শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দিয়াবাড়ি ফুলে ফুলে সাদা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২২, ১৫:১৮

দিয়াবাড়ির অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। দুচোখে যেদিকে তাকাবেন চার দিকেই দেখা মিলবে শুভ্র কাশফুল। ইটকাঠের এই নগরীর বুকে এমন কাশফুলের দেখা পেলে কার না ভালো লাগে! 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই আসছেন এই কাশবনে। আর লেকের ধারে শরীর–মন জুড়িয়ে দেওয়া বাতাসে কেউ বসে গল্প করছেন। কেউবা ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন। দুপুরের খরতাপ খানিকটা ম্লান হয়ে আসে বেলা গড়ালে। তখন লোক সমাগমে জমজমাট হয়ে ওঠে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকা। 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উত্তরা তৃতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারিত প্রকল্পের অংশ এই দিয়াবাড়ি। উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে এই প্রকল্প এখন ফাঁকাই পড়ে আছে। বালুমাটি ফেলে সমতল  এই বিশাল মাঠের মতো খোলা জায়গাটি ভরে গেছে শরতের শুভ্র কাশফুলে ফুলে। কাশবনের ভেতর দিয়ে পথ। নগরের যান্ত্রিক পরিবেশ থেকে একটু প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসা নগরবাসী হাঁটতে থাকেন এই পথ ধরে। লোক সমাগমের কারণে বেশ কিছু ফুচকা ও হালকা খাবারের দোকানপাটও গড়ে উঠেছে এখানে।

ছুটির দিনগুলোতে দুপুর থেকেই শুরু হয় লোকের সমাগম। বিকাল নামতেই পুরো এলাকা যেন হয়ে ওঠে এক গ্রামীণ মেলা। এক দিকে ঘোরে নাগরদোলা। রকমারি খাবারের পসরা। সারি সারি ফুচকা–চটপটির দোকান। ঘুরেফিরে লোকজন এসে ভিড় জমায় এসব দোকানে।

গাজীপুর থেকে এসেছেন বৃষ্টি ও ভাই আদৃতিত আর তাদের বাবা আব্দুল কুদ্দুস। আদৃতিত জানালেন, ছোটবেলায় তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে খালের ধারে দেখেছে কাশফুলের শোভা। তাই দিয়াবাড়িতে এসেছি কাশফুল দেখতে। এত কাশফুল দেখে মনটা ভালো হয়ে গেছে। বেশ কিছু ছবি তুলেছি। সন্ধ্যা হলে চলে যাব।’

মোহাম্মদপুর থেকে এসেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি দল। তাদের একজন ইকবাল বললেন, ‘কয়েক দিন ধরে বন্ধু ও পরিচিতদের ফেসবুকে কাশফুলের ছবি দেখছি। সেখান থেকেই এই কাশবনে আসার ইচ্ছ ছিল। তাই বন্ধুরা মিলে এসেছি। অনেক ছবি তুলছি। বেশ ভালো লাগছে।’

দিয়াবাড়ির লেকের পাড়ে গড়ে উঠেছে বোট হাউস। বাঁশ ও কাঠের কাঠামো দিয়ে বানানো হয়েছে বসার জায়গা। সারি দিয়ে বাঁধা প্যাডেল বোট (পায়ে চালিত নৌকা)। ঘণ্টা ভিত্তিতে ভাড়া করে ঘুরতে পারবেন। ছুটির দিনে অনেকেই এসব নৌকা ভাড়া করে ঘুরছিলেন। তাদের একজন উত্তরখান এলাকার ইব্রাহিম ফুসো তিনি বললেন, ‘কাশফুল দেখতে এসেছিলাম। এখানে এসে দেখি পায়ে চালিত নৌকাও আছে। তাই পরিবারের সবাই মিলে একটু নৌকায় ঘুরলাম। ফুরফুরে বাতাসে মনটাই ভালো হয়ে গেছে।’ তবে লেকের পানি যেন দূষিত না হয় সে জন্য কর্তৃপক্ষ আর বেড়াতে আসা লোকজন সবাইকেই যত্নবান হওয়ার কথা বলেন তিনি।

দিয়াবাড়ির এক অন্যরকম অনুভুতি উড়োজাহাজগুলো খুব কাছ দিয়ে আকাশে উড়াল দেয়। আবার উড়োজাহাজ অবতরণ করার সময়ও খুব নিচু দিয়ে যায়। ঢাকায় কাছ থেকে উড়োজাহাজের ওড়াউড়ি দেখতে চাইলে এর চেয়ে ভালো জায়গা হয় না। 

দিয়াবাড়িতে রাস্তার দুই পাশে যেমন কাশফুল আছে তেমনি ফাঁকা জায়গার ভেতরেও কাশফুল আছে। নরম মাটি অনেকটা চোরাবালির মতো। পা আটকে যায়। এজন্য একটু সাবধান থাকা ভালো।

কিভাবে আসবেন দিয়াবাড়িতে? উত্তরা রুটের যেকোনো গাড়িতে উঠে হাউস বিল্ডিং নামতে হবে। এরপর ‘জনপথ’ ধরে মাসকট প্লাজার কিছুটা সামনে থেকে লেগুনা ছাড়ে। লেগুনা নামিয়ে দেবে একেবারে দিয়াবাড়ি বটতলায়। ভাড়া ২০-৩০ টাকা। লেগুনায় উঠতে না চাইলে নিতে পারেন রিকশা বা অটোরিকশা। অথবা মিরপুর বেড়িবাঁধ হয়ে আবদুল্লাহপুর রুটের গাড়িতে উঠে পঞ্চবটী নেমে চলে যেতে পারেন দিয়াবাড়ি। সেখান থেকে হেঁটে যেতে লাগবে ১৫-২০ মিনিট।

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন