বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:২৫

প্রকোপ বেড়েছে ডেঙ্গুর—বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, সারা দেশে এ বছর ১৩ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০। দিনের পর দিন এভাবেই বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু রোগী আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে মানুষ। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকতেই বা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালীন ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। অন্যথায় এর ভয়াবহতা চরম পর্যায়ে পৌঁছবে।

ডেঙ্গুর প্রজনন ঠেকাতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের সুবিবেচনা বরাবরই অতীব জরুরি। তবে আমরা দেখে আসছি, সাধারণ মানুষের অসচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা। প্রকৃতপক্ষে এটাই সত্য যে, আমরা নিজেরাই বেশি অসচেতন। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমাদের বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, এয়ারকন্ডিশন, বিশেষ করে নির্মাণাধীন বা পরিত্যক্ত ভবনের বেজমেন্টসহ ছাদের কোণে পানি জমে থাকা। কখনো কখনো এগুলো পরিষ্কার করতে আমাদের চরম গাফিলতি লক্ষ করা যায়। ফলস্বরূপ এগুলোর মাধ্যমে আমরা নিজেরাই এডিস মশার প্রজননে সহায়তা করি। এমন অসচেতন হয়ে যদি মশার প্রজননের ক্ষেত্র নিজেরাই তৈরি করে দিই, তাহলে তো কোনো সংগঠন, অধিদপ্তরের পক্ষেই সম্ভব হবে না মশামুক্ত গ্রাম বা শহর উপহার দেওয়া।

প্রতি বছর দেখা যায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ঢাকায় বেশি। এ বছরও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এ বছর ইতিমধ্যে দেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। ডেঙ্গু শনাক্তের সব ধরনের পরীক্ষার সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গুর মূল পরীক্ষা এনএস-১। সর্বোচ্চ খরচ ৫০০ টাকা। খরচ যেহেতু খুব বেশি নয়, এজন্য ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলেই আমাদের ডেঙ্গুর টেস্ট করাতে হবে। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। পাশাপাশি ফুলের টব, হাঁড়ি-পাতিল, বাড়ির আঙিনাসহ আশপাশে যেন দুই-তিন দিনের বেশি কোথাও সামান্য পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে। পরিস্থিতির যাতে আর অবনতি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের মশানিধন কর্মসূচিতে আরো বেশি জোর দিতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। ডেঙ্গু রোগীদের উচিত হবে মশারি ব্যবহার করা, যাতে করে তাদের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে না পারে। দেশে ডেঙ্গু রোগ ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল পরিষেবা আরো উন্নত করতে হবে। সর্বোপরি নাগরিকদের আরো বেশি সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাজ করতে না পারলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। আর এর ফলে প্রতি বছর নাকাল হতে হবে ডেঙ্গুতে—বাড়বে রোগী। অকালে ঝরবে তাজা প্রাণ! 

লেখক : শিক্ষার্থী, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন