রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সড়কপথ নিরাপদ হবে কবে?

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৫৯

আমাদের দেশে সড়কপথের কথাটি এলেই যেন ঘুরেফিরে বিভীষিকাময় এক মৃত্যুফাঁদের কথা সামনে উঠে আসে। সড়কপথ এবং মৃত্যুফাঁদ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে বহুদিন ধরে। পত্রিকার পাতা খুললেই সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংবাদ প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে। আমরাও যেন এটার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কখনো নবজাতক, কখনো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিও মারা যাচ্ছেন। একটি পরিবার যে মানুষের ওপর টিকে আছে সেই মানুষটা যদি পৃথিবী থেকে এভাবে বিদায় নেয় তাহলে সেই পরিবারের ওপর কেমন বিপর্যয় নেমে আসতে পারে—ভাবতে গেলেই চমকে উঠি!

স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা নিরাপদ সড়ক পাইনি! জানি না, এই নিরাপদ সড়কের জন্য আরও কতদিন অপেক্ষা করতে হবে! তবে আমরা চাই সেই অপেক্ষা খুব দ্রুত শেষ হোক। এভাবে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে থাকলে এই জাতির বুকে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। এর ফলে অনেক সম্ভাবনাময়ী জীবন অকালে ঝরে পড়বে। প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ মারা যায় সেটার তালিকা দেখলেও চোখজোড়া কপালে ওঠে। এটা যেন একটা নিয়মিত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমরা একবার গাড়িতে উঠলে আর বলতে পারি না যে, সত্যিই জীবন নিয়ে বাড়িতে ফিরতে পারবো কি না! এতটা অনিশ্চয়তার মধ্যে আমাদের গাড়িতে চড়তে হয়। প্রতিনিয়ত এই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে সেই গুপ্ত ভয় মানুষের মনকে ক্রমাগত গিলে খাচ্ছে!

গত দুই বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ মারা গেছে করোনার মতো ভয়াবহ মহামারিতেও তত মানুষ মারা যায়নি! এটা খুবই উদ্বেগজনক। এতবড় মহামারিতে অধিক সচেতনতা অবলম্বন করার ফলে মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে সক্ষম হলেও সড়কপথের ক্ষেত্রে সেই সফলতা একদম বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে অথচ চাইলে এই সড়কপথ নিরাপদ রাখা সম্ভব এবং সড়ক দুর্ঘটনায় যে অকালমৃত্যু হয়, সেটাও প্রতিরোধ করা সম্ভব। শুধু কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং বাস্তবায়ন করার মনমানসিকতা থাকতে হবে।  আমাদের দেশটি ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করবে, এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের সংবাদ কিন্তু এই সালের মধ্যে যদি আমরা নিরাপদ সড়ক উপহার পেতাম তাহলে সেটাও আমাদের জন্য অনেক গৌরবের হতো! একসঙ্গে দুটি অসাধারণ অর্জন হতো।

অকালমৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। সড়কপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। নিয়ম শুধু খাতা কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। যতগুলো দুর্ঘটনা ঘটে সবগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালানো, আসল চালকের অনুপস্থিতিতে হেলপারকে দিয়ে গাড়ি চালানো, এক জন আরেক জনকে ওভারটেক করার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠা, বড় বড় সড়কপথে অটো, রিকশা, সিএনজিয়ের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া এবং চালকরা সড়ক আইন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা ইত্যাদি! এজন্য এটা নিয়ে আর অবহেলা নয়, এখনই কর্তৃপক্ষের উচিত, দ্রুত রাস্তা থেকে সব ফিটনেসবিহীন গাড়ি তুলে নেওয়া, চালকদের জন্য বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা, ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর ব্যাপারে নিরুত্সাহিত করা এবং একে অপরকে টপকে যাওয়া বা বেপরোয়া গাড়ি চালালে  শাস্তির ব্যবস্থা কার্যকর করা। জনসচেতনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং দুর্ঘটনার মাত্রা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সবাইকে এটা বুঝতে হবে যে, সড়কপথ নিরাপদ করতে পারলে আমরা সবাই নিরাপদ থাকব, নির্বিঘ্নে গাড়িতে চড়ে নিজ গন্তব্যে যাওয়া-আসা করতে পারব।

লেখক :শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন