সেতু ভেঙে পড়া নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২২, ০৯:২৫

ভারতের গুজরাট রাজ্যের মরবিতে ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়ে ১৪১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গুজরাটের রাজনৈতিক অঙ্গন। অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করার দাবি করছে বিরোধীরা। এ ঘটনার জন্য তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে দোষারোপ করছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পাটেল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন যেতে পারেন বলে জানা গেছে।

মাচ্ছু নদীর ওপর দেড়শ বছরের পুরনো ঝুলন্ত সেতু দুর্ঘটনায় সোমবার (৩১ অক্টোবর) নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১ জন। রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এখন পর্যন্ত ১৭৭ জনকে জীবন্ত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

সেতুতে ঝুলে আছে মানুষ
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নিহতদের পরিবারকে ৪ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে দেওয়া হবে।

ভারতে বিজেপি তাদের প্রচারে উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুজরাট মডেলের কথা বলেন। দলের প্রধান দুই মুখ নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ গুজরাটেরই সন্তান। কিছু দিন পর গুজরাট বিধানসভা নির্বাচন হবে। তার আগেই মেরামতের পর আবার চালু হওয়া সেতু ভেঙে এতো মানুষের মৃত্যু বিজেপি নেতৃত্বকে বিপাকে ফেলেছে।

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সেতুটি ২৬ অক্টোবর মেরামতের পর খুলে দেওয়া হয় জনগণের জন্য। কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই সেতুটি খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সে কারণেই রোববার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ছট পূজার সময় প্রায় ৫০০ মানুষের ভিড়ে সেতুটিতে দুর্ঘটনা ঘটে।

গুজরাটের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ব্রিজেশ মির্জা এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের দায় স্বীকার করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংভি জানিয়েছেন, ক্রিমিনাল কেস দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী উদ্ধার কাজে দলীয় নেতা কর্মীদের সহায়তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। নবনির্বাচিত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও রাজনীতি ভুলে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তবে তিনি ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করার দাবি করেছেন।

তবে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং এক টুইটার পোস্টে বলেন, 'এটি আদৌ কি ঈশ্বরের কাজ নাকি পেছনে রয়েছে কোনো প্রতারণা?' তিনি বিজেপি নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এই বার্তা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং

আম আদমি পার্টির রাজ্যসভা সদস্য সুশীল গুপ্তাও সেতু ভাঙার জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেছেন। তৃণমূলের এমপি ডা. শান্তনু সেনের অভিযোগ, এর পেছনে দুর্নীতি রয়েছে। তিনিও ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন।

বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, 'গুজরাটে সেতু ভাঙলে প্রধানমন্ত্রী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তদন্ত হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এসব হয় না।' 

ইত্তেফাক/ডিএস