দেশের উন্নয়নে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলুন

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২২, ০০:২৫

স্বাবলম্বী হওয়ার আগে আমাদের জানতে হবে স্বাবলম্বিতা কী জিনিস। ধরুন আপনার এই মুহূর্তে ২০ টাকা প্রয়োজন। আপনি তা কারো থেকে চেয়ে নিচ্ছেন। এটা হলো পরনির্ভরশীলতা। আপনি নিজেই তা উপার্জন করলে এটা হলো স্বাবলম্বিতা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী দেশের বর্তমান জনসংখ্যা আনুমানিক ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার জন, যার ৮ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন পুরুষ এবং ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার জন নারী। বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রতি ৯৮ জন পুরুষের বিপরীতে ১০০ জন নারী। দেশের অর্থনীতির চাকা এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করে চলেছে। চাকরি, ব্যবসা, আত্মকর্মসংস্থান সব ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলেছেন। 

বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। প্রায় ১১ কোটি ৩০ লাখ জনগোষ্ঠীর বসবাস গ্রামে। তন্মধ্যে ৬ কোটি নারী। এত বড় জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ শুধু পারিবারিক কাজকারবারের সঙ্গে জড়িত। অর্থ উপার্জনে তারা জড়িত নয়। পরিবারের পুরুষ সদস্যের ওপর সেই পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব থাকে। নারীদের স্বাবলম্বী না হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি যা দায়ী, তা হলো তাদের নিজের ইচ্ছার অভাব। তারা এটা মনে করেন না তাদের স্বাবলম্বী হওয়া উচিত। তারা এটা মেনেই অভ্যস্ত যে তারা পুরুষ মানুষের ওপর নির্ভর করে থাকবেন। গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে স্থানীয় সরকারের ভূমিকাও চোখে পড়ার মতো নয়।  গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার সবচেয়ে উত্তম পন্থা হতে পারে হাঁস-মুরগি পালন। এর মাধ্যমে যদি নারীরা গ্রামীণ পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগি পালন করতে পারে এবং তা থেকে লাভজনক কোনো ক্ষেত্র বের করতে পারে, এভাবে তারা নিজের ও নিজের পরিবারকে সাহায্য করতে পারে। যদি ব্যাবসায়িক উদেশ্যে করা হয়, তবে এর ক্ষেত্র হবে আরো ব্যাপক।

নারীরা বরাবরই পুরুষদের চেয়ে নিজেদের শৌখিনতার ছাপ রেখে গেছে। কাঁথা সেলাই, কাপড় সেলাই, বিভিন্ন নকশা তৈরির মাধ্যমেও তা বাজারে একটি ভালো মূল্যে বিক্রির মাধ্যমে আর্থিকভাবে নিজের পরিবারকে সাহায্য করতে পারে। নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা গেলে দেশের জিডিপি বাড়বে। দেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সমৃদ্ধিশীলতা অর্জন করবে। মানবসমষ্টি যদি মানবসম্পদে রূপ নেয়, তবেই সেই বড় মানবসমষ্টি একটি মূল্য বহন করবে। এখন নারীদের আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। স্কুল-কলেজগুলোতে এসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। গার্মেন্টসকে ঘরে ঘরে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

দেশের ভৌগোলিক এরিয়ার বাইরে নানা দেশে নারীরা নিজের চিন্তা-চেতনা বুদ্ধিদীপ্তির বিকাশ ঘটিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী ও আত্মমর্যাদাশীল করে তুলছে। শহুরে নারীরা যেভাবে নিজের পরিচয় দিয়ে চলেছেন, সেই তুলনায় গ্রামীণ নারীরা অনেক পিছিয়ে। ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা গ্রামীণ ও শহুরে নিম্ন-মধ্যবিত্ত সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারেন। তাদের জন্য সার্বিক সহযোগিতায় সরকারকে নানামুখী উদ্যোগ নিতে হবে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক প্রণোদনায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আশার সঞ্চার করতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাই একসময় গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। ক্ষুদ্র থেকেই বৃহত্ কিছুর উৎপত্তি। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও তাদের সামর্থ্য ও সরকারি সহযোগিতা দিয়ে চেষ্টা করলে পরিবারের অভাব দূর করতে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারবেন। তাদের এই প্রচেষ্টা সফল করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের সবারই কর্তব্য।

লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন