শিক্ষার অব্যবস্থাপনা দূর করুন

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪৭

করোনা মহামারির শুরু থেকে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর যে ধকল গেছে, তার ফল এখনো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যমান। পড়ালেখায় দীর্ঘ বিরতি তাদের করে দিয়েছে নিষ্ক্রিয়। এর মধ্যে লোডশেডিংয়ের অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনিবারও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষাব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। দেশের পাশের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বাড়লেও গুণগত শিক্ষার মান কিঞ্চিত পরিমাণ বাড়েনি, যেটা গত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা পর্যালোচনা করলে অনুধাবন করা যায়। যেখানে শিক্ষার্থীরা পাশ করতেই হিমশিম খাচ্ছে। এর মূল কারণ দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাব এবং শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা।

২০২২-২৩ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে রাখা হয়েছে মোট বাজেটের ১২ দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া শিক্ষা উপকরণ, বিশেষ করে কাগজের দাম বাড়ানো হয়েছে বহুগুণ। দেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে যেখানে খেয়ে বেঁচে থাকাটা দায়, সেখানে  এত টাকা দিয়ে সন্তানদের পড়ার খরচ চালানোটা বিলাসিতা। একটি দেশের জনগণ যখন জনশক্তিতে পরিণত হয়, তখন দেশের উন্নতিতে কোনো বাধা থাকে না। আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, কানাডা, ভারত ইত্যাদি উন্নত দেশের দিকে লক্ষ করলে দেখা যাবে, বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে রাজত্ব করছে তারা। যেখানে অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা নেই বললেই চলে। তারা জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করেছে। তারা আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। বর্তমান পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে যেটা অত্যাবশ্যকীয়। বর্তমানে দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় চরম অবস্থা চলছে। যেখানে অন্যান্য দেশ আধুনিক শিক্ষায় নজরদারি বাড়াচ্ছে, সেখানে দেশে চলছে মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা। ফলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে ক্রমাগত।  তাই পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রায়োগিক বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার সুব্যবস্থা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা যেমন—ডিবেট, পাবলিক স্পিকিং, চিত্রাঙ্কন, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় রাখা সম্ভব। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজসহ আইটি-নির্ভর কাজগুলো শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যদিও মালটিমিডিয়া সিস্টেম অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছে, তবে এর ব্যবহার খুব কম। শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন বিষয় মালটিমিডিয়ার মাধ্যমে ভিডিও কিংবা চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে শেখানোর প্রতি আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব। তাদের প্রকৃত শিক্ষার প্রয়োজনে লাইব্রেরি ওয়ার্কের কোনো বিকল্প নেই। যেখানে বিভিন্ন বইয়ের পাশাপাশি থাকবে খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন। ফলে বিশ্বের চলমান ঘটনা জানার পাশাপাশি নানান জ্ঞান আহরণ করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

লেখক : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন