গাইবান্ধা-৫ উপ-নির্বাচন

এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট নেওয়ার অভিযোগ জাপা প্রার্থীর

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২২, ০০:৩০

গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের উপ-নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে এজেন্টদেরকে বের করে দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে ভোট নেওয়ার অভিযোগ করেছেন জাপার প্রার্থী গোলাম শহীদ রঞ্জু। আওয়ামী লীগ প্রার্থী এভাবে প্রভাব খাটিয়ে ভোট নিয়েছেন বলে অভিযোগ তার। এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন। স্থগিত করা কেন্দ্র বাদে বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফল ঘোষণার দাবি জানান তিনি।

জাপা প্রার্থীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা শতাধিক কেন্দ্র থেকে লাঙ্গলের এজেন্টদের বের করে দেয়। এরপর কোনো ভোটার কেন্দ্রে ভোট দিতে এলে গোপন বুথে ঢুকে তারা নৌকায় ভোট নেয়। এসময় কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা ছিলেন অসহায়। এসব দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখে সিইসি উপ-নির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব অভিযোগ করেন তিনি। 

সাঘাটা উপজেলার বেড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে লাঙ্গলের এজেন্ট ছিলেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের শুরুতে তাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় নৌকার কর্মীরা। পরে কেন্দ্রে কোন ভোটার আসলে তার আঙুলের ছাপ নিয়ে তাদের মনমতো মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করেন তারা। তিনি আরও বলেন, তবে ওইসব কর্মীদের তিনি চিনেন না। তারা বহিরাগত। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি।

একই কেন্দ্রের জাপার এজেন্ট শাহজাহান মিয়া বলেন, এ কেন্দ্রে লাঙ্গলের চারজন এজেন্ট দেওয়া হয়। সবাইকে নৌকার বহিরাগত কর্মীরা কেন্দ্রের কক্ষ থেকে বের করে দেন। ওই কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

একই উপজেলার গোবিন্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের লাঙ্গলের এজেন্ট জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, তিনিসহ আটজন এ কেন্দ্রে লাঙ্গলের এজেন্ট ছিলেন। কিন্তু ভোট শুরুর আধা ঘণ্টা পর নৌকার কর্মীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদেরকে কক্ষ থেকে বের করে দেন। বিষয়টি প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশকে জানিয়ে কোনো কাজ হয়নি। এদের মধ্যে দুইজনকে তিনি চেনেন। তারা আওয়ামী লীগের কর্মী। তবে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে অভিযুক্তদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আলিম উদ্দিন বলেন, তাকে অভিযোগ দেওয়ার পর তিনি জাপার এজেন্টদের কেন্দ্রের ভোটগ্রহন কক্ষে ফিরিয়ে আনেন। 
    
একই ধরণের অভিযোগ করেন একই উপজেলার ঘুড়িদহ দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের লাঙ্গলের এজেন্ট ফারুক সরদার, রুবেল মিয়া ও আজাদুল ইসলামের। স্থগিত হওয়া কেন্দ্র সাঘাটার ভরতখালি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন বলেন, তাঁর কেন্দ্রে নৌকার একজন এজেন্ট দুইটি বুথে প্রভাব খাটিয়ে ভোট নিচ্ছিলেন। এমন দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ স্থগিতের নির্দেশ দেন। তবে ওই এজেন্টের নাম পরিচয় তিনি বলতে পারেননি। পরে তিনি ভোটগ্রহণ কক্ষে গিয়ে দেখেন ওই এজেন্ট নেই।

 ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শাহান জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কে বা কারা কেন্দ্র থেকে লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্টদেরকে বের করে দেয়। এই বিষয়টি সিসিটিভি ক্যামেরায় সিইসি দেখতে পান। এ কারণে নির্বাচন কমিশন ঢাকা থেকে নির্দেশ দেন ভোট গ্রহণ স্থগিত করতে। প্রশাসনকে জানাননি কেন জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, তিনি তখন নিচতলায় অবস্থান করছিলেন। উপর তলায় উঠে খোঁজ নিতে যাওয়ার সময় ভোটগ্রহণ বন্ধের নির্দেশ আসে। পরে তিনি পোলিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পান।

এ সময় জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী জানান, মোট ১৪৫টি কেন্দ্র থেকে তার শতাধিক এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। সরকারি দলের কর্মী সমর্থকরা নৌকা প্রতীক সম্বলিত টি-শার্ট পড়ে এসব ঘটনা ঘটান। এদের বেশিরভাগই বহিরাগত। তিনি নিজের ভোটটিও দিতে পারেননি। তাঁর কেন্দ্র সাঘাটার কাজী আজাহার আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন, সব কক্ষে লোকজনে ভর্তি। এই পরিস্থিতি দেখে তিনি ফিরে যান।  তিনি আরও বলেন, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা ভোটারদের আঙ্গুলের ছাপ নেওয়ার পর নৌকার বহিরাগত কর্মীরা ওই ভোটারের সাথে গোপন কক্ষে ঢুকে তার (ভোটার) আঙ্গুলের ছাপ নৌকা প্রতীকে মারতে বাধ্য করেন।

এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, তার কোন কর্মী বা সমর্থক জাপা ও অন্যান্য প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়নি এবং বাধাও দেয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, এই উপ-নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা কারও কাছে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অথচ বাস্তবসম্মত যৌক্তিক কারণ ছাড়াই নির্বাচন কমিশন উপ-নির্বাচন বন্ধ করে। যা সাধারণ ভোটারদের হতবাক করেছে। তিনি স্থগিত করা কেন্দ্র বাদে বাকী কেন্দ্রগুলোর ফলাফল ঘোষণার দাবি জানান। 

রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ তিনি অসংখ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। যেসব কেন্দ্র দেখেছেন, সেসব কেন্দ্রের ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ছিল। কোনো ধরনের সমস্যা দেখেননি। এসময় অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন, তখন কেউ কোন অভিযোগ করেননি। 

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখেছেন। কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা কিংবা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তাদের কাছে কেউ করেননি।  

ইত্তেফাক/জেডএইচডি