রাবির মিলনায়তনে বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শনী, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৫

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া সিনেমা হল ছেড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। ছয় দিনব্যাপী এই সিনেমা প্রদর্শনীর জন্য ইতোমধ্যেই মিলনায়তনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে তারা। স্বায়ত্তশাসিত একটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা প্রদর্শনীকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, সম্প্রতি রাজশাহীর উপহার সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ‘দহন’ সিনেমাটি প্রদর্শনীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনটিকে ভাড়া নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। আগামী ১-৬ ডিসেম্বর প্রতিদিন তিনটি করে মোট ১৮টি প্রদর্শনী হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা প্রদর্শনীকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে মিলনায়তনটি অর্থের বিনিময়ে ভাড়া দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিয়ম থাকলেও বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শনীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেওয়া একদম অযৌক্তিক। যা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও সাংস্কৃতিক মননশীলতা বিকাশের অন্তরায়। এ ধরনের প্রদর্শনী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলেও মনে করছেন শিক্ষকরা।

রাবি চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক সাজ্জাদ বকুল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যে ধরনের সংস্কৃতি চর্চা করি তার গতিপথকে এই প্রদর্শনী ব্যাহত করে। আর এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার পরিপন্থী।’

ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামূলক যেকোনো প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারি। কিন্তু দহন সিনেমাটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক। এই প্রদর্শনী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিকে বাণিজ্যিকিকরণের দিকে ঠেলে দেবে।’

এর আগে গত ২০১৫ সালের জুন মাসে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ নামে একটি বাণিজ্যিক সিনেমা কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে প্রদর্শনীর জন্য অনুমতি নিতে চেয়েছিল ‘রলিক মিডিয়া প্রডাকশন’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সংগঠন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার অনুমতি না দেওয়ায় প্রদর্শনী করতে পারে নি ওই সংগঠন। 

টিএসসিসির তৎকালীন পরিচালনক অধ্যাপক টিএমএম নরুল মোদ্দাসের চৌধুরী বলেন, ‘টিএসসিসি হল ছাত্র-শিক্ষকদের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের স্থান। যেখানে ছাত্র-শিক্ষকদের সমন্বয়ে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যবস্থা থাকবে। আমরা সে ভাবনা থেকেই তখন ওই সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি দেয় নি। আর এখন এ সিনেমা কেন প্রদর্শনীর অনুমতি দেয়া হচ্ছে বা কখন প্রদর্শনী হবে সে সব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আর এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’ 

তবে টিএসসিসির পরিচালক হাসিবুল আলম প্রধান বলেন, ‘মিলনায়তনটি ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটেও অনুমোদন রয়েছে। সেই নীতিমালার অনুযায়ীই মিলনায়তনটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বাণিজ্যিক সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে রাবি প্রগতিশীল জোট ও সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথমিকভাবে তারা এ প্রতিবাদ  কর্মসূচি পালন করে।

ইত্তেফাক/বিএএফ