নবজাতক চুরি করে মুক্তিপণ দাবি, নারী গ্রেফতার

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:৪০

সাভারে বেড়াতে গিয়ে চারদিন বয়সের নবজাতক ছেলে শিশুকে চুরির ঘটনায় শাহিদা বেগম নামে এক অপহরণকারীকে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪। এসময় তার হেফাজত থেকে অপহৃত চার দিনের নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

র‌্যাব-৪ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল তিনটার দিকে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া রাজাঘাট এলাকায় বসবাসকারী শামসুন্নাহার ও মোহাম্মদ বাদলের বাড়িতে বেড়াতে আসেন তাদের পূর্বপরিচিত শাহিদা বেগম ও সোহেল রানা দম্পতি। একপর্যায়ে বাড়ির গৃহকর্তী শামসুন্নাহার তার চারদিন বয়সী নবজাতক ছেলে শিশুটিকে বেড়াতে আসা শাহিদা বেগম ও সোহেল রানা দম্পতির কোলে দিয়ে অতিথি আপ্যায়নের জন্য রান্নাঘরে যায়। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহিদা বেগম ও সোহেল রানা দম্পতি চারদিন বয়সের নবজাতক শিশুটিকে চুরি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে শিশুটির মা রান্নাঘর থেকে এসে অতিথিদের দেখতে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে তার স্বামীকে খবর দেন। এ ঘটনায় তারা শাহিদা বেগম ও সোহেল রানা দম্পতিকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করতে থাকে। এক পার্যায়ে নবজাতক শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া সোহেল রানা শিশুটির মা শামসুন্নাহারকে ফোন করে জানায় শিশুটি তার স্ত্রী শাহিদা’র হেফাজতে সিরাজগঞ্জে আছে। নবজাতক শিশুটিকে ফেরত পেতে হলে মুক্তিপণ হিসেবে তাদেরকে নগদ ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে।

এ ঘটনায় চুরি হওয়া শিশুটির মা র‌্যাব-৪ বরাবর তার ছেলেকে উদ্ধারের বিষয়ে অভিযোগ করলে র‌্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল উক্ত শিশুকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেফতারে কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর র‌্যাব-৪ ও র‍্যাব-১২ যৌথভাবে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানাধীন এলাকায় সাড়াশি অভিযান চালিয়ে নবজাতক শিশুকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী শাহিদা বেগমকে (২৬) গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত শাহিদা জানিয়েছে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায়ের জন্য নবজাতক শিশুটিকে অপহরণ করেছে তারা। এঘটনায় গ্রেফতারকৃতকে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাঈনুল ইসলাম বলেন, বুধবার দুপুরে র‌্যাব অপহরণকারী শাহিদা বেগমকে থানায় হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

ইত্তেফাক/এমএএম