরণের ব্যাপারে কারো কথা বলতে শোনা যায়নি। এ দেশে আলোচনা কোনোদিন থেমে থাকেনি। অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে সব সময় আলোচনা চলে। এসব প্রয়োজনীয় বিষয় কাউকে ভাবায় না।
শহরে যেসব মধ্যবিত্তরা বসবাস করে তাদের অবস্থা এখন সবচেয়ে বেশি শোচনীয়। শোনা যাচ্ছে তাদের কেউ কেউ গ্রামমুখী হওয়ার কথা ভাবছে। ঢাকা শহরের এম বহু পরিবার আছে যারা এখন হাল চাষের বলদের মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলছে ঘন ঘন। তারা তাদের ইচ্ছামতো নিজ সন্তানদের লালনপালন করতে পারছে না। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো পড়েছে দিশাহীন পরিস্থিতিতে।
এমতাবস্থায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে বাঁচাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব পরিবারের শিক্ষার্থীদের সঠিক ও সুন্দরভাবে বিকশিত হওয়ার স্বার্থে শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের যারা মৌলিক অধিকার পূরণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী সহায়তা করা অতি জরুরি। তা নাহলে এ সময়ে দেশের বহু মানুষের কষ্ট কষ্টই থেকে যাবে, লাঘব হবে না কোনোমতেই। অথচ এসব মানুষেরও অধিকার আছে সুন্দর জীবনযাপন করার।
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
