কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প

ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার আশঙ্কায় আনোয়ারার ৬০০ পরিবার

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২২, ০২:০১

শেষ হচ্ছে দেশের বহুল প্রতীক্ষিত মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজ। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কাজ সমাপ্ত হবে। তবে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত আনোয়ারার ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবার তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়েছে। দেশের এই মেগা প্রকল্পের এক প্রান্তে পতেঙ্গা হলেও অন্য প্রান্তে আনোয়ারা উপজেলা। ফলে এই টানেলের সড়কের কারণে বাড়িঘর ফসলি জমিসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্দর, বৈরাগ, চাতরী ইউনিয়নের কিছু এলাকাসহ ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবার।

জানা যায়, এই টানেলের মূল সংযোগ সড়ক বন্দর, রাঙ্গাদিয়া, বৈরাগ ও চাতরী মৌজার অংশ দিয়ে গিয়ে যুক্ত হয়েছে পিএবি ছয় লেন সড়কে। টানেল সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ মালিকদের এলএ শাখা থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ভূমির মালিকদের পুনর্বাসনের অতিরিক্ত মঞ্জুরি দিয়ে আসছে। তবে ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ায় পুনর্বাসন এই অতিরিক্ত মঞ্জুরি কার্যক্রম স্থগিত করতে যাচ্ছে প্রকল্প সংস্থা। ফলে এই পুনর্বাসন প্রকল্পের অতিরিক্ত মঞ্জুরির এই এলাকাগুলোর এসব পরিবারের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় শঙ্কায় রয়েছে।

টানেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বৈরাগ মৌজা থেকে ২০ দশমিক ৪০৩০ একর ছাড়াও বন্দর, চাতরী, রাঙ্গাদিয়া  থেকে প্রয়োজনীয় নাল-বাড়িঘর-ভিটা-পুকুর ইত্যাদি ভূমি অধিগ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ গত ৩১ আগস্ট স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আগামী  ৩১ অক্টোবরের পরে এই প্রকল্পের আর কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত ফাইল জমা নেবে না তারা। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় তারা কর্তৃপক্ষকে সব কাজ বুঝিয়ে দিয়ে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করবে।

তবে টানেল নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, অধিগ্রহণকৃত ভূমির অনেক দাবিদার (মালিক) করোনাকালীন দেশে সবকিছু স্থবির থাকায়, অনেকে প্রবাসে থাকায়, প্রকৃত মালিকানা ও ভুল বিএস রেকর্ড সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলা-মোকাদ্দমা বিচারাধীন থাকায় ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের অভিভাবক নিযুক্ত সংক্রান্ত সমস্যাসহ নানা জটিলতার ফলে ভূমির ক্ষতিপূরণের টাকা এখনো পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারেনি। এ সমস্ত জটিলতার কারণে তিন ভাগের এক ভাগ ভূমির মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে পারেনি। যার ফলে কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে মনে করেন তারা।

এদিকে কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞাপ্তিটি প্রকাশের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পার্শ্বে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যানগণ ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। তারা ভূমির মালিকগণ  ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এর মধ্যে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসক, ইউএনও স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানা যায়।

বৈরাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নোয়াব আলী বলেন, ১৯৮০ দশক থেকে সিইউএফএল, কাফকো, কেইপিজেড, চায়না ইকোনমিক্যাল জোন , গ্যাস লাইন, বিদ্যুৎ লাইনসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য এলাকার বহু ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকগণ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় ও তাদের সহায় সম্পত্তি হারিয়ে অনেকে ভূমিহীন হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এই অবস্থায় কর্তৃপক্ষ যে সিন্ধান্ত নিয়েছেন সে সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে বলে আমাদের সংশয় রয়েছে। 

এ বিষয়ে টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে। তারা নানা জটিলতার কারণে আটকে গেছেন। এখন এই কারণে আমাদের কাজ বন্ধ রাখা যাবে না। নির্দিষ্ট একটা সময়সীমার মধ্যে আমাদের কাজ শেষ করতে হবে। ক্ষতিপূরণের বিষয় নিয়ে কেউ যাতে বঞ্চিত না হয় তার জন্য একাধিক বার মাইকিং এবং আমাদের নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কাজ করে গেছি।  তবু আমরা চেষ্টা করব, সবাই যাতে ক্ষতিপূরণ ঠিকমতো পায়।

ইত্তেফাক/ইআ