শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে ৫০০ শিক্ষকের ভাগ্য

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৮:০১

তাজবীর ও ইমরান (ছদ্মনাম) নামে দুজন শিক্ষক দুটি ভিন্ন কলেজে একই বছর নিয়োগ পেয়েছেন। দুজনের নিয়োগই নীতিমালা মেনে হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে ইমরান এমপিওভুক্ত হয়েছেন। অথচ তাজবীর এখনো এমপিওর বাইরে। শুধু তাজবীর নন, অন্তত ৫০০ শিক্ষকের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের ভুলে এমপিও বঞ্চিত ডিগ্রি স্তরের এসব তৃতীয় শিক্ষকদের ভাগ্য এখন ঝুলে আছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে। এমপিওর জন্য অপেক্ষা করতে করতে তারা এখন ক্লান্ত ও ক্ষুব্ধ।  তাই এ মাসেই এমপিও আদেশ জারি না হলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-পরিচালক (বেসরকারি কলেজ) এনামুল হক হাওলাদার বলেন, বাদ পড়া সবার তালিকা সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সভা করে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। 

জানা গেছে, এমপিওভুক্ত না হবার কারণ—ঐসব শিক্ষকের তালিকা যথাসময়ে যথানিয়মে (মাউশি) পৌঁছেনি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সঠিকভাবে নামের তালিকা পাঠাতে পারেননি, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইমেইল থেকে তাদের তথ্য ডাউনলোড করতে পারেননি। কোথাও কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ছিল, কোথাও উদাসীনতা ছিল মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

গত বছরের ৭ নভেম্বর মাউশি প্রকাশ করে ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া ৭৭০ জন ডিগ্রি পর্যায়ের তৃতীয় শিক্ষকের তালিকা। এই তালিকা গত দুই বছর ধরে সংগ্রহ করা হয়। তালিকা পাঠানো হয় কলেজগুলোর পক্ষ থেকে। এক্সএল ফরমেটে ফাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তালিকা পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু অনেক কলেজের শিক্ষকরা কাগজে টাইপ করে তা স্ক্যান করে পাঠান। স্ক্যান করে জেপিজি এবং পিডিএফ ফাইলে পাঠানোর কারণে মাউশি এই ফাইল থেকে তথ্য নেয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফাইল ওপেন করা যায়নি। এছাড়া অনেক মেইলও পায়নি মাউশি। কিন্তু যে মেইল পাওয়া যায়নি বা যে ফাইল ওপেন হয়নি, সেগুলো তখনই নতুন করে পাঠাতে বলেনি মাউশির সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার অপারেটর।

এতেই বাধে বিপত্তি। ফলে ৭৭০ জনের বাইরে আরো অন্তত ৫০০ শিক্ষকের নাম বাদ পড়ে যায়। আর মন্ত্রণালয়ও ঐ তালিকা ধরেই এমপিওভুক্তির সরকারি আদেশ জারি করে। যাদের নাম যুক্ত হয়নি তারা বাদ পড়ে যান। দেখা  গেছে, ঐ তালিকায় যোগ্য অনেক প্রার্থীর নামই নেই। আবার তালিকায় যুক্ত ছিল অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের নাম। এ ক্ষেত্রে মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য ছিল, ‘আবেদন না পাওয়ায় তাদের নাম যুক্ত করা যায়নি।’ বাদ পড়াদের নাম তখনই যুক্ত করা যেত। কিন্তু মাউশির সংশ্লিষ্ট শাখার এক সহকারী পরিচালকের উদাসীনতায় তা হয়নি। প্রার্থীদের নাম যুক্ত করার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের টাকা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঐ কর্মকর্তাকে ওএসডি করেছে।  পরে দ্বিতীয় ধাপে বাদ পড়া শিক্ষকদের তালিকা সংগ্রহ করে মাউশি। এছাড়া ২০১৯ সালে নতুন করে এমপিওভুক্ত হওয়া ৫৫টি ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় শিক্ষকদেরও তালিকা সংগ্রহ করে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদেরও।  এছাড়া চলতি বছর ১৮টি ডিগ্রি কলেজ এমপিওভুক্ত হয়েছে। তবে এসব শিক্ষককে এখন যুক্ত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে মাউশি। 

এদিকে তালিকা তৈরির পরও সরকারি আদেশ জারিতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। তারা বলছেন, ‘আর কত অপেক্ষা করব? অধিদপ্তর এবং অধ্যক্ষের ভুলের কারণে আমরা প্রায় একবছর পিছিয়ে পড়েছি।’ প্রতিদিনই শিক্ষকরা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। কবে তাদের আদেশ জারি হবে তা জানার চেষ্টা করছেন। তবে চলতি মাসের মধ্যে আদেশ জারি না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিতে পারেন—ইত্তেফাককে এমনটিই জানিয়েছেন বঞ্চিত শিক্ষকরা। 

 

 

ইত্তেফাক/ইআ