বিশ্বকাপ অভিষেকে রোমাঞ্চিত হাসান

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২, ০১:৪৩

চার বছর আগে (২০১৮ সাল) নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছেন হাসান মাহমুদ। যুব বিশ্বকাপের পর থেকেই ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। ইনজুরিকে হারিয়ে মাঠে ফিরে নিজের সামর্থ্য তুলে ধরেছেন তিনি। বল হাতে গতির ঝড় তুলতে পারেন, দুর্দান্ত বোলিং অ্যাকশন, সব মিলিয়ে নির্বাচকদের নজরে পড়তে সময় লাগেনি হাসানের।

জাতীয় দলে এসেও ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে ডানহাতি এ পেসারকে। দল থেকেও ছিটকে পড়েছেন কয়েকবার। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ ফিট হয়ে নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলেও সুযোগ পান হাসান।

হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে গত সোমবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে সিনিয়র ক্রিকেটে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছে তরুণ এই ফাস্ট বোলারের। যে কোনো ক্রিকেটারের জন্যই এটি স্বপ্ন পূরণের আনন্দ।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৯ রানের জয়ে বড় অবদান ছিল পেস বোলারদের। তাসকিন আহমেদ ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন। হোবার্টে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন হাসানও। বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ১৫ রানে ২ উইকেট নেন এ তরুণ। চলমান আসরে এটিই প্রথম মেডেন নেওয়ার ঘটনা।

ইনিংসের ১৩তম ওভারে প্রিঙ্গলকে দ্রুতগতির ইয়র্কারে বোল্ড করেছেন হাসান। ১৫তম ওভারে তার বলে ডিপ ফাইন লেগে তাসকিনের হাতে ক্যাচ দেন ভ্যান বেক। হাসানের বলে ক্যাচও পড়েছে। তবে এই তরুণ ঠিকই তাসকিনের বলে শিরাজ আহমেদের ক্যাচটা তালুবন্দি করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাসানের বিচরণ প্রায় দুই বছর। যদিও এখনো নিজের অনুভূতি প্রকাশে সলজ্জ এ তরুণ। অবশ্য নিজের প্রথম বিশ্বকাপটা ভালোই উপভোগ করছেন তিনি। হোবার্টে ম্যাচের পর সাংবাদিকদের হাসান বলেছেন, ‘প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছি, অবশ্যই রোমাঞ্চিত ছিলাম।’

বোলিংয়ে বড় দায়িত্ব পালন করেছেন হাসান। তাসকিনের দুর্দান্ত শুরুটাকে নষ্ট হতে দেননি। নতুন বলে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ডাচদের ওপর চাপটা ধরে রেখেছেন বাংলাদেশের এই পেসার। নিজের বোলিং নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এখনো পর্যন্ত ভালোই হচ্ছে। ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শুরু করেছিলাম, ভালো হচ্ছে। প্রথম ওভার থেকে তাসকিন ভাই ম্যাচের ‘ফ্লো’ ধরেছিল। পরে আমি নিয়েছিলাম। খুব ভালো লাগছিল।’

অগ্রজ তাসকিন, মুস্তাফিজের সঙ্গে মিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল হাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিতে চান হাসান, ‘আমার খুবই ভালো লাগছে যে, তাসকিন ভাই, মুস্তাফিজ ভাই, উনাদের সঙ্গে বোলিং করছি। ভালো লাগছে। আমরা চেষ্টা করব এই (পেস) ইউনিটকে ধরে রাখার। সামনে বাংলাদেশকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে।’

 

ইত্তেফাক/ইআ