শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জমির ইজারামূল্য বাড়ায় হুমকির মুখে লবণ চাষ

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০৭

জমির মালিকদের কাছে জিম্মি লবণচাষিরা। বছর বছর লবণ চাষের জমির ইজারা মূল্য বাড়ানো হচ্ছে, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অন্যান্য খরচ। এতে লবণের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, লবণশিল্পের স্বার্থে জমির ইজারা যৌক্তিক পর্যায়ে থাকা প্রয়োজন। প্রতি বছর বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। সরকার চাইলে জমির ইজারা দর নির্ধারণ করে দিতে পারে। এতে লবণশিল্প উপকৃত হবে। বর্তমানে এলাকাভেদে প্রতি একর জমি ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে লবণের ঘাটতি হলে ভারত থেকে লবণ আমদানি করা হয়। ভারতের চেয়ে আমাদের দেশে লবণ চাষের জমির ইজারা খরচ অনেক বেশি। ভারতে লবণ চাষের অধিকাংশ জমি সরকারি খাস জায়গা। এসব জমি এক মৌসুমের জন্য প্রতি একরের ইজারা ৭৫০ টাকা থেকে ১ হাজারের মধ্যে। ফলে ভারতে চাষিরা কম দামে লবণ বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু দেশের লবণ চাষে ব্যবহূত জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন। ফলে জমির মালিকেরা প্রতি বছর জমির ইজারামূল্য বাড়াচ্ছেন। আগামী মৌসুমের জন্য প্রতি একর জমি এলাকাভেদে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে শ্রমিক মজুরি, সেচ খরচ ও পলিথিন খরচ। এতে লবণের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এলাকাভেদে এক একর জমিতে ২০ থেকে ২৫ টন লবণ উৎপাদন হয়। কিন্তু প্রান্তিক চাষিরা মৌসুমের সময় লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মধ্যস্বত্বভোগীরা মাঝখানে মুনাফা লুফে নিচ্ছেন।

কক্সবাজারের ইসলামপুর লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি সামশুল আলাম আজাদ বলেন, ‘লবণ চাষের জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও সরকার ইজারা দর নির্ধারণ করে দিতে পারে। এতে দেশের লবণশিল্প ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। প্রান্তিক চাষিরা লবণ চাষে উত্সাহী হবেন।’

জানা গেছে, লবণ চাষের জমির খাজনা সবচেয়ে বেশি কুতুবদিয়া এলাকায়। এখানে প্রতি একর জমির খাজনা ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কারণ এখানের সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততা বেশি হওয়ায় লবণ উৎপাদনও অন্যান্য এলাকা থেকে বেশি হয়। কুতুবদিয়ায় লবণ চাষের জমিতে চিংড়ি চাষ হয় না। ফলে তারা মৌসুমে আগেভাগে লবণ চাষে নেমে পড়েন। কক্সবাজারসহ আশপাশের জমিগুলোতে চিংড়ির চাষও হয়। ফলে কুতুবদিয়ার চেয়ে বিলম্বে লবণ চাষ শুরু হয়।

বাংলাদেশ লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কায়সার ইদ্রিস বলেন, আগামী মৌসুমের জন্য এখন থেকে জমির ইজারা দেওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে লবণের দাম কিছুটা বাড়তি থাকায় জমির খাজনা বেশি দাবি করা হচ্ছে। এতে মৌসুমে যদি লবণের দাম কমে যায়, চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে লবণ চাষের জমির খাজনা সরকারিভাবে নির্ধারণ করে দিলে চাষিরা উপকৃত হতেন। এতে চাষিরা লবণ চাষে বেশি আগ্রহী হতেন।

জানা যায়, মৌসুমের সময়ে লবণের ন্যায্যমূল্য পান না চাষিরা। প্রতি মণ লবণ ১৭০ থেকে ২০০ টাকার বেশি পাওয়া যায় না। মৌসুমের সময় মধ্যস্বত্ব্বভোগীরা সুবিধা নিয়ে নেন। আর্থিক সংকটে মৌসুমের সময়ে অধিকাংশ চাষি লবণ বিক্রি করে ফেলেন। যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে, তারা মাটির নিচে গর্ত করে লবণ মজুত করে রাখেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ লাখ টনের মতো লবণ উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে গত কয়েক মাস যাবত্ মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। বর্তমানে চাষি পর্যায়ে প্রতি মণ ৪৩০ দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে লবণের ঘাটতি পূরণে সরকারিভাবে দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মিলের মালিকেরা ইতিমধ্যে এসব লবণ আমদানি করেছেন বলে জানা গেছে।

 

ইত্তেফাক/ইআ