বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জাতিসংঘ ও বাংলা ভাষার মর্যাদা 

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১৭

আজ ঐতিহাসিক ২৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৭৪ সালের এই দিনে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বারের মতো জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দান করেন। এই উজ্জ্বল দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ও বাংলা ভাষার কথা জানতে পারে সারা বিশ্ব ও জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মাধ্যমে বাংলা ভাষার কথা জানতে পারে বাংলা ভাষাভাষী বাঙালি জাতিসত্তার কথা। বাঙালি জাতির জন্য রয়েছে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ, সেটিও জানতে পারে। তখন বিশ্ব জানার আগ্রহ পোষণ করে বাঙালির গৌরবময় ইতিহাসের কথা।

বাংলা ভাষা। যেটি বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে। যে সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। বাঙালি তার ভাষার জন্য দিয়েছিল প্রাণ। শোষণ আর নির্যাতনের পাশাপাশি সংস্কৃতির ওপর আঘাত এনেছিল পশ্চিম পাকিস্তান। সেই সংস্কৃতি রক্ষার্থে বাঙালি মুক্তিকামী মানুষ ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। সর্বশেষ অর্জন করতে পেরেছে স্বাধীনতা। সেই বাংলা ভাষাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু এই দিন ভাষণের শুরুতেই বলেন, ‘আজ এই মহামহিমান্বিত সমাবেশে দাঁড়াইয়া আপনাদের সাথে আমি এই জন্য পরিপূর্ণ সন্তুষ্টির ভাগিদার যে বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষ আজ এই পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করিতেছেন। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পূর্ণতা চিহ্নিত করিয়া বাঙালি জাতির জন্য ইহা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার অর্জনের জন্য এবং একটি স্বাধীন দেশে মুক্ত নাগরিকের মর্যাদা নিয়া বাঁচার জন্য বাঙালি জনগণ শতাব্দীর পর শতাব্দীব্যাপী সংগ্রাম করিয়াছেন, তাহারা বিশ্বের সকল জাতির সাথে শান্তি ও সৌহার্দ্য নিয়া বাস করিবার জন্য আকাঙ্ক্ষিত ছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘যে মহান আদর্শ জাতিসংঘ সনদে রক্ষিত আছে, আমাদের লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই আদর্শের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করিয়াছেন। আমি জানি, শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সকল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের উপযোগী একটি বিশ্ব গড়িয়া তোলার জন্য বাঙালি জাতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আমাদের এই অঙ্গীকারের সাথে শহীদানের বিদেহী আত্মাও মিলিত হইবে।’

২৫ সেপ্টেম্বর দিনটিকে  নিউইয়র্ক স্টেট ২০১৯ সাল থেকে ‘বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট ডে’ হিসেবে পালন করে আসছে। অথচ আমরা বাঙালি বাংলাকে পরিপূর্ণভাবে মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। বাংলা ভাষায় হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা। বাংলা ভাষা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, জাতিসত্তার কথা বলে ও স্বাধীনতার কথা বলে। কারণ এই সংস্কৃতির ওপর আঘাতের পরেই বাঙালি বসে থাকিনি। তাই, বাংলা শুধু ভাষা নয়, বাংলা বাঙালির জাতিসত্তা। ভাষার নামে এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কোটি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। ভাষার জন্য যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগে আজকের এই বাংলাদেশ। অথচ আমরা বাংলা ভাষাকে মর্যাদা কতটুকু দিতে পারি? ভাষা শহিদদের কতটুকু মনে রাখি? বাংলা ভাষা ও শহিদদের মর্যাদা দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু। অথচ আজকের দিনে আমরা স্বাধীনতা কতটুকু রক্ষা করতে পারি! আমাদের মায়ের ভাষা যথাযথ মর্যাদা ও সঠিক ব্যবহার করতে পারি না। অনেকে বাংলা ভাষায় লিখতে গেলে বানান ভুল করে অহরহ। যেটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। কাজেই যদি আমরা নিয়মিত বাংলা ভাষার চর্চা ও অনুশীলন করতে পারি, তাহলেই বাংলা ভাষা দিনে দিনে হয়ে উঠবে বিশ্বায়নের অন্যতম মাধ্যম। ভুলে গেলে চলবে না, বাংলা ভাষা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
লেখক : শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন