আজ ভ্রমণে জমিদার বাড়ি

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:২৪

ভ্রমণের জন্য তো সিলেট,চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি অনেক জায়গায় ঘুরলাম। সেই ঘোরাগুলা ছিল দুই থেকে তিন দিনের বেশ সময় নিয়ে যেতে হতো সেই জায়গাগুলোতে তাই না। তবে চলুন আজ অল্প সময়ে ঘুরে আসা যায় এমন কিছু ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানি। তবে এই ভ্রমণ ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে মাত্র কয়েকটা পাতায় একদিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়। তাই  এটা হয়ে যাক আমাদের ঐতিহাসিক নিদর্শন এর ধাপ ে আমরা অন্যান্য নিদর্শন সম্পর্কে জানব 

আমাদের দেশে জমিদার বাড়ির অভাব নেই বললেই চলে চারিদিকে প্রচুর জমিদার বাড়ি রয়েছে যেহেতু একদিনে এত জমিদার বাড়ি সম্পর্কে জানা সম্ভব নয় এর থেকেও বড় কথা টাঙ্গাই রয়েছে বেশ কয়েকটি জমিদার বাড়ি সেখান থেকে আজকে আমরা দুইটি জমিদার বাড়ির সম্পর্কে জানব

মহেরা জমিদার বাড়ি
প্রকৃতির অনিন্দ্য নিকেতন মহেরা জমিদার বাড়ি অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর। মহেড়া জমিদারগণের ছিল বিশাল বিশাল স্থাপনা। নগর ছাওয়ালী ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিল তাদের বানিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার। জমিদারদের সুবিশাল কর্মকাণ্ডের অফিস ব্যবস্থাপনার জন্য গড়ে উঠেছিল নায়েব ভবন, কাছারি ভবন প্রভৃতি স্থাপনা। তিন কক্ষ বিশিষ্ট নায়েব ভবন চমৎকার নির্মাণ শৈলীতে গড়া। তিন কক্ষ বিশিষ্ট কাছারি ভবনের স্থাপত্য শৈলীও প্রাণ জুড়ায়। অপর গোমস্তা ভবনও সুপ্রাচীন স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। জমিদার কুলের নায়েব গোমস্তা প্রভৃতি দাপ্তরিক ব্যক্তিবর্গ এসকল ভবনে বসে দাপ্তরিক কর্ম সম্পাদন করতেন। মহেড়া জমিদার বাড়ীটি মূলত: চার টি ভবনে বেষ্টিত। যথা- মহারাজ লজ, আনন্দ লজ, চৌধুরী লজ এবং রাণী ভবন(কালীচরণ লজ) নামে পরিচিত।

টিকেটের মূল্য
মহেড়া জমিদার বাড়িতে প্রবেশ করতে ৮০ টাকা প্রবেশ মূল্য প্রদান করতে হয়। গাড়ি থাকলে তার পার্কিং ফি ৫০ টাকা। শিশু পার্কে ঢোকার টিকেট ২০ টাকা। সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে চাইলে দিতে হবে ৩০০ টাকা। বোট রাইডে চড়তে দরদাম করে নিন কারণ ছুটির দিনগুলোতে রাইডে চড়ার মূল্য অনেক বেশি বেড়ে যায়।

যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে তারাই বেশ কাছে হওয়ায় যাওয়াটা বেশ সুবিধা জনক। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে (ভাড়া ১৫০) নাটিয়াপাড়া বাসষ্ট্যান্ডে নেমে অপেক্ষমাণ সিএনজি বেবিট্যাক্সি যোগে (ভাড়া ৭৫ টাকা, শেয়ারে জন প্রতি ১৫ টাকা) ০৩ কিমি পূর্ব দিকে মহেড়া জমিদার বাড়ি। মহাসড়কে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, মহেড়া, টাঙ্গাইল নামে দিক নির্দেশনা ফলক (বিশাল সাইনবোর্ড) আছে। আর যারা উত্তরবঙ্গ থেকে আসবেন তারা যে কোন ঢাকাগামী বাসে টাঙ্গাইল পার হয়ে ১৭ কিঃমিঃ পর নাটিয়াপাড়া বাসষ্ট্যান্ডে নেমে একইভাবে যেতে পারেন।

পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি
উনিশ শতকের গোড়ার দিকে কলকাতা থেকে আগত রামকৃষ্ণ সাহা মণ্ডল নামে একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ইংরেজদের কাছ থেকে এই এলাকার জমিদারী কিনে নেন। তার দুই ছেলে বৃন্দাবন ও রাধা গোবিন্দ। রাধা গোবিন্দ ছিলেন নিঃসন্তান এবং বৃন্দাবনের ছিল তিন ছেলে- ব্রজেন্দ্র মোহন, উপেন্দ্র মোহন আর যোগেন্দ্র মোহন। নিঃসন্তান রাধা গোবিন্দ তার ভাইয়ের মেঝ ছেলে উপেন্দ্রকে দত্তক নেওয়ায় কাকার সম্পত্তি পরবর্তীতে উপেন্দ্র পায়। পরবর্তীতে এদের তিনজনের নামেই তিনটি ভবন তৈরি হয়। ১৯১৫ সালের ১৫ এপ্রিল এই ভবনগুলো উদ্বোধন করা হয়। কারুকার্য ও নকশার দিক দিয়ে পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি খুবই দারুণ। মোট তিনটি বাড়ি বা মহল রয়েছে পাশাপাশি, যে কারণে একে তিন মহলাও বলা হয়ে থাকে। তিনটি ভবনের প্রত্যেকটির উপরে রয়েছে দুটি কারুকার্যমণ্ডিত নারীমূর্তি, সাথে আছে নানারকম লতাপাতার অলংকরণ। প্রত্যেকটি বাড়ির প্রবেশমুখে তিন ভাইয়ের মধ্যে যেটি যার বাড়ি, তার নাম ও উদ্বোধনের তারিখ নকশা করে লেখা আছে। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় কাঠের নানা কারুকার্য দেখা যায়। প্রত্যেকটি বাড়ির সাথে রয়েছে পাতকুয়া।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে গেলে সবচেয়ে ভালো হবে গাবতলী থেকে পাকুটিয়া গামী এস বি লিংক পরিবহণে গেলে। সাটুরিয়া পার হয়ে পাকুটিয়া বাজারে নেমে সেখান থেকে হাঁটা দূরত্বে পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি। এছাড়া ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিনিময়, ঝটিকা, ধলেশ্বরী ইত্যাদি বাস টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে নিয়মিত যাত্রা করে। এই সমস্ত বাসে ভাড়া লাগে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। ঢাকা থেকে আরিচা রোডে কালামপুর স্ট্যান্ড হয়ে সাটুরিয়া দিয়ে সোজা উত্তর দিকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে পাকুটিয়া জমিদার বাড়ী। আবার টাংগাইল জেলা হতে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত দেলদুয়ার হয়ে লাউহাটি দিয়েও পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি যাওয়া যায়।

ইত্তেফাক/এআই