রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্ব 

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:২০

পরিবার হলো একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে পরিবারের সদস্যরা প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা ও মায়া-মমতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। পরিবারকে বলা হয় ‘জ্ঞানচর্চার সূতিকাগার’। পরিবার হলো ‘শাশ্বত বিদ্যালয়’, ‘চিরন্তন মাতৃসদন’। মানুষ তার সামগ্রিক জীবনে যত জ্ঞান, শিক্ষা, ঐশ্বর্য অর্জন করে তার সূচনাই হয় পরিবার থেকে। মায়ের কোলে হয় শিশুশিক্ষার হাতেখড়ি। তাই সন্তানের মূল্যবোধ, চরিত্র, চেতনা ও বিশ্বাস জন্ম নেয় পরিবার থেকেই। বাবা-মা যেমন আদর্শ লালন করেন, তাদের সন্তানরাও তেমন আদর্শ ধারণ ও লালন করে থাকে। একাডেমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষিত হওয়া যায় কিন্তু পরিবার থেকে সুশিক্ষা না পেলে জ্ঞানের পূর্ণতা আসে না। তখন অর্জিত সব জ্ঞান-গরিমাই ম্লান হয়ে যায়। কেননা সভ্যতা, ভদ্রতা, নৈতিকতা, কৃতজ্ঞতা বোধ, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা-স্নেহ, পরোপকার, উদার মানসিকতা—এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খুব বেশি অর্জন করা যায় না। এগুলোর ভিত্তি প্রোথিত হয় পারিবারিক মূল্যবোধ লালনপালন ও সুশিক্ষার মাধ্যমে।

বর্তমান সমাজে পরিবারের দায়িত্ববোধ কমে যাওয়ায় এবং পারিবারিক গুরুত্বকে খাটো করে দেখার কারণে সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি আমাদের মূল্যায়ন, আকর্ষণ দিনদিন কমে যাচ্ছে। যার ফলে বাবা-মা-ভাই-বোন কেউই কারো প্রতি মায়া-মমতা, ভালোবাসা যথাযথ দায়িত্ববোধ অনুভব করছে না। বস্তুবাদী এ সমাজের পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা আজ বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। বাবা-মা উভয়েই চাকরি ও অর্থের পেছনে ছুটতে ছুটতে সন্তানকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারছেন না। ফলে ছেলেমেয়েরা অভিভাবক বা বড়দের পরোয়া করছে না। সামান্য ব্যাপারেই পরিবার ব্যবস্থায় ভাঙন ও বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। ছেলেমেয়েরা সেগুলো অনুসরণ ও অনুকরণ করছে এবং পরবর্তী সময়ে এগুলো তাদের মধ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরিজীবী বাবা-মা তাদের সন্তানকে গৃহকর্মীর তত্ত্বাবধানে রেখে যাচ্ছেন। ফলে নৈতিক মূল্যবোধ তথা সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে সেসব সন্তানেরা অনেক সময় বিপথে চলে যাচ্ছে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে চরমভাবে ভাবিয়ে তুলছে এসব বিষয়।  

গ্রাম্য ভাষায় একটা ধারণা প্রচলিত আছে, পরিবার আদর্শ হলে সেই পরিবারের সন্তানও আদর্শ হয়ে গড়ে উঠবে। বস্তুত একটি শিশু যখন নিজ থেকেই হাত-পা নাড়তে শেখে, তখন থেকেই মূলত সে পরিবারের কাছ থেকে শিখতে শুরু করে। আর তখন থেকেই তার সামনে বাবা-মা তথা বড়দের আচার-আচরণ ও বিভিন্ন বিষয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করে চলা উচিত। বাড়ন্ত শিশুকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভালো-মন্দ বিষয়ে অবহিত করতে হয়। তার সঙ্গে নরম সুরে, মার্জিত আচরণে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করতে হয়। শিশুদের মন-মানসিকতা থাকে খুবই কোমল, তাই খুব সহজেই যে কোনো বিষয় তারা শিখে নিতে পারে। বড়দের কর্তব্য, আদর-স্নেহের মাধ্যমে বুঝিয়ে তাদের যে কোনো বদঅভ্যাস থেকে বিরত রাখা। বাবা-মাকে অবশ্যই সন্তানের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে। তাহলে সন্তান সবকিছুই বাবা-মার সঙ্গে শেয়ার করবে। যে সন্তান শেয়ার করতে শিখবে সে কখনো আদর্শহীন হবে না। ঘরের পরিবেশ ভালো বলেই যে সন্তান সভ্য-ভদ্র ও আদর্শবান হবে—এমন ধারণা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। সন্তান কাদের সঙ্গে মেশে, বন্ধুত্ব করে সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। মোটামুটি পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকেই শিশুর মধ্যে নিজস্ব সম্মানবোধ সৃষ্টি হয়। কাজেই অবশ্যই ছোট থেকেই সন্তানের সামনে সুশিক্ষার বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। পারিবারিক শালীনতাবোধের চর্চার প্রচলন ঘটাতে হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন