চালু হয়নি প্রাণিজাত পণ্যের কোয়ালিটি কনট্রোল ল্যাব

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:০১

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্রাণীজাত পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী আমদানি রপ্তানি হয়ে থাকে। এসব পণ্য ও খাদ্যের মান পরীক্ষা করার জন্য চট্টগ্রামে সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় দুটি কোয়ালিটি কনট্রোল ল্যাব নির্মাণ করা হয়েছে। ল্যাবের জন্য মূল্যবান যন্ত্রপাতি আমদানি করে স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ল্যাবের জন্য টেকনিক্যাল জনবলের পদ সৃজন করা হয়নি। অথচ একই সঙ্গে ঢাকায় নির্মিত ল্যাব জনবল নিয়োগ দিয়ে অনেক আগেই চালু করা হয়েছে। টেকনিক্যাল জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় ল্যাব চালু করা যাচ্ছে না। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত হিসাবে ল্যাবের দায়িত্ব পালন করছেন।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ প্রাণীর মাংস, খাদ্যসামগ্রী, পোলট্রি খাদ্য আমদানি ও রপ্তানি হচ্ছে। এসব কিছুর গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় দুটি কোয়ালিটি কনট্রোল ল্যাব নির্মাণ করা হয়। সমুদ্রবন্দর এলাকায় ল্যাবটি স্থায়ীভাবে নির্মিত হলেও বিমানবন্দর এলাকায় ল্যাবটির স্থাপনা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এটির জন্য বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকায় অপর একটি ল্যাব নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ল্যাব চালু না থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি করা প্রাণিসম্পদ সামগ্রী চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে মান পরীক্ষা করে রিপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। এতে পণ্যের মান পরীক্ষার ছাড়পত্র পেতে ব্যবসায়ীদের সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, মাংস আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমদানি রপ্তানি করা প্রাণিজাত পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী মান পরীক্ষার জন্য দেশে ২২টি কোয়ালিটি কনট্রোল ল্যাব নির্মাণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ঢাকার ল্যাব চালু করা হয়েছে। বাকি ল্যাবগুলোতে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা দায়িত্বে রয়েছেন। ল্যাবের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষিত জনবলের দরকার। কিন্তু জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানত ভারত থেকে মহিষের মাংস আমদানি করা হয়। তবে গত এপ্রিল মাস থেকে বিদেশ থেকে মাংস আমদানি বন্ধ রয়েছে। আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মাংস আমদানির অনুমতি ইস্যু করত। কিন্তু বর্তমানে আমদানি নীতিমালা পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে মাংস আমদানি করতে হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মাংস আমদানিতে পারমিট ইস্যু করছেন না। আগে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ২০০ টনের মতো মাংস আমদানি করা হতো। আবার বাংলাদেশ থেকে মিষ্টিদই, ষাঁড়ের পুরুষাঙ্গ, পশুর নাড়িভুঁড়ির অংশবিশেষ ইত্যাদি রপ্তানি হচ্ছে। এসব কিছুর মান ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখতে হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কোয়ালিটি কনট্রোল ল্যাব চালু থাকলে ছাড়পত্র পাওয়া সহজ হতো। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি সব কিছু হচ্ছে। অথচ ল্যাবটি চালু করা হচ্ছে না। প্রাণীর তিনটি জিনিসের মান পরীক্ষা করে দেখা হয়। সেগুলো হচ্ছে গরু নাকি মহিষের মাংস, শূকরের কোনো উপকরণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আছে কিনা।

মাংস আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন হালাল মিট ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, আমদানি নীতিমালা পরিবর্তনের কারণে গত এপ্রিল মাস থেকে মাংস আমদানি বন্ধ রয়েছে। জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উত্পাদন) ডা, মোহাম্মদ রিয়াজুল হক ইত্তেফাককে বলেন, এখানে টেকনিক্যাল লোকের দরকার। জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসর করে নিয়োগ দিতে হচ্ছে। বর্তমানে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবের মাধ্যমে পণ্যের মান যাচাইয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখন নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো ও ছাড়পত্র দেওয়া সবকিছু চলছে।’

ইত্তেফাক/ইআ