প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি 

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২২, ০৬:০২

যুব সমাজ হচ্ছে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। ‘জীবনের চেয়ে যৌবনের মূল্য বেশি’ কবি-সাহিত্যিকদের কথায় এটি সুস্পষ্ট। কিন্তু আমাদের যুব সমাজের একটা বড় অংশ বেকার সমস্যার শিকার। এর কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, উপযুক্ত যোগ্যতা সাপেক্ষে কর্মক্ষেত্র না পাওয়া, পরিবারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, মাঠভিত্তিক কাজে অনীহা, পারিপার্শ্বিক চাপ। আর একটি বড় কারণ হচ্ছে আমাদের দেশে শ্রমের অবমূল্যায়ন, বিভিন্ন পেশাকে নিচু চোখে দেখা যেখানে উন্নত দেশে সবধরনের পেশাকে সম্মান ও সমান মনে করা হয়।

একজন বেকারকে পরিবার, সমাজ তথা দেশের বোঝা মনে করা হয়। তার মতামতের কোনো মূল্যায়ন করা হয় না, বরং করা হয় তিরস্কার। বেকার সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও তা দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর তুলনায় নিতান্তই কম। যেখানে কয়েক হাজার পদের জন্য নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় সেখানে আবেদনের সংখ্যাটা লাখ ছাড়িয়ে যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় কেউ বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেলেও তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা এমন হয় যে কেন সে সরকারি চাকরি পেল না। কৃষকদেরকে আমাদের দেশে আজও নিচু চোখে দেখা হয়। কেউ তাদের সম্মান করে না, হেয়প্রতিপন্ন করে। কিন্তু একটাবারও ভেবে দেখা হয় না আমাদের বেঁচে থাকার জন্য তাদের গুরুত্বটা কতটুকু।

আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষিত যুবকেরা মাঠ পর্যায়ের কাজ করতে গেলে তাদের শুনতে হয় বহু কটু কথা, যা তাদের মানসিকভাবে ব্যধিগ্রস্ত করে ব্যাপকভাবে। তার সঙ্গে বাড়তে থাকে হতাশা। হতাশার এক পর্যায়ে তারা বেছে নেয় আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত। বেকার সমস্যা সমাধানে প্রথমে বিভিন্ন পেশার প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করাটা জরুরি। কারণ দেশের বেশির ভাগ মানুষ সব পেশাকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে না। আর আমাদের দেশের মানুষ সরকারি চাকরিটাকেই প্রধান পেশা মনে করে আর বাকি সব কিছুকে তুচ্ছভাবে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা যায় উপযুক্ত জ্ঞানের অভাব। সচরাচর দেখা যায় কেউ কোনো কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে করতে গেলে তার পেছনে কত সমালোচনা। বেশির ভাগ মানুষ সমালোচনাকে ভয় পেয়ে হাল ছেড়ে দেয় কিন্তু যে সমালোচনার ঊর্ধ্বে গিয়ে কাজটা করে, সে-ই জয় লাভ করে। সকল সমালোচনার ঊর্ধ্বে গিয়ে তরুণদের এগিয়ে যেতে হবে, বেছে নিতে হবে আত্মকর্মসংস্থানের পথ। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমেই বেকার সমস্যা সমাধান করা যাবে। শিক্ষিত তরুণদের মাঠভিত্তিক কাজের দিকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে বেকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের চাকাও ঘুরে যাবে। আর এজন্য প্রয়োজন সার্বিক সহযোগিতা। বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য, যেমন- কাউন্সেলিং। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে বিভিন্ন পেশা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। এর ফলে গতানুগতিক ভাবধারার পরিবর্তন হবে। এর পাশাপাশি যুবকদের নিজস্ব উদ্যোগে খামার, বিভিন্ন ধরনের ফলের বাগান পরিচালনা করতে হবে। দেশের জনগণকে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে আর এজন্য পেশাকে বহুমুখী করতে হবে এবং এ সম্পর্কে সাধারণ মানুষদের অবহিত করতে হবে। স্কুল, কলেজ থেকেই ছাত্রছাত্রীদের কর্মমুখী শিক্ষা দিতে হবে, যাতে তাদের মধ্যে পেশা সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকে, সকল পেশাকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করার শিক্ষা ছোট থেকেই দিতে হবে। এসব উদ্যোগের ফলে পেশা সম্পর্কে দেশের মানুষের মন-মানসিকতা পরিবর্তনসহ দেশের বিশাল জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করা যাবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ উন্নত দেশে পরিণত হয়ে উঠতে পারে ।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন